ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস ভাড়া বাসের ধরন ও সার্ভিসভেদে সাধারণত ৬৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সড়কপথে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা জেলার দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার, যা বাসে পাড়ি দিতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা। এই গাইডে পাবেন হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, নন-এসি ও এসি বাসের পার্থক্য, কাউন্টার নম্বর, সময়সূচী এবং গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত তথ্য।
ঢাকা থেকে গাইবান্ধার দূরত্ব কত কিলোমিটার
সড়কপথে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। যাত্রাপথ ময়মনসিংহ, বগুড়া ও গোবিন্দগঞ্জ হয়ে গাইবান্ধা শহরে পৌঁছায়। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের ওপর নির্ভর করে বাসে সময় লাগে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টা।
ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস ভাড়া ২০২৬ (নন-এসি ও এসি)
এই রুটে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আর ট্রাভেলস, আলহামরা পরিবহন ও আরাফাত পরিবহনের বাস চলাচল করে। নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া তুলনামূলক কম, আর এসি বিজনেস ক্লাস বা স্লিপার সার্ভিসে আরাম বেশি হলেও খরচও কিছুটা বাড়ে।
| পরিবহন | সিট ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|
| এস আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি | ৬৫০ ৳ |
| শ্যামলী পরিবহন | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| এস আর ট্রাভেলস | এসি বিজনেস ক্লাস | ১০০০ ৳ |
| আরাফাত পরিবহন | এসি স্লিপার | ১১০০ ৳ |
| আলহামরা পরিবহন | এসি বিজনেস ক্লাস | ১২০০ ৳ |
*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাসের বাইরে নিজের সময় অনুযায়ী আরামদায়ক ভ্রমণ চাইলে সরাসরি গাড়ি ভাড়ার হালনাগাদ রেট যাচাই করুন।
ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস কাউন্টার নম্বর
যাত্রার আগে টিকিট নিশ্চিত করতে সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর বা সময়সূচী মাঝে মাঝে পরিবর্তিত হতে পারে।
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস
এস আর ট্রাভেলস
হানিফ এন্টারপ্রাইজ
নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে। শোহজ ডটকম বা বিডিটিকেটসের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও টিকিট বুক করা যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ চলাচল করে, তবে দূরপাল্লার রুট হওয়ায় সন্ধ্যা বা রাতের বাসই বেশি জনপ্রিয়।
বাস ছাড়াও যেভাবে যেতে পারেন
বড় পরিবার বা দল নিয়ে গেলে অনেক সময় প্রাইভেট গাড়িতে যাওয়া বেশি আরামদায়ক ও সময়-সাশ্রয়ী হয়, কারণ নিজের সময়সূচী অনুযায়ী মাঝপথে বিরতি নেওয়া যায়। নিচের ভাড়াগুলো আনুমানিক ও নির্দেশক মাত্র; প্রকৃত রেট গাড়ির মডেল ও মৌসুমভেদে কমবেশি হতে পারে।
প্রাইভেট কার
৩-৪ জনআনুমানিক ৫,৫০০-৮,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
একক বা ছোট পরিবারের জন্য দ্রুত ও আরামদায়ক বিকল্প।
মাইক্রোবাস (নোয়া/হায়েস)
৭-১১ জনআনুমানিক ৮,৫০০-১২,৫০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
পরিবার বা দলগত ভ্রমণে জায়গা ও সময়ের নিয়ন্ত্রণ দুটোই বেশি।
কোস্টার/মিনিবাস
২৫-৩২ জনআনুমানিক ১৮,০০০-২৫,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
বড় দল, পিকনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য উপযুক্ত।
পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক)
মালামাল পরিবহনআনুমানিক ৯,০০০-১৬,০০০ ৳ (সাইজভেদে)
মালামাল বা আসবাবপত্র শিফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত।
পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া, গ্রুপ ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস, বড় দলের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিস, আর মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।
গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
জনশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিরাট রাজার রাজধানী ছিল, যাঁর প্রায় ষাট হাজার গাভী বাঁধার স্থান থেকেই “গাইবান্ধা” নামটি এসেছে বলে কিংবদন্তি প্রচলিত। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮৫৮ সালের ২৭ আগস্ট বৃহত্তর রংপুর জেলার অধীনে “ভবানীগঞ্জ” নামে একটি মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৭৫ সালে ভবানীগঞ্জ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেলে মহকুমা সদর ঘাঘট নদীর তীরবর্তী গাইবান্ধায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গাইবান্ধা মহকুমা। ১৯২৩ সালে শহরটি পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়, আর দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই জেলা ইতিহাসের বিভিন্ন সময় মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল বলে জানা যায়, আর ১৯২১ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৪৬ সালের তেভাগা আন্দোলনেও এই জনপদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল।
গাইবান্ধার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান
মীরের বাগান মসজিদ, খাগোয়া · ১৩০৮ হিজরি
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খাগোয়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ জেলার প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে সংরক্ষিত।
বলাশী ঘাট
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই ঘাট প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত এবং গাইবান্ধার অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
বর্ধণকুঠি (নীলকুঠি), গোবিন্দগঞ্জ
ব্রিটিশ আমলের এই পুরনো নীলকুঠির জায়গায় ১৯৬৫ সালে গড়ে তোলা হয় গোবিন্দগঞ্জ কলেজ, যা ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে।
হযরত শাহ জামাল (রঃ)-এর মাজার শরীফ, সাদুল্লাপুর
সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুরে অবস্থিত এই মাজার গাইবান্ধার অন্যতম প্রধান ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থান, পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক জামালপুর শাহী মসজিদ।
ভবানীগঞ্জ ডাকঘর · ১৮৫৮
জেলার আদি মহকুমা সদর ভবানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত এই ডাকঘর ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
রাজবাড়ি (বিরাট রাজার প্রাসাদ), গোবিন্দগঞ্জ
কিংবদন্তির বিরাট রাজার নামে পরিচিত এই প্রাচীন স্থাপনা গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় · ১৯১৬
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়, যা জেলার শিক্ষা-ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু গাইবান্ধা নন-এসি বাস ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে গাইবান্ধার দূরত্ব কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে গাইবান্ধা বাসে যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা টু গাইবান্ধা এসি বাসের ভাড়া কত?
ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস কোথা থেকে ছাড়ে?
গাইবান্ধা জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
আজই আপনার গাড়ি বুক করুন
পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।