🚐 রেট গাইড ২০২৬
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়া — সিট অনুযায়ী সম্পূর্ণ রেট ও বুকিং গাইড
১০৬ কিলোমিটারের এই কাছের রুটে পরিবার, অফিস টিম বা যেকোনো দলকে একসাথে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক উপায়।
📅 জুন ২০২৬
⏱️ পড়তে ৯ মিনিট
✅ যাচাইকৃত তথ্য
⏱️
যাত্রার সময়
২–৩ ঘণ্টা
🛣️
প্রধান রুট
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N1)
💰
মাইক্রোবাস ভাড়া শুরু
৳৩,৮০০ থেকে
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে অনেকেই খোঁজ করেন — কেউ পরিবার নিয়ে কুমিল্লার ঐতিহাসিক স্থান দেখতে যাচ্ছেন, কেউ অফিস ট্যুরে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। ঢাকার খুব কাছের এই জেলায় দলগত যাত্রার জন্য মাইক্রোবাস সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিয়ন্ত্রিত বিকল্প — একটাই গাড়িতে সবাই, নিজের সময়মতো বিরতি দিয়ে।
সড়কপথে ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ১০৬ কিলোমিটার (গুগল ম্যাপ অনুযায়ী)। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N1) ধরে এই পথ পার হতে স্বাভাবিক ট্র্যাফিকে মাইক্রোবাসে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।
এক নজরে: ঢাকা থেকে কুমিল্লা সড়কপথে প্রায় ১০৬ কিলোমিটার। ৭-৮ সিটের মাইক্রোবাসে একমুখী ভাড়া ৳৩,৮০০–৳৪,৫০০, ১০-১২ সিটের Hiace-এ ৳৫,০০০–৳৬,০০০ এবং ১৩-১৫ সিটের Grand Cabin-এ ৳৬,৫০০–৳৭,৫০০ পর্যন্ত হয়।
🏙️
ঢাকা
যাত্রা শুরু
🛣️
নারায়ণগঞ্জ–দাউদকান্দি
~৫০ কিমি
🌉
মেঘনা–গোমতী সেতু
টোল পয়েন্ট
🏛️
কুমিল্লা
গন্তব্য
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়ার তালিকা ২০২৬
মাইক্রোবাসের ভাড়া নির্ভর করে গাড়ির ধরন, আসন সংখ্যা এবং যাত্রা একমুখী নাকি রাউন্ড ট্রিপ তার উপর। নিচে সিট ক্যাটাগরি অনুযায়ী আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো।
🚐
Toyota Noah / Stepwgn
৳৩,৮০০–৳৪,৫০০
৭–৮ আসন | একমুখী
🚐
Toyota Hiace
৳৫,০০০–৳৬,০০০
১০–১২ আসন | একমুখী
🚌
Hiace Grand Cabin
৳৬,৫০০–৳৭,৫০০
১৩–১৫ আসন | একমুখী
⚠️
মনে রাখুন: উপরের ভাড়া আনুমানিক এবং জ্বালানির দাম, মৌসুম ও গাড়ির মডেল অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। এর মধ্যে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল অন্তর্ভুক্ত নয়। সঠিক ও হালনাগাদ ভাড়া জানতে
ভাড়া চেক করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
বিস্তারিত মূল্য তালিকা (একমুখী বনাম রাউন্ড ট্রিপ)
| গাড়ির ধরন |
আসন সংখ্যা |
ওয়ান ওয়ে ভাড়া |
রাউন্ড ট্রিপ (একদিন) |
মাথাপিছু (একমুখী) |
| Toyota Noah / Stepwgn |
৭–৮ জন |
৳৩,৮০০–৳৪,৫০০ |
৳৬,৫০০–৳৭,৫০০ |
৳৫৪৩–৬৪৩ |
| Toyota Hiace |
১০–১২ জন |
৳৫,০০০–৳৬,০০০ |
৳৮,৫০০–৳১০,০০০ |
৳৪১৭–৫০০ সেরা |
| Hiace Grand Cabin |
১৩–১৫ জন |
৳৬,৫০০–৳৭,৫০০ |
৳১১,০০০–৳১২,৫০০ |
