দূরত্ব, এসি-নন এসি বাসের প্রকৃত ভাড়ার তালিকা, পরিবহন অনুযায়ী কাউন্টার নম্বর এবং জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক স্থানের বিবরণ — সবকিছু এক জায়গায়।
ঢাকা টু জয়পুরহাট বাস ভাড়া নির্ভর করে আপনি এসি নাকি নন-এসি বাস বেছে নিচ্ছেন এবং কোন পরিবহন কোম্পানিতে যাত্রা করছেন তার ওপর। ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, শ্যামলী ও আসাদগেট থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এস.আর. ট্রাভেলস ও আহাদ এন্টারপ্রাইজের মতো একাধিক পরিবহন সংস্থা নিয়মিত জয়পুরহাট রুটে চলাচল করে। এই গাইডে দূরত্ব, সময়, প্রকৃত ভাড়া, প্রতিটি পরিবহনের যাচাইকৃত কাউন্টার নম্বর এবং জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক পরিচিতি — সবকিছু বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে।
ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের সড়কপথ দূরত্ব প্রায় ২৪৬ কিলোমিটার। যাত্রাপথ টাঙ্গাইল হয়ে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে জয়পুরহাট সদরে পৌঁছায়। রাস্তার অবস্থা ও ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
| রুট অংশ | আনুমানিক দূরত্ব |
|---|---|
| ঢাকা → টাঙ্গাইল → যমুনা সেতু (সিরাজগঞ্জ) | ~১৩০ কিমