ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়া ২০২৬ | দূরত্ব, সময়সূচি ও টিকেট মূল্য
বাস ভাড়া ও রুট গাইড

ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়া ২০২৬: দূরত্ব, সময়সূচি ও টিকেট বুকিং গাইড

ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়া বর্তমানে নন-এসি বাসে জনপ্রতি প্রায় ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে, আর দূরত্ব পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ২৫০-২৬০ কিলোমিটার। এই লেখায় থাকছে হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, প্রতিটি বাস কোম্পানির সময়সূচি ও কাউন্টার নম্বর, টিকেট বুকিংয়ের নিয়ম, এবং সেইসাথে ঝালকাঠির নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী কিছু স্থানের বিস্তারিত তথ্য — যাতে যাত্রার আগেই আপনি পুরো পথটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।

ঢাকা থেকে ঝালকাঠির দূরত্ব ও যাত্রার সময়

ঢাকা থেকে ঝালকাঠির সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৫০-২৬০ কিলোমিটার — ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে। স্বাভাবিক ট্রাফিকে যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। পদ্মা সেতু চালুর আগে এই দূরত্ব ছিল প্রায় ৯০-১০০ কিলোমিটার বেশি, ফেরিঘাট ব্যবহার করতে হতো বলে সময়ও বেশি লাগত।

বর্তমানে সায়েদাবাদ বা গাবতলী থেকে ছেড়ে বাসগুলো মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক ধরে সরাসরি ঝালকাঠি পৌঁছায়। সড়ক অবস্থা ভালো থাকলে এবং ঢাকার ভেতরের যানজট এড়াতে পারলে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব; তবে বৃষ্টি, ঈদ-পূজার মৌসুম বা রাস্তার কাজ চললে সময় বেড়ে ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়ার তালিকা ২০২৬

নন-এসি বাসে ভাড়া কোম্পানিভেদে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ২০২৬ সালের হালনাগাদ রেট অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের সরকারি সর্বনিম্ন ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২.২৩ টাকা — অর্থাৎ ২৬০ কিমি দূরত্বে সরকারি ভিত্তি-ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৫৮০ টাকা, যার সাথে বাস্তব কোম্পানি-ভাড়া মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই রুটে এসি বাস সার্ভিস এখনও নিয়মিত চালু নেই — যাত্রীদের প্রায় সবাই নন-এসি ইকোনমি বাসেই যাতায়াত করেন।

বাস কোম্পানিবাসের ব্র্যান্ডধরনভাড়া (টাকা)
সাকুরা পরিবহনHinoনন-এসি, ইকোনমি৭০০
হানিফ এন্টারপ্রাইজHinoনন-এসি, ইকোনমি৭০০
লাবিবা পরিবহনAshok Leyland / Tataনন-এসি, ইকোনমি৭৫০
সুগন্ধা পরিবহনHinoনন-এসি, ইকোনমি৫৫০-৬৫০ (আনুমানিক)

নোট: জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তন ও উৎসব মৌসুমে ভাড়া সাময়িকভাবে ওঠানামা করতে পারে। টিকিট কাটার আগে কাউন্টারে কল করে সর্বশেষ ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।

বাস কোম্পানি, সময়সূচি ও কাউন্টার নম্বর

ঢাকা টু ঝালকাঠি রুটে সায়েদাবাদ ও গাবতলী — দুই টার্মিনাল থেকেই নিয়মিত বাস ছাড়ে। নিচে প্রতিটি কোম্পানির যাত্রা-সময় ও যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হলো।

হানিফ পরিবহন (গাবতলী ↔ ঝালকাঠি)

ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ৭.০০, ৮.৩০, ৯.৩০, ১০.৩০, দুপুর ১২.০০, বিকেল ৩.০০, রাত ৯.০০, ১০.০০, ১১.৩০
ঝালকাঠি থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ৭.৩০, ৮.৪৫, ১০.০০, ১১.৪৫, রাত ১০.০০
যোগাযোগ: ০১৭১৩-০৪৯৫৭২ (ঢাকা), ০১৭১২-১৫৪১১৫ (ঝালকাঠি)

সাকুরা পরিবহন (গাবতলী ↔ ঝালকাঠি)

ঝালকাঠি থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ৮.৩০, ৯.৩০, বিকেল ৩.০০, রাত ১০.১৫
যোগাযোগ: ০১১৯০-৬৮৯৩৮৭ (ঢাকা), ০১৭১২-২৮৯০১৯ (ঝালকাঠি)

সুগন্ধা পরিবহন (সায়েদাবাদ ↔ ঝালকাঠি)

ঝালকাঠি থেকে ছাড়ার সময়: সকাল ৮.০০, ৮.৩০, ১০.০০, রাত ৮.১৫
যোগাযোগ: ০১৭৩৯-০২৫৮১৫ (ঝালকাঠি)

লাবিবা পরিবহন

ইকোনমি ক্লাস নন-এসি সার্ভিস, ভাড়া তুলনামূলক একটু বেশি হলেও আসনের প্রশস্ততা ও নতুন বাসের জন্য অনেকের প্রথম পছন্দ। বুকিং ও সময়সূচির সবশেষ তথ্যের জন্য সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করাই ভালো।

সায়েদাবাদ নাকি গাবতলী — কোথা থেকে যাত্রা করা সুবিধাজনক?

পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী বা মতিঝিল এলাকা থেকে হলে সায়েদাবাদ কাছে; উত্তরা, মিরপুর বা ধানমন্ডি এলাকা থেকে হলে গাবতলী সুবিধাজনক। দুই টার্মিনাল থেকেই প্রতি ঘণ্টায় বাস ছাড়ে, তাই সময়সূচির দিক থেকে বড় কোনো পার্থক্য নেই।
  • সায়েদাবাদ থেকে: সাকুরা, সুগন্ধা, লাবিবা ও মেঘনা পরিবহনের বাস বেশি জনপ্রিয়
  • গাবতলী থেকে: সাকুরা, হানিফ ও ঈগল পরিবহনের বাস বেশি সুবিধাজনক
  • দুই টার্মিনাল থেকেই সকাল ৭টা থেকে রাত ১০.১৫ পর্যন্ত নিয়মিত বাস চলাচল করে

অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকেট বুক করবেন যেভাবে

বেশিরভাগ যাত্রী এখনো সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে বা ফোনে কল করে টিকেট কনফার্ম করেন, বিশেষ করে ঈদ বা পূজার সময় আগে থেকে বুকিং দেওয়া জরুরি। কিছু কোম্পানি Shohoz বা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও অনলাইন টিকেট বিক্রি করে থাকে। ভ্রমণের অন্তত ১-২ দিন আগে টিকেট নিশ্চিত করে রাখলে পছন্দের সময় ও আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পুরো পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণ করছেন?

বাসের বদলে ঢাকা থেকে সরাসরি প্রাইভেট গাড়ি বা মাইক্রোবাসেও ঝালকাঠি যাওয়া যায় — নিজের সময়সূচি অনুযায়ী, পথে থামার স্বাধীনতাসহ। পরিবার বা ছোট দলের জন্য এটি অনেক সময় বাসের চেয়ে আরামদায়ক।

🚐 মাইক্রোবাস ভাড়ার তথ্য দেখুন

ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঝালকাঠি শুধু বাস-যাত্রার একটি গন্তব্য নয় — বরিশাল বিভাগের এই ছোট্ট জেলাটির (আয়তন ৭৪৮.৩২ বর্গকিলোমিটার) রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ ইতিহাস, জমিদারি ঐতিহ্য ও সাহিত্যিক পরিচিতি। কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা “আবার আসিব ফিরে”-তে উল্লেখিত ধানসিঁড়ি নদী এই জেলাতেই প্রবাহিত।

১৬৫৪ সাল

সুজাবাদ কেল্লা

নলছিটি উপজেলার সুজাবাদ গ্রামে অবস্থিত এই কেল্লা নির্মাণ করেন মুঘল শাহজাদা সুজা, দক্ষিণাঞ্চলের দুর্ধর্ষ জলদস্যু বাহিনী দমনের উদ্দেশ্যে। একই সময়ে তিনি সুজাবাদ গ্রামেরও পত্তন করেন।

১৭শ শতক

সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি

রাজাপুর উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন আলী মিয়া — শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মাতামহ, যিনি এই অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।

আনুমানিক শতবর্ষী

কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি

ঝালকাঠি সদর থেকে ৪-৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে কীর্তিপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি জেলার প্রাচীনতম জনপদগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

১৮শ শতক

মিয়া বাড়ি মসজিদ

ভারুকাঠি গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ১৮ শতকে নির্মিত বলে জানা যায়, আর আজও এটি একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।

যোগাযোগ ঐতিহ্য

গাবখান সেতু ও চ্যানেল

“বাংলার সুয়েজ খাল” নামে পরিচিত গাবখান চ্যানেলের ওপর নির্মিত ৫ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এটি, যা ঝালকাঠিকে পিরোজপুরের সাথে যুক্ত করেছে।

ঋতুভিত্তিক ঐতিহ্য

ভীমরুলির ভাসমান বাজার

ঝালকাঠি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে ভীমরুলি গ্রামের খালজুড়ে পেয়ারার মৌসুমে বসে এই বিখ্যাত ভাসমান বাজার, যেখানে চাষিরা নৌকায় করে পেয়ারা বিক্রি করেন।

এছাড়া ঝালকাঠির উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে ঘোষাল রাজবাড়ী, পুরাতন পৌরসভা ভবন, মাদাবর মসজিদ, সুরিচোরা জামে মসজিদ ও নেছারাবাদ মাদ্রাসা। জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুগন্ধা, বিষখালী, ধানসিঁড়ি ও গাবখান নদী উল্লেখযোগ্য — যা এই জেলার প্রাকৃতিক পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

যাত্রার আগে যা মনে রাখা জরুরি

  • ঈদ, পূজা বা বন্ধের দিনে টিকিট আগে থেকে বুক করে রাখুন — চাহিদা বেড়ে গেলে ভাড়াও কিছুটা বাড়তে পারে
  • রাতের বাসে সিট বেছে নেওয়ার সময় সামনের দিকের আসন এড়িয়ে চলুন, ঝাঁকুনি কম লাগে
  • লাগেজ বেশি থাকলে কাউন্টারে আগেই জানিয়ে রাখুন
  • যাত্রাপথে মাওয়া বা ভাঙ্গা সার্ভিস এরিয়ায় সংক্ষিপ্ত বিরতি থাকে — সেই সময়টুকু ব্যবহার করুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়া কত?

নন-এসি বাসে ভাড়া কোম্পানিভেদে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে। সাকুরা ও হানিফ পরিবহনে ৭০০ টাকা, লাবিবা পরিবহনে ৭৫০ টাকা। এই রুটে নিয়মিত এসি বাস সার্ভিস চালু নেই।

ঢাকা থেকে ঝালকাঠি যেতে কত সময় লাগে?

পদ্মা সেতু হয়ে সাধারণত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। যানজট বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

ঢাকা থেকে ঝালকাঠির দূরত্ব কত কিলোমিটার?

সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৫০-২৬০ কিলোমিটার, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে। পদ্মা সেতুর আগে এই দূরত্ব প্রায় ৯০-১০০ কিলোমিটার বেশি ছিল।

সায়েদাবাদ ও গাবতলী — কোন টার্মিনাল থেকে বাস পাওয়া যায়?

দুই টার্মিনাল থেকেই নিয়মিত বাস ছাড়ে। সায়েদাবাদ থেকে সাকুরা, সুগন্ধা ও লাবিবা; গাবতলী থেকে সাকুরা ও হানিফ পরিবহনের বাস পাওয়া যায়।

রাতের বাস আছে কি?

হ্যাঁ। হানিফ পরিবহনের রাত ৯টা, ১০টা ও সাড়ে ১১টার বাস আছে, আর সাকুরা পরিবহনের রাত সোয়া ১০টার বাস আছে।

বাসের বদলে প্রাইভেট গাড়িতে যাওয়া যায় কি?

হ্যাঁ, পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও ঢাকা থেকে ঝালকাঠি যাওয়া যায়, যা নিজস্ব সময়সূচি ও আরামের দিক থেকে সুবিধাজনক হতে পারে।

উপসংহার

ঢাকা টু ঝালকাঠি বাস ভাড়া এখন আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছ ও পদ্মা সেতুর কারণে যাত্রাও দ্রুততর হয়েছে। হানিফ, সাকুরা, সুগন্ধা বা লাবিবা — যেকোনো কোম্পানির বাসেই ৬-৭ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় ঝালকাঠি। আর গন্তব্যে পৌঁছে ইতিহাসপ্রেমী হলে ঘুরে দেখতে পারেন সুজাবাদ কেল্লা, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি বা ভীমরুলির ভাসমান বাজারের মতো স্থানগুলো, যা এই ছোট্ট জেলাটিকে করে তুলেছে ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অনন্য মিশ্রণ। বড় দল বা কর্পোরেট ট্যুরের জন্য ভাড়া ও সময় আগে থেকেই চেক করে নিতে পারেন এখানে, অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন কাস্টম ট্রিপ প্ল্যানিংয়ের জন্য।

সম্পর্কিত জনপ্রিয় রুট ও ফেয়ার গাইড

বাংলাদেশের যেকোনো জেলায় কার ও মাইক্রোবাস ভাড়ার তথ্য জেনে নিন

রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু মাগুরা মাইক্রোবাস ভাড়া: দূরত্ব, সময় ও সম্পূর্ণ গাইড | চলো গাড়ি

ভাড়া ও বিস্তারিত→
রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু মাগুরা গাড়ি ভাড়া আপডেট গাইড | রুট, সময় ও রেট

ভাড়া ও বিস্তারিত→
রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু ঠাকুরগাঁও বাস ভাড়া — সময়সূচী, কাউন্টার নাম্বার ও সম্পূর্ণ গাইড

ভাড়া ও বিস্তারিত→
রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু ঠাকুরগাঁও মাইক্রোবাস ভাড়া কত? দূরত্ব, খরচ ও বুকিং গাইড

ভাড়া ও বিস্তারিত→
রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু ঠাকুরগাঁও গাড়ি ভাড়া ২০২৬ — সম্পূর্ণ রেট ও বুকিং গাইড

ভাড়া ও বিস্তারিত→
রুট ফেয়ার গাইড

ঢাকা টু পঞ্চগড় বাস ভাড়া ২০২৬ — সময়সূচী, কাউন্টার নাম্বার ও সম্পূর্ণ গাইড

ভাড়া ও বিস্তারিত→