৳৪৩৩–৫০০ |
উপরের ভাড়া চালকসহ এবং জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত। মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল মাইক্রোবাসের জন্য আলাদাভাবে গুনতে হয় — সাধারণত প্রতিটি সেতুতে ৫০–১০০ টাকার মধ্যে। বুকিংয়ের সময় এই খরচ ভাড়ার মধ্যে আছে কিনা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা রুট ও সময়সূচি
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার মূল সড়কপথ হলো ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N1), যা বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক ও ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর একটি। এই রুটে সড়ক দূরত্ব প্রায় ১০৬ কিলোমিটার এবং স্বাভাবিক অবস্থায় মাইক্রোবাসে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।
- ঢাকা → নারায়ণগঞ্জ–কাঁচপুর: ~২০ কিমি (শুরুতে যানজট বেশি থাকে)
- কাঁচপুর → মেঘনা সেতু → দাউদকান্দি: ~৩৫ কিমি (চারলেন মহাসড়ক, তুলনামূলক মসৃণ)
- দাউদকান্দি → গোমতী সেতু → চান্দিনা: ~৩০ কিমি
- চান্দিনা → কুমিল্লা শহর: ~২১ কিমি (সরাসরি প্রবেশপথ)
| যাত্রার ধরন |
আনুমানিক সময় |
মন্তব্য |
| ভোরে রওনা (৬–৮টা) |
২–২.৫ ঘণ্টা |
সবচেয়ে কম সময় — ট্র্যাফিক কম |
| সকালে রওনা (৯–১১টা) |
২.৫–৩ ঘণ্টা |
স্বাভাবিক — মাঝারি ট্র্যাফিক |
| বিকেলে রওনা (৪–৬টা) |
৩–৩.৫ ঘণ্টা |
ঢাকা ছাড়তে দেরি হয় — অফিস টাইম যানজট |
| ঈদ বা উৎসবকালীন |
৪–৬+ ঘণ্টা |
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট — আগে রওনা দেওয়া ভালো |
মাইক্রোবাস ভাড়ায় কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকে
✅ সাধারণত অন্তর্ভুক্ত
- চালকের বেতন ও সার্ভিস চার্জ
- নির্ধারিত রুটের জ্বালানি খরচ
- এসি সুবিধা
- গাড়ির বেসিক রক্ষণাবেক্ষণ
ঢাকা-কুমিল্লা রুটে মাইক্রোবাস বুকিংয়ের সঠিক পদ্ধতি
১যাত্রার বিবরণ প্রস্তুত করুন: যাত্রার তারিখ ও সময়, যাত্রীসংখ্যা, ঢাকায় পিকআপ পয়েন্ট এবং কুমিল্লায় গন্তব্য আগে নিশ্চিত করুন।
২গাড়ির ধরন বেছে নিন: যাত্রীসংখ্যা ৭-৮ হলে Noah, ৯-১২ হলে Hiace এবং ১৩-১৫ হলে Hiace Grand Cabin সঠিক। অতিরিক্ত বড় গাড়িতে অযথা বেশি ভাড়া দিতে হয়।
৩টোল আগে নিশ্চিত করুন: মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল কে দেবে, চালকের খাবার ও থাকার খরচ কীভাবে হবে — এসব বুকিংয়ের আগেই স্পষ্ট করুন।
৪লিখিত কনফার্মেশন নিন: ফোনে বুকিং হলেও মেসেজে গাড়ির ধরন, ভাড়া, সময় ও চালকের নাম নিশ্চিত করে রাখুন।
৫ঈদ বা ছুটিতে আগেভাগে বুক করুন: উৎসবের সময় ভালো মাইক্রোবাস দ্রুত বুক হয়ে যায় এবং ভাড়াও বেশি থাকে। অন্তত ৩-৫ দিন আগে বুকিং দেওয়া নিরাপদ।
সহজে বুকিং দিতে মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস দেখুন বা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
কোন মাইক্রোবাস আপনার জন্য উপযুক্ত?
