🗺️ উত্তরের পথে যাত্রা · ২০২৬

ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া — দূরত্ব, খরচ ও সম্পূর্ণ রুট গাইড

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আর জমিদারবাড়ির জেলা জয়পুরহাট যাচ্ছেন? দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। কোন গাড়িতে যাবেন, ভাড়া কেমন হবে, আর পথে কী দেখবেন — পুরো পরিকল্পনা একসাথে।

~২৪৬ কিমিদূরত্ব
৫-৬ ঘণ্টাপ্রাইভেট কারে
৬০০-১২০০ ৳বাস ভাড়া
৫ উপজেলাজয়পুরহাট জেলা

ঢাকা → জয়পুরহাট রুট ম্যাপ

ঢাকা
শুরু
সিরাজগঞ্জ
~১১৫ কিমি
বগুড়া
~১৯০ কিমি
পাঁচবিবি
~২৩০ কিমি
জয়পুরহাট
~২৪৬ কিমি

ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির ধরন, ট্রিপের ধরন এবং যাত্রার সময়ের ওপর। সড়কপথে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার, যা প্রাইভেট কারে সাধারণত ৫-৬ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। এই লেখায় পাবেন গাড়ি ভাড়া নির্ধারণের সঠিক পদ্ধতি, বাস ভাড়ার তুলনামূলক তথ্য, কাউন্টার নম্বর এবং জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত বিবরণ।

দূরত্ব ও সময়

ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব কত কিলোমিটার

সড়কপথে ঢাকা থেকে জয়পুরহাট জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। যাত্রাপথ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া হয়ে জয়পুরহাট শহরে পৌঁছায়। প্রাইভেট কারে যানজট না থাকলে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা, আর বাসে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টা। রেলপথেও জয়পুরহাট যাওয়া যায়; ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন এই রুটে চলাচল করে।

খরচের হিসাব

ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া নির্ধারণে যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে

গাড়ির ধরন

সেডান কার, নোয়া/হায়েস মাইক্রোবাস না কি কোস্টার বাস—প্রতিটির ভাড়া আলাদা।

ট্রিপের ধরন

শুধু ওয়ান-ওয়ে নাকি রাউন্ড ট্রিপ, গাড়ি অপেক্ষা করবে কিনা তার ওপর নির্ভর করে।

জ্বালানি খরচ

বেশিরভাগ সার্ভিসে ভাড়ার মধ্যে জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত থাকে না, আলাদাভাবে হিসাব হয়।

টোল ও পথখরচ

এই রুটে বঙ্গবন্ধু সেতু বা যমুনা সেতুর টোল যোগ হতে পারে, যা ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না অনেক সময়।

ড্রাইভার বাটা

একদিনের বেশি ট্রিপ হলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়।

মৌসুম ও চাহিদা

ছুটির দিন বা উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ায় ভাড়াও কিছুটা বেশি হতে পারে।

গাড়ি বাছাই

ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ির ক্যাটাগরি ও আনুমানিক ভাড়া

নিচের সারণিতে জনপ্রিয় গাড়ির ক্যাটাগরি ও আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো। এই ভাড়াগুলো নির্দেশক মাত্র; জ্বালানি তেলের দাম, গাড়ির মডেল ও কোম্পানিভেদে প্রকৃত ভাড়া কমবেশি হতে পারে, তাই যাত্রার আগে হালনাগাদ রেট যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

🚗

নন-এসি/এসি সেডান কার

৩-৪ জন

আনুমানিক ৫,৫০০-৮,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

ছোট পরিবার বা একক যাত্রা, দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।

সবচেয়ে জনপ্রিয়
🚐

নোয়া/হায়েস মাইক্রোবাস

৭-১১ জন

আনুমানিক ৮,৫০০-১২,৫০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

মালামালসহ পরিবার বা দলগত ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ।

🚌

কোস্টার/মিনিবাস

২৫-৩২ জন

আনুমানিক ১৮,০০০-২৫,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

বড় দল, পিকনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য উপযুক্ত।

🚚

পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক)

মালামাল পরিবহন

আনুমানিক ৯,০০০-১৬,০০০ ৳ (সাইজভেদে)

মালামাল বা আসবাবপত্র শিফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত।

সঠিক ও হালনাগাদ ভাড়া জানতে চাইলে সরাসরি রেট চেক করুন অথবা আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন।

পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া এবং দলগত ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস নেওয়া যেতে পারে। বড় গ্রুপের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিস এবং মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।

বাজেট বিকল্প

ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া ও সময়সূচী

বাসে যাতায়াত করতে চাইলে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন ও এস আর ট্রাভেলসের নিয়মিত সার্ভিস রয়েছে। নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া তুলনামূলক কম, আর এসি সার্ভিসে আরাম বেশি হলেও খরচও কিছুটা বাড়ে।

