ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির ধরন, ট্রিপের ধরন এবং যাত্রার সময়ের ওপর। সড়কপথে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার, যা প্রাইভেট কারে সাধারণত ৫-৬ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। এই লেখায় পাবেন গাড়ি ভাড়া নির্ধারণের সঠিক পদ্ধতি, বাস ভাড়ার তুলনামূলক তথ্য, কাউন্টার নম্বর এবং জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত বিবরণ।
ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব কত কিলোমিটার
সড়কপথে ঢাকা থেকে জয়পুরহাট জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। যাত্রাপথ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া হয়ে জয়পুরহাট শহরে পৌঁছায়। প্রাইভেট কারে যানজট না থাকলে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা, আর বাসে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টা। রেলপথেও জয়পুরহাট যাওয়া যায়; ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন এই রুটে চলাচল করে।
ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া নির্ধারণে যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে
সেডান কার, নোয়া/হায়েস মাইক্রোবাস না কি কোস্টার বাস—প্রতিটির ভাড়া আলাদা।
শুধু ওয়ান-ওয়ে নাকি রাউন্ড ট্রিপ, গাড়ি অপেক্ষা করবে কিনা তার ওপর নির্ভর করে।
বেশিরভাগ সার্ভিসে ভাড়ার মধ্যে জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত থাকে না, আলাদাভাবে হিসাব হয়।
এই রুটে বঙ্গবন্ধু সেতু বা যমুনা সেতুর টোল যোগ হতে পারে, যা ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে না অনেক সময়।
একদিনের বেশি ট্রিপ হলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়।
ছুটির দিন বা উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ায় ভাড়াও কিছুটা বেশি হতে পারে।
ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ির ক্যাটাগরি ও আনুমানিক ভাড়া
নিচের সারণিতে জনপ্রিয় গাড়ির ক্যাটাগরি ও আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো। এই ভাড়াগুলো নির্দেশক মাত্র; জ্বালানি তেলের দাম, গাড়ির মডেল ও কোম্পানিভেদে প্রকৃত ভাড়া কমবেশি হতে পারে, তাই যাত্রার আগে হালনাগাদ রেট যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
নন-এসি/এসি সেডান কার
৩-৪ জনআনুমানিক ৫,৫০০-৮,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
ছোট পরিবার বা একক যাত্রা, দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
নোয়া/হায়েস মাইক্রোবাস
৭-১১ জনআনুমানিক ৮,৫০০-১২,৫০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
মালামালসহ পরিবার বা দলগত ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ।
কোস্টার/মিনিবাস
২৫-৩২ জনআনুমানিক ১৮,০০০-২৫,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
বড় দল, পিকনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য উপযুক্ত।
পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক)
মালামাল পরিবহনআনুমানিক ৯,০০০-১৬,০০০ ৳ (সাইজভেদে)
মালামাল বা আসবাবপত্র শিফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত।
সঠিক ও হালনাগাদ ভাড়া জানতে চাইলে সরাসরি রেট চেক করুন অথবা আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন।
পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া এবং দলগত ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস নেওয়া যেতে পারে। বড় গ্রুপের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিস এবং মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।
ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া ও সময়সূচী
বাসে যাতায়াত করতে চাইলে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন ও এস আর ট্রাভেলসের নিয়মিত সার্ভিস রয়েছে। নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া তুলনামূলক কম, আর এসি সার্ভিসে আরাম বেশি হলেও খরচও কিছুটা বাড়ে।
| পরিবহন | সিট ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|
| শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| এস আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি | ৬০০-৭০০ ৳ |
| শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস | এসি বিজনেস ক্লাস | ১০০০-১২০০ ৳ |
| এস আর ট্রাভেলস | এসি বিজনেস ক্লাস | ১০০০ ৳ |
*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে। bdtickets.com-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও টিকিট বুক করা যায়।
বাস কাউন্টার নম্বর
নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
জয়পুরহাটের ষোড়শ শতাব্দীর আগের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস খুব কম পাওয়া যায়, তবে এই অঞ্চলে মুঘল আমল ও তারও আগের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় এটি প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতিপূর্ণ ছিল। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮২১ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চারটি, রংপুর জেলার দুটি ও দিনাজপুর জেলার তিনটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠিত হয়েছিল, যার অংশ ছিল বর্তমান জয়পুরহাট অঞ্চল। ১৯৭১ সালে এই এলাকা বগুড়া জেলার অধীনে জয়পুরহাট মহকুমায় রূপান্তরিত হয়, আর দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। রাজশাহী বিভাগের এই জেলা জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি—এই পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে পাঁচবিবি আয়তনে সবচেয়ে বড়। ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, মারফতি, জারি ও যাত্রাপালার মতো লোকসংস্কৃতি জয়পুরহাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান
হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলাল · বাংলা ১৩৬৫ সাল
চিশতিয়া তরিকার পীর হযরত আব্দুল গফুর চিশতীর নির্দেশে মাওলানা আব্দুল খালেক চিশতীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদের কাচ, চিনামাটি ও মোজাইকের নকশা মুঘল স্থাপত্যরীতির অনুকরণে তৈরি।
পাঁচবিবি মন্দির
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে নিহত পাঁচজন নারীর স্মরণে উৎসর্গকৃত এই মন্দির থেকেই পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি প্রচলিত।
কালাই রাজবাড়ি · ১৮ শতক
কালাই উপজেলার নবাবদের দ্বারা নির্মিত এই রাজপ্রাসাদ জেলার জমিদারি আমলের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
আক্কেলপুর দুর্গ · ১৬ শতক
মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে নির্মিত এই দুর্গ আক্কেলপুর উপজেলায় অবস্থিত, যা মুঘল সামরিক স্থাপত্যের একটি প্রাচীন নিদর্শন।
গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুর
আক্কেলপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির জেলার হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
আছরাঙ্গা দিঘি, ক্ষেতলাল
প্রাচীন এই দিঘি স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে জড়িত এবং জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি।
নান্দাইল দিঘি ও নিমাই পীরের মাজার, পাঁচবিবি
ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি এবং পাঁচবিবির নিমাই পীরের মাজার এলাকাটির ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত।
বার শিবালয় মন্দির, জয়পুরহাট সদর
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দির স্থাপত্যশৈলীর জন্য স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু জয়পুরহাট গাড়ি ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে জয়পুরহাট যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া কত?
জয়পুরহাট জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
আজই আপনার গাড়ি বুক করুন
পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।