৭-৮ জনের ছোট দল
Toyota Noah বা Honda Stepwgn ধরনের গাড়ি ছোট পরিবার বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের যাত্রার জন্য আরামদায়ক। AC কেবিন ও লাগেজ স্পেস যথেষ্ট থাকে দিনে যাওয়া-আসার জন্য বা ছোট ট্রিপের জন্য।
১০-১২ জনের গ্রুপ
Toyota Hiace সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, বিশেষ করে অফিস আউটিং, বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয় পরিবহন বা স্কুল ট্যুরের জন্য। কুমিল্লার মতো কাছের রুটে এই গাড়িতে মাথাপিছু খরচ সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়।
১৩-১৫ জনের বড় দল
Toyota Hiace Grand Cabin বড় পরিবার, কর্পোরেট টিম বা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। একটি গাড়িতেই পুরো দল চলাচল করতে পারায় আলাদা গাড়ি ভাড়া করার ঝামেলা থাকে না।
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়ায় সাশ্রয়ের উপায়
- দল বড় করুন: ৭ জনের বদলে ১০-১২ জন হলে মাথাপিছু ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়
- ভোরে রওনা দিন: ট্র্যাফিক কম থাকায় সময় কম লাগে, চালকের ওভারটাইম চার্জও থাকে না
- একদিনে রাউন্ড ট্রিপ করুন: কাছের রুট হওয়ায় রাত্রিযাপন না করলে চালকের থাকা-খাওয়ার খরচ বাঁচে
- আগে বুকিং দিন: ২-৩ দিন আগে বুক করলে ভালো গাড়ি ও দাম পাওয়া যায়
- টোলের হিসাব আগে স্পষ্ট করুন: মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল ভাড়ার মধ্যে আছে কিনা আগেই জেনে নিন, পরে বিতর্ক এড়াতে
ঢাকা থেকে কুমিল্লা মাইক্রোবাস বুক করুন আজই
চলো গাড়ি — ভেরিফাইড চালক, AC মাইক্রোবাস ও স্বচ্ছ ভাড়ায় নিশ্চিন্ত যাত্রা
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়া কত?
ওয়ান ওয়ে ভাড়া সাধারণত ৳৩,৮০০–৳৭,৫০০ এবং রাউন্ড ট্রিপ ৳৬,৫০০–৳১২,৫০০ পর্যন্ত হয়, গাড়ির ধরন ও আসন সংখ্যার উপর নির্ভর করে। ১০-১২ জনের Hiace-এ মাথাপিছু খরচ তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা সড়কপথে দূরত্ব কত?
গুগল ম্যাপ অনুযায়ী সড়কপথে ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ১০৬ কিলোমিটার। সরকারি কিছু সূত্রে এটি ৯৭ কিলোমিটার হিসেবেও উল্লেখ আছে — শুরু ও শেষ বিন্দু অনুযায়ী এই পার্থক্য হয়।
মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে কতক্ষণ সময় লাগে?
স্বাভাবিক ট্র্যাফিকে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। ভোরে রওনা দিলে কম সময়ে পৌঁছানো সম্ভব। ঈদ বা দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের কারণে ৪-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে।
মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল কি ভাড়ায় অন্তর্ভুক্ত?
সাধারণত সেতুর টোল আলাদাভাবে যাত্রীকে দিতে হয়। মাইক্রোবাসের জন্য প্রতিটি সেতুতে আনুমানিক ৫০-১০০ টাকা টোল লাগে। বুকিংয়ের সময়ই এটা স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো।
একদিনে গিয়ে ফেরা সম্ভব?
হ্যাঁ, এই কাছের রুটে একদিনেই যাওয়া-আসা সহজে সম্ভব। সকালে রওনা দিয়ে কুমিল্লায় কয়েক ঘণ্টা কাজ বা ভ্রমণ সেরে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যায়।
মাইক্রোবাস ভাড়ায় চালকের খরচ কি অন্তর্ভুক্ত?
হ্যাঁ, চালকের পারিশ্রমিক ভাড়ার মধ্যেই থাকে। তবে দীর্ঘ যাত্রায় চালকের খাবার এবং রাত্রিযাপনে থাকার খরচ সাধারণত যাত্রীদেরই দিতে হয়।
শেষ কথা
ঢাকা টু কুমিল্লা মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে আপনি পাবেন নিজের মতো সময় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা, পথে থামার সুবিধা এবং দলগত যাত্রায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচ। ১০৬ কিলোমিটারের এই কাছের পথ মাইক্রোবাসে পরিবার বা সহকর্মীদের সাথে মিলে করলে যাত্রাটাই হয়ে ওঠে আরামদায়ক একটা অভিজ্ঞতা।
বুকিং দেওয়ার আগে ভাড়া, টোলের হিসাব ও শর্তাবলি মেসেজে নিশ্চিত করুন — তাহলে যাত্রায় কোনো অপ্রীতিকর বিস্ময় থাকবে না। প্রয়োজনে ভাড়া যাচাই করুন পেজ থেকে সর্বশেষ রেট দেখে নিতে পারেন।