ঢাকা টু জয়পুরহাট মাইক্রোবাস ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির মডেল, আসন সংখ্যা এবং ট্রিপের ধরনের ওপর। ৭ জনের বেশি একসাথে ভ্রমণ করলে আলাদা আলাদা বাস টিকিট কাটার চেয়ে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করা প্রায়ই বেশি সুবিধাজনক ও আরামদায়ক হয়। এই গাইডে দূরত্ব, খরচের হিসাব, বাসের সাথে তুলনা, কাউন্টার নম্বর এবং জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
ঢাকা থেকে জয়পুরহাট কত দূরে
সড়কপথে ঢাকা থেকে জয়পুরহাট জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। যাত্রাপথ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া হয়ে জয়পুরহাট শহরে পৌঁছায়। মাইক্রোবাসে যানজট না থাকলে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। বড় গ্রুপ হলে মাঝপথে বিরতি নিলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
কখন মাইক্রোবাস, কখন বাস — সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে
অনেকেই শুধু বাসের ভাড়া দেখেই সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু গ্রুপ ভ্রমণে আসল হিসাব হওয়া উচিত মাথাপিছু খরচ ও সুবিধার তুলনা। ধরা যাক ৮ জনের একটি দল জয়পুরহাট যাচ্ছে।
| বিষয় | বাস (৮ সিট, ৭০০৳/সিট) | মাইক্রোবাস (পুরো গাড়ি ভাড়া) |
|---|---|---|
| মোট আসন খরচ | ~৫,৬০০ ৳ | একক ফিক্সড ভাড়া (~৮,৫০০-১২,৫০০ ৳) |
| লাগেজ/মালামাল জায়গা | সীমিত | যথেষ্ট জায়গা |
| মাঝপথে থামা | নির্ধারিত সময়সূচী মেনে | নিজেদের ইচ্ছামতো |
| দরজা থেকে দরজা সার্ভিস | না, কাউন্টার পর্যন্ত | হ্যাঁ |
| বাচ্চা/বয়স্কদের জন্য আরাম | মাঝারি | বেশি |
*উভয় হিসাবই আনুমানিক ও নির্দেশক মাত্র; প্রকৃত ভাড়া সময়, কোম্পানি ও গাড়ির মডেলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। বাসের প্রকৃত ভাড়া নিচের সারণিতে দেখুন এবং মাইক্রোবাসের হালনাগাদ রেট বুকিংয়ের আগে যাচাই করুন।
মাইক্রোবাস ভাড়া নির্ধারণে যা প্রভাব ফেলে
টয়োটা হায়েস, নোয়া বা এইচ-ওয়ানের মতো মডেলভেদে ভাড়া ভিন্ন হয়।
৭, ৯ বা ১১ আসনের মাইক্রোবাসের ভাড়ায় পার্থক্য থাকে।
শুধু ওয়ান-ওয়ে নাকি গাড়ি অপেক্ষা করে ফিরিয়ে আনবে তার ওপর নির্ভর করে।
বেশিরভাগ সার্ভিসে ভাড়ার মধ্যে জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
একদিনের বেশি ট্রিপ হলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়।
ছুটির দিন বা উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ায় ভাড়াও কিছুটা বেশি হতে পারে।
কোন গাড়িতে যাবেন — মাইক্রোবাস, কার নাকি ট্রাক
দলের আকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক গাড়ি বেছে নিলে জায়গা ও খরচ দুটোই সাশ্রয়ী হয়। নিচের ভাড়াগুলো আনুমানিক ও নির্দেশক মাত্র; প্রকৃত রেট গাড়ির মডেল, জ্বালানি খরচ ও মৌসুমের ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে।
হায়েস / নোয়া
৭-৯ জনআনুমানিক ৮,৫০০-১১,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
পরিবার বা মাঝারি দলের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ।
বড় মাইক্রোবাস
১০-১১ জনআনুমানিক ১১,০০০-১২,৫০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
বড় পরিবার বা অফিস দলের জন্য বাড়তি জায়গাসহ আরামদায়ক ভ্রমণ।
সেডান কার
৩-৪ জনআনুমানিক ৫,৫০০-৮,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
একক বা ছোট পরিবারের জন্য দ্রুত ও আরামদায়ক বিকল্প।
কোস্টার / মিনিবাস
২৫-৩২ জনআনুমানিক ১৮,০০০-২৫,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)
মাইক্রোবাসের বেশি হলে বড় দলের জন্য কোস্টার একটি বিকল্প।
পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক)
মালামাল পরিবহনআনুমানিক ৯,০০০-১৬,০০০ ৳ (সাইজভেদে)
মালামাল বা আসবাবপত্র শিফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত।
সঠিক ও হালনাগাদ মাইক্রোবাস ভাড়া জানতে চাইলে সরাসরি রেট চেক করুন অথবা আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন।
দলগত ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস সবচেয়ে সহজ সমাধান। ছোট পরিবার বা একক যাত্রার জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া, বড় দলের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিস, আর মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।
ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া ও সময়সূচী
একা বা দুজন ভ্রমণে বাসও একটি ভালো বিকল্প। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন ও এস আর ট্রাভেলসের নিয়মিত সার্ভিস রয়েছে।
| পরিবহন | সিট ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|
| শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি ইকোনমি | ৭০০ ৳ |
| এস আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি | ৬০০-৭০০ ৳ |
| শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস | এসি বিজনেস ক্লাস | ১০০০-১২০০ ৳ |
*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে।
বাস কাউন্টার নম্বর
নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
জয়পুরহাট জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
জয়পুরহাটের ষোড়শ শতাব্দীর আগের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস খুব কম পাওয়া যায়, তবে এই অঞ্চলে মুঘল আমল ও তারও আগের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় এটি প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতিপূর্ণ ছিল। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮২১ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চারটি, রংপুর জেলার দুটি ও দিনাজপুর জেলার তিনটি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠিত হয়েছিল, যার অংশ ছিল বর্তমান জয়পুরহাট অঞ্চল। ১৯৭১ সালে এই এলাকা বগুড়া জেলার অধীনে জয়পুরহাট মহকুমায় রূপান্তরিত হয়, আর দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। রাজশাহী বিভাগের এই জেলা জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল ও পাঁচবিবি—এই পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। পরিবার বা দল নিয়ে মাইক্রোবাসে গেলে একদিনেই এই ইতিহাসের একাধিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে, যা বাসে যাতায়াতে সহজ হয় না।
জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান
হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, ক্ষেতলাল · বাংলা ১৩৬৫ সাল
চিশতিয়া তরিকার পীর হযরত আব্দুল গফুর চিশতীর নির্দেশে মাওলানা আব্দুল খালেক চিশতীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদের কাচ, চিনামাটি ও মোজাইকের নকশা মুঘল স্থাপত্যরীতির অনুকরণে তৈরি।
পাঁচবিবি মন্দির
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে নিহত পাঁচজন নারীর স্মরণে উৎসর্গকৃত এই মন্দির থেকেই পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি প্রচলিত।
কালাই রাজবাড়ি · ১৮ শতক
কালাই উপজেলার নবাবদের দ্বারা নির্মিত এই রাজপ্রাসাদ জেলার জমিদারি আমলের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
আক্কেলপুর দুর্গ · ১৬ শতক
মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে নির্মিত এই দুর্গ আক্কেলপুর উপজেলায় অবস্থিত, যা মুঘল সামরিক স্থাপত্যের একটি প্রাচীন নিদর্শন।
গোপীনাথপুর মন্দির, আক্কেলপুর
আক্কেলপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির জেলার হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
আছরাঙ্গা দিঘি, ক্ষেতলাল
প্রাচীন এই দিঘি স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে জড়িত এবং জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি।
নান্দাইল দিঘি ও নিমাই পীরের মাজার, পাঁচবিবি
ঐতিহাসিক নান্দাইল দিঘি এবং পাঁচবিবির নিমাই পীরের মাজার এলাকাটির ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত।
বার শিবালয় মন্দির, জয়পুরহাট সদর
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দির স্থাপত্যশৈলীর জন্য স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু জয়পুরহাট মাইক্রোবাস ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
কত জনের দলের জন্য মাইক্রোবাস নেওয়া লাভজনক?
ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে জয়পুরহাট মাইক্রোবাসে যেতে কত সময় লাগে?
জয়পুরহাট জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
পাঁচবিবি উপজেলার নামকরণ কীভাবে হয়েছে?
আজই আপনার মাইক্রোবাস বুক করুন
পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।