পরিবহনসিট ক্লাসভাড়া
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসনন-এসি ইকোনমি৭০০ ৳
হানিফ এন্টারপ্রাইজনন-এসি ইকোনমি৭০০ ৳
এস আর ট্রাভেলসনন-এসি ইকোনমি৬০০-৭০০ ৳
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসএসি বিজনেস ক্লাস১০০০-১২০০ ৳
এস আর ট্রাভেলসএসি বিজনেস ক্লাস১০০০ ৳

*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে। bdtickets.com-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও টিকিট বুক করা যায়।

বাস কাউন্টার নম্বর

শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস (জয়পুরহাট কাউন্টার): ০১৮৬৫-০৬৮৯৬০
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস (গাবতলী, ঢাকা): ০১৮৬৫-০৬৮৯২৫
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস (কল্যাণপুর, ঢাকা): ০২-৮০৯১১৬১
হানিফ এন্টারপ্রাইজ (সায়েদাবাদ, ঢাকা): ০১৭১৩-২০১৭৩২
হানিফ এন্টারপ্রাইজ (কল্যাণপুর, ঢাকা): ০১৭১৩-০৪৯৫৭৩
হানিফ এন্টারপ্রাইজ (কলাবাগান, ঢাকা): ০১৭১৩-২০১৭২৭

নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।

ইতিহাস

জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

জয়পুরহাটের ষোড়শ শতাব্দীর আগের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস খুব কম পাওয়া যায়, তবে এই অঞ্চলে মুঘল আমল ও তারও আগের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় এটি প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতিপূর্ণ ছিল। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮২১ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চারটি, রংপুর জেলার দুটি ও দিনাজপুর জেলার তিনটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠিত হয়েছিল, যার অংশ ছিল বর্তমান জয়পুরহাট অঞ্চল। ১৯৭১ সালে এই এলাকা বগুড়া জেলার অধীনে জয়পুরহাট মহকুমায় রূপান্তরিত হয়, আর দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। রাজশাহী বিভাগের এই জেলা জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি—এই পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে পাঁচবিবি আয়তনে সবচেয়ে বড়। ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, মারফতি, জারি ও যাত্রাপালার মতো লোকসংস্কৃতি জয়পুরহাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দর্শনীয় স্থান

জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান

হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলাল · বাংলা ১৩৬৫ সাল

চিশতিয়া তরিকার পীর হযরত আব্দুল গফুর চিশতীর নির্দেশে মাওলানা আব্দুল খালেক চিশতীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদের কাচ, চিনামাটি ও মোজাইকের নকশা মুঘল স্থাপত্যরীতির অনুকরণে তৈরি।

পাঁচবিবি মন্দির

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে নিহত পাঁচজন নারীর স্মরণে উৎসর্গকৃত এই মন্দির থেকেই পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি প্রচলিত।

কালাই রাজবাড়ি · ১৮ শতক

কালাই উপজেলার নবাবদের দ্বারা নির্মিত এই রাজপ্রাসাদ জেলার জমিদারি আমলের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

আক্কেলপুর দুর্গ · ১৬ শতক

মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে নির্মিত এই দুর্গ আক্কেলপুর উপজেলায় অবস্থিত, যা মুঘল সামরিক স্থাপত্যের একটি প্রাচীন নিদর্শন।

গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুর

আক্কেলপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির জেলার হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

আছরাঙ্গা দিঘি, ক্ষেতলাল

প্রাচীন এই দিঘি স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে জড়িত এবং জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি।

নান্দাইল দিঘি ও নিমাই পীরের মাজার, পাঁচবিবি

ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি এবং পাঁচবিবির নিমাই পীরের মাজার এলাকাটির ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত।

বার শিবালয় মন্দির, জয়পুরহাট সদর

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দির স্থাপত্যশৈলীর জন্য স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
গাড়ির ধরন, ট্রিপ ওয়ান-ওয়ে না রাউন্ড ট্রিপ, জ্বালানি খরচ এবং ভ্রমণের মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া নির্ধারিত হয়। আনুমানিক হিসেবে সেডান কার ৫,৫০০-৮,০০০ টাকা এবং মাইক্রোবাস ৮,৫০০-১২,৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে, তবে সুনির্দিষ্ট রেট জানতে বুকিংয়ের আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে জয়পুরহাট যেতে কত সময় লাগে?
প্রাইভেট কারে সাধারণত ৫-৬ ঘণ্টা এবং বাসে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে, যানজট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এটি কমবেশি হতে পারে।
ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া কত?
নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৬০০-৭০০ টাকা, আর এসি বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
জয়পুরহাট জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৭১ সালে বগুড়া জেলার অধীনে জয়পুরহাট মহকুমা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়।
পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
জনশ্রুতি অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে নিহত পাঁচজন নারীর স্মরণে নির্মিত মন্দির থেকেই পাঁচবিবি নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

আজই আপনার গাড়ি বুক করুন

পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।

যাত্রা নির্ভরযোগ্য হোক — চলো গাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে