🚐 গ্রুপ ট্রাভেল গাইড · ২০২৬

ঢাকা টু হবিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া — খরচ, আসন সংখ্যা ও পূর্ণ গাইড

পরিবার বা দল নিয়ে হবিগঞ্জ যাচ্ছেন? মাইক্রোবাসে একসাথে যাওয়া কখন লাভজনক, ভাড়া কীভাবে হিসাব হয় আর বাসের তুলনায় কতটা সুবিধাজনক — সব একসাথে।

~১৬৪ কিমিদূরত্ব
৩.৫-৪ ঘণ্টাসরাসরি যাত্রা
৭-১১ আসনমাইক্রোবাস ধারণক্ষমতা
৯ উপজেলাহবিগঞ্জ জেলা

ঢাকা → হবিগঞ্জ রুট ম্যাপ

ঢাকা
শুরু
ভৈরব
~৮০ কিমি
আশুগঞ্জ
~৯৫ কিমি
শায়েস্তাগঞ্জ
~১৫০ কিমি
হবিগঞ্জ
~১৬৪ কিমি

ঢাকা টু হবিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির মডেল, আসন সংখ্যা এবং ট্রিপের ধরনের ওপর। ৭ জনের বেশি একসাথে ভ্রমণ করলে আলাদা আলাদা বাস টিকিট কাটার চেয়ে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করা প্রায়ই বেশি সুবিধাজনক ও আরামদায়ক হয়। এই গাইডে দূরত্ব, খরচের হিসাব, বাসের সাথে তুলনা এবং হবিগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

দূরত্ব ও সময়

ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ কত দূরে

ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ জেলা সদরের সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৬৩-১৬৪ কিলোমিটার। যাত্রাপথ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে ভৈরব, আশুগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে হবিগঞ্জ শহরে পৌঁছায়। মাইক্রোবাসে যানজট না থাকলে সময় লাগে ৩.৫-৪ ঘণ্টা। বড় গ্রুপ হলে মাঝপথে বিরতি নিলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

কেন মাইক্রোবাস

কখন মাইক্রোবাস, কখন বাস — সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে

অনেকেই শুধু বাসের ভাড়া দেখেই সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু গ্রুপ ভ্রমণে আসল হিসাব হওয়া উচিত মাথাপিছু খরচ ও সুবিধার তুলনা। ধরা যাক ৮ জনের একটি দল হবিগঞ্জ যাচ্ছে।

বিষয়বাস (৮ সিট, ৪৬০৳/সিট)মাইক্রোবাস (পুরো গাড়ি ভাড়া)
মোট আসন খরচ~৩,৬৮০ ৳একক ফিক্সড ভাড়া
লাগেজ/মালামাল জায়গাসীমিতযথেষ্ট জায়গা
মাঝপথে থামানির্ধারিত সময়সূচী মেনেনিজেদের ইচ্ছামতো
দরজা থেকে দরজা সার্ভিসনা, কাউন্টার পর্যন্তহ্যাঁ
বাচ্চা/বয়স্কদের জন্য আরামমাঝারিবেশি

*বাসের আসনপ্রতি ভাড়া প্রকৃত রুট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে (নিচে বাস ভাড়ার সারণি দেখুন)। মাইক্রোবাসের প্রকৃত ভাড়া গাড়ির মডেল ও ট্রিপ টাইপের ওপর নির্ভর করে, নিচে যাচাই করুন।

খরচের হিসাব

মাইক্রোবাস ভাড়া নির্ধারণে যা প্রভাব ফেলে

গাড়ির মডেল

টয়োটা হায়েস, নোয়া বা এইচ-ওয়ানের মতো মডেলভেদে ভাড়া ভিন্ন হয়।

আসন সংখ্যা

৭, ৯ বা ১১ আসনের মাইক্রোবাসের ভাড়ায় পার্থক্য থাকে।

ট্রিপের ধরন

শুধু ওয়ান-ওয়ে নাকি গাড়ি অপেক্ষা করে ফিরিয়ে আনবে তার ওপর নির্ভর করে।

জ্বালানি খরচ

বেশিরভাগ সার্ভিসে ভাড়ার মধ্যে জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

ড্রাইভার বাটা

একদিনের বেশি ট্রিপ হলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়।

মৌসুম ও চাহিদা

ছুটির দিন বা উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ায় ভাড়াও কিছুটা বেশি হতে পারে।

গাড়ি বাছাই

কোন মাইক্রোবাস উপযুক্ত হবে

দলের আকার অনুযায়ী সঠিক গাড়ি বেছে নিলে জায়গা ও খরচ দুটোই সাশ্রয়ী হয়। প্রকৃত ভাড়া কোম্পানি ও তেলের দামভেদে পরিবর্তিত হয়, তাই বুকিংয়ের আগে হালনাগাদ রেট যাচাই করে নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে জনপ্রিয়
🚐

হায়েস / নোয়া

৭-৯ জন

পরিবার বা মাঝারি দলের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ।

🚐

বড় মাইক্রোবাস

১০-১১ জন

বড় পরিবার বা অফিস দলের জন্য বাড়তি জায়গাসহ আরামদায়ক ভ্রমণ।

🚌

কোস্টার / মিনিবাস

২৫-৩২ জন

মাইক্রোবাসের বেশি হলে বড় দলের জন্য কোস্টার একটি বিকল্প।

সঠিক ও হালনাগাদ মাইক্রোবাস ভাড়া জানতে চাইলে সরাসরি রেট চেক করুন অথবা আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন।

দলগত ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস সবচেয়ে সহজ সমাধান। ছোট পরিবার বা একক যাত্রার জন্য প্রাইভেট কার ভাড়াও নেওয়া যেতে পারে, আর অনেক বড় দলের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।

বাজেট বিকল্প

ঢাকা টু হবিগঞ্জ বাস ভাড়া ও সময়সূচী

একা বা দুজন ভ্রমণে বাসও একটি ভালো বিকল্প। এনা ট্রান্সপোর্ট, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, অগ্রদূত, দিগন্ত ও বিছমিল্লাহ পরিবহনের নিয়মিত সার্ভিস রয়েছে। বর্তমানে এই রুটে কোনো এসি বাস সার্ভিস চালু নেই।

পরিবহনসিট ক্লাসভাড়া
এনা ট্রান্সপোর্টইকোনমি/নন-এসি৩৫০-৪৬০ ৳
হানিফ এন্টারপ্রাইজইকোনমি/নন-এসি৪৬০ ৳
অগ্রদূত পরিবহননন-এসি৩৫০-৪০০ ৳
দিগন্ত পরিবহননন-এসি৩৫০-৪০০ ৳
বিছমিল্লাহ পরিবহননন-এসি৩৫০-৪০০ ৳

সায়েদাবাদ, মহাখালী ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে বাস ছাড়ে। সিলেটগামী যেকোনো বাসে শায়েস্তাগঞ্জ মোড়ে নেমে সেখান থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে হবিগঞ্জ সদরে পৌঁছানো যায়।

এনা ট্রান্সপোর্ট (হবিগঞ্জ): ০১৭২২-৭০৬০৭৫
হানিফ এন্টারপ্রাইজ (সায়েদাবাদ): ০১৭১৩-২০১৭৩২
লাবিবা ক্লাসিক (মহাখালী): ০১৩২১-১৭১১২১
ইতিহাস

হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

হবিগঞ্জের নামকরণ নিয়ে প্রচলিত মত হলো, পঞ্চদশ শতাব্দীতে তরফ অঞ্চলের সৈয়দ জমিদার বংশের সৈয়দ হাবিব উল্লাহ এই এলাকায় একটি বাজার-শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা তখন পরিচিত হয় “হাবিবগঞ্জ” নামে। কালক্রমে এই নাম রূপান্তরিত হয়ে হয় “হবিগঞ্জ”। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সিলেট জেলার অধীনে হবিগঞ্জ মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে, এবং দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ হবিগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। খোয়াই নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জেলা বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর, লাখাই, আজমিরীগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ—এই নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও এই জেলা গভীরভাবে জড়িত, বিশেষত মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকা মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরিবার বা দল নিয়ে মাইক্রোবাসে গেলে একদিনেই এই ইতিহাসের একাধিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে, যা বাসে যাতায়াতে সহজ হয় না।

দর্শনীয় স্থান

হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান

উচাইল-শংকরপাশা শাহী মসজিদ · আনুমানিক ১৪৯৩-১৫১১ খ্রি.

হবিগঞ্জ সদরের রাজিউড়া ইউনিয়নে অবস্থিত সুলতানি আমলের এই মসজিদ পাঁচশ বছরের বেশি পুরনো, জেলার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শন।

কমলারানীর সাগরদিঘি · জমিদারি আমল

বানিয়াচং উপজেলায় প্রায় ৬৬ একর জমিতে বিস্তৃত এই দিঘি আয়তনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাধার।

বিথঙ্গল বড় আখড়া

বানিয়াচংয়ের বিতঙ্গল গ্রামে অবস্থিত বৈষ্ণব ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে বছরজুড়ে মেলা-অনুষ্ঠান হয়।

বানিয়াচং রাজবাড়ি ও মহারত্ন জমিদার বাড়ি · ১৫ শতক থেকে

স্থানীয় জমিদারদের প্রভাব-প্রতিপত্তির সাক্ষী। বাহারিস্তান-ই-গায়েবী গ্রন্থে এই অঞ্চলের প্রাচীন জমিদারি সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া যায়।

তেলিয়াপাড়া চা বাগান ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ

মাধবপুরের এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী, পাশেই আছে বর্ষায় লাল শাপলায় ভরে ওঠা একটি হ্রদ।

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য

চুনারুঘাটের এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

সুলতানশী হাবেলী

মহাকবি সৈয়দ সুলতান প্রতিষ্ঠিত এই হাবেলী হবিগঞ্জ সদরে অবস্থিত, স্থানীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যের নিদর্শন।

মুড়ারবন্দ ও শাহজীবাজারের মাজার

চুনারুঘাটে সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ) এবং মাধবপুরে সৈয়দ ফতেহ গাজী (রঃ)-এর মাজার প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত আকৃষ্ট করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা টু হবিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
গাড়ির মডেল, আসন সংখ্যা, ট্রিপ ওয়ান-ওয়ে না রাউন্ড ট্রিপ, জ্বালানি খরচ এবং ভ্রমণের মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া নির্ধারিত হয়। সুনির্দিষ্ট রেট জানতে বুকিংয়ের আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কত জনের দলের জন্য মাইক্রোবাস নেওয়া লাভজনক?
সাধারণত ৭ জন বা তার বেশি একসাথে ভ্রমণ করলে আলাদা বাস টিকিটের চেয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করা বেশি সুবিধাজনক ও আরামদায়ক হয়।
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৬৩-১৬৪ কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ মাইক্রোবাসে যেতে কত সময় লাগে?
যানজট না থাকলে সাধারণত ৩.৫-৪ ঘণ্টা সময় লাগে। মাঝপথে বিরতি নিলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
হবিগঞ্জ জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরুর পর ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ হবিগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়।
শংকরপাশা শাহী মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল?
সুলতানি আমলে, আনুমানিক ১৪৯৩ থেকে ১৫১১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই মসজিদ নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়।

আজই আপনার মাইক্রোবাস বুক করুন

পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।

যাত্রা নির্ভরযোগ্য হোক — চলো গাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে