ঢাকা টু হবিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির ধরন, ট্রিপের ধরন এবং যাত্রার সময়ের ওপর। এই গাইডে দূরত্ব, ভাড়া নির্ধারণের হিসাব, বাসের বিকল্প এবং হবিগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ কত দূরে
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ জেলা সদরের সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৬৩-১৬৪ কিলোমিটার। যাত্রাপথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে ভৈরব, আশুগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে হবিগঞ্জ শহরে পৌঁছায়। প্রাইভেট কারে যানজট না থাকলে সময় লাগে ৩.৫-৪ ঘণ্টা, আর বাসে সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা।
গাড়ি ভাড়া নির্ধারণে যা প্রভাব ফেলে
সেডান কার, নোয়া/হায়েস মাইক্রোবাস না কি কোস্টার বাস—প্রতিটির ভাড়া আলাদা।
শুধু ওয়ান-ওয়ে নাকি রাউন্ড ট্রিপ, গাড়ি অপেক্ষা করবে কিনা তার ওপর নির্ভর করে।
বেশিরভাগ সার্ভিসে ভাড়ার মধ্যে জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত থাকে না, আলাদাভাবে হিসাব হয়।
এই রুটে বড় কোনো টোল না থাকলেও স্থানীয় সড়কে সামান্য টোল থাকতে পারে।
একদিনের বেশি ট্রিপ হলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়।
ছুটির দিন বা উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ায় ভাড়াও কিছুটা বেশি হতে পারে।
কোন গাড়িতে যাবেন
নিচের ক্যাটাগরি অনুযায়ী আপনার দল বা প্রয়োজন অনুসারে গাড়ি বেছে নিন। প্রকৃত ভাড়া কোম্পানি ও তেলের দামভেদে পরিবর্তিত হয়, তাই বুকিংয়ের আগে হালনাগাদ রেট যাচাই করে নেওয়া ভালো।
সেডান কার
৩-৪ জনছোট পরিবার, একক যাত্রা বা অফিসিয়াল কাজের জন্য আদর্শ।
নোয়া / হায়েস
৭-১১ জনমাঝারি পরিবার বা দলগত ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ।
কোস্টার / মিনিবাস
২৫-৩২ জনবড় দল, পিকনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য উপযুক্ত।
সঠিক ও হালনাগাদ ভাড়া জানতে চাইলে সরাসরি রেট চেক করুন অথবা আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন।
পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া, বড় দলের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া, আর মালামাল বা অফিস শিফটিংয়ের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।
ঢাকা টু হবিগঞ্জ বাস ভাড়া ও সময়সূচী
বাসে যাতায়াত করতে চাইলে এনা ট্রান্সপোর্ট, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, অগ্রদূত, দিগন্ত ও বিছমিল্লাহ পরিবহনের নিয়মিত সার্ভিস রয়েছে। বর্তমানে এই রুটে কোনো এসি বাস সার্ভিস চালু নেই।
| পরিবহন | সিট ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|
| এনা ট্রান্সপোর্ট | ইকোনমি/নন-এসি | ৩৫০-৪৬০ ৳ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | ইকোনমি/নন-এসি | ৪৬০ ৳ |
| অগ্রদূত পরিবহন | নন-এসি | ৩৫০-৪০০ ৳ |
| দিগন্ত পরিবহন | নন-এসি | ৩৫০-৪০০ ৳ |
| বিছমিল্লাহ পরিবহন | নন-এসি | ৩৫০-৪০০ ৳ |
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাস সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ছাড়ে। মহাখালী, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকেও হবিগঞ্জগামী বাস পাওয়া যায়। সিলেটগামী যেকোনো বাসে শায়েস্তাগঞ্জ মোড়ে নেমে সেখান থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে হবিগঞ্জ সদরে পৌঁছানো যায়।
হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
হবিগঞ্জের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত মত হলো, পঞ্চদশ শতাব্দীতে তরফ অঞ্চলের সৈয়দ জমিদার বংশের সৈয়দ হাবিব উল্লাহ এই এলাকায় একটি বাজার-শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা তখন পরিচিত হয় “হাবিবগঞ্জ” নামে। কালক্রমে এই নাম রূপান্তরিত হয়ে হয় “হবিগঞ্জ”। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সিলেট জেলার অধীনে হবিগঞ্জ মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে, এবং দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ হবিগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। খোয়াই নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জেলা বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর, লাখাই, আজমিরীগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ—এই নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও এই জেলা গভীরভাবে জড়িত, বিশেষত মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকা মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান
উচাইল-শংকরপাশা শাহী মসজিদ · আনুমানিক ১৪৯৩-১৫১১ খ্রি.
হবিগঞ্জ সদরের রাজিউড়া ইউনিয়নে অবস্থিত সুলতানি আমলের এই মসজিদ পাঁচশ বছরের বেশি পুরনো, জেলার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শন।
কমলারানীর সাগরদিঘি · জমিদারি আমল
বানিয়াচং উপজেলায় প্রায় ৬৬ একর জমিতে বিস্তৃত এই দিঘি আয়তনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাধার।
বিথঙ্গল বড় আখড়া
বানিয়াচংয়ের বিতঙ্গল গ্রামে অবস্থিত বৈষ্ণব ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে বছরজুড়ে মেলা-অনুষ্ঠান হয়।
বানিয়াচং রাজবাড়ি ও মহারত্ন জমিদার বাড়ি · ১৫ শতক থেকে
স্থানীয় জমিদারদের প্রভাব-প্রতিপত্তির সাক্ষী। বাহারিস্তান-ই-গায়েবী গ্রন্থে এই অঞ্চলের প্রাচীন জমিদারি সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া যায়।
তেলিয়াপাড়া চা বাগান ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ
মাধবপুরের এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী, পাশেই আছে বর্ষায় লাল শাপলায় ভরে ওঠা একটি হ্রদ।
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
চুনারুঘাটের এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
সুলতানশী হাবেলী
মহাকবি সৈয়দ সুলতান প্রতিষ্ঠিত এই হাবেলী হবিগঞ্জ সদরে অবস্থিত, স্থানীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যের নিদর্শন।
মুড়ারবন্দ ও শাহজীবাজারের মাজার
চুনারুঘাটে সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ) এবং মাধবপুরে সৈয়দ ফতেহ গাজী (রঃ)-এর মাজার প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত আকৃষ্ট করে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু হবিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা টু হবিগঞ্জ রুটে কি এসি বাস সার্ভিস আছে?
হবিগঞ্জ জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
শংকরপাশা শাহী মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল?
আজই আপনার গাড়ি বুক করুন
পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।