নন-এসি ও এসি — সব ধরনের বাসের ভাড়া, সময়, কাউন্টার নম্বর ও টিকিট কাটার নিয়ম এক জায়গায়।
ঢাকা টু কুমিল্লা বাস ভাড়া সম্পর্কে সঠিক ও আপডেটেড তথ্য পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায় — কারণ বিভিন্ন কোম্পানির ভাড়া আলাদা, সময়সূচী নিয়মিত পরিবর্তন হয় এবং অনলাইনে অনেক পুরনো তথ্যও ছড়িয়ে আছে। এই গাইডে ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য দিয়ে বাসের নাম, ভাড়া, সময়সূচী, কাউন্টার নম্বর ও টিকিট কাটার নিয়ম সব একসাথে দেওয়া হলো।
সড়কপথে ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ১০৬ কিলোমিটার (গুগল ম্যাপ অনুযায়ী)। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N1) ধরে এই দীর্ঘ রুটে স্বাভাবিক ট্র্যাফিকে বাসে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা, যা বাংলাদেশের অন্যতম কম সময়ের আন্তঃজেলা বাস রুট।
বাসের ভাড়া নির্ভর করে সার্ভিসের ধরন ও কোম্পানির উপর। নিচে দুই ক্যাটাগরির আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো।
ঢাকা থেকে কুমিল্লায় প্রতিদিন প্রতি ১৫-২০ মিনিটে বিভিন্ন কোম্পানির বাস ছাড়ে — এই রুটে বাসের ফ্রিকোয়েন্সি বাংলাদেশের অন্যতম বেশি। নিচে প্রতিটি কোম্পানির নন-এসি ও এসি ভাড়া আলাদাভাবে দেওয়া হলো।
| বাস কোম্পানি | নন-এসি ভাড়া | এসি ভাড়া | সার্ভিসের ধরন |
|---|---|---|---|
| তিশা প্লাস / এক্সক্লুসিভ | ৳২২০ | — | নন-এসি, ঘন ফ্রিকোয়েন্সি |
| এশিয়া লাইন | ৳১২০–৳২২০ | — | নন-এসি |
| রয়েল কোচ | ৳২২০ | ৳৪৫০ | এসি + নন-এসি |
| মায়ামী পরিবহন | — | ৳৫৫০ | প্রিমিয়াম এসি |
| বিআরটিসি (সরকারি) | ৳১৫০–১৮০ | ৳৩৫০ | সরকারি এসি + নন-এসি |
ঢাকা টু কুমিল্লা রুটে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতি ১৫-২০ মিনিটে বাস ছাড়ে। কাছের রুট হওয়ায় এই রুটে বাসের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই বুকিং ছাড়াই সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পাওয়া সহজ।
| বাস কোম্পানি | ছাড়ার সময় | ফ্রিকোয়েন্সি |
|---|---|---|
| তিশা প্লাস / এক্সক্লুসিভ | সকাল ৬:০০ – রাত ৮:০০ | প্রতি ১৫–২০ মিনিট |
| এশিয়া লাইন | সকাল ৬:১৫ – রাত ৮:০০ | প্রতি ২০ মিনিট |
| বিআরটিসি (এসি) | সকাল ৭:০০ থেকে | প্রতি ৩০–৪০ মিনিট |
| রয়েল কোচ | সকাল থেকে রাত পর্যন্ত | দিনে একাধিক ট্রিপ |
ঢাকা-কুমিল্লা রুটে সবচেয়ে পরিচিত নাম, নির্ভরযোগ্য সময়ানুবর্তিতার জন্য জনপ্রিয়। প্রতি ১৫-২০ মিনিটে বাস ছাড়ে, তাই অপেক্ষার সময় কম।
সাশ্রয়ী ভাড়ায় নিয়মিত সার্ভিস দিয়ে থাকে। বাজেট-বান্ধব যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় একটি অপশন।
প্রতিদিন একাধিক ট্রিপ পরিচালনা করে, এসি ও নন-এসি দুই সার্ভিসই পাওয়া যায়। আরাম ও বাজেট দুটোই মাথায় রাখা যাত্রীদের জন্য উপযুক্ত।
গরমের সময় বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে যাত্রায় আরামদায়ক প্রিমিয়াম এসি সার্ভিস।
সরকারি পরিবহন সংস্থার বাস, তুলনামূলক কম ভাড়ায় নির্ভরযোগ্য সার্ভিস।
ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী বেশিরভাগ বাস গুলিস্তান, সায়দাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল থেকে ছাড়ে। কিছু কোম্পানির কাউন্টার কল্যাণপুরেও আছে। আপনার এলাকার কাছের কাউন্টার বেছে নেওয়া সুবিধাজনক।
| কাউন্টারের অবস্থান | কোন বাস পাবেন | উপযুক্ত এলাকা |
|---|---|---|
| সায়দাবাদ | তিশা, এশিয়া লাইন, রয়েল কোচ | যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, খিলগাঁও |
| গুলিস্তান | তিশা ও আরও কয়েকটি | পুরান ঢাকা, মতিঝিল |
| মহাখালী | তিশা, একাধিক কোম্পানি | গুলশান, বনানী, তেজগাঁও |
| ফকিরাপুল | তিশা, রয়েল কোচ | মতিঝিল, কমলাপুর |
| কল্যাণপুর | তিশা (বিকল্প কাউন্টার) | মিরপুর, মোহাম্মদপুর |
এই রুটে বাসের ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হওয়ায় সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটা সহজ। অগ্রিম বুকিং ছাড়াই সাধারণত ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে পরবর্তী বাস পাওয়া যায়।
Shohoz বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা যায়। অনলাইনে কাটলে পছন্দের সিট বেছে নেওয়া যায়, তবে প্রসেসিং ফি বাবদ ১০-২০ টাকা অতিরিক্ত লাগতে পারে।
কাউন্টারে ফোন করে সিট বুক করা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট তুলে নিতে হয়। এই কাছের রুটে সাধারণত এর প্রয়োজন কম হয়।
দলগতভাবে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে মাথাপিছু খরচ বাসের কাছাকাছি পড়তে পারে, সাথে পথে থামার স্বাধীনতাও মিলবে। আর বড় দল বা ইভেন্টের জন্য পুরো বাস ভাড়া করার সুযোগও আছে।
চলো গাড়ি — নির্ভরযোগ্য চালক, ভালো গাড়ি ও স্বচ্ছ ভাড়ায় কুমিল্লা যাত্রা নিশ্চিত করুন
ঢাকা টু কুমিল্লা বাস ভাড়া সম্পর্কে এখন আপনার কাছে সব তথ্য আছে — ভাড়া, সময়, কোম্পানি ও কাউন্টার। কাছের এই রুটে বাসের ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেশি, তাই একা বা ছোট দলে গেলে বাস সবচেয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিকল্প।
তবে ৭ বা তার বেশি জন একসাথে গেলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নিলে যাত্রায় বেশি স্বাধীনতা পাবেন। প্রয়োজনে ভাড়া যাচাই করুন পেজ থেকে সর্বশেষ রেট দেখে নিতে পারেন। যেভাবেই যান — নিরাপদে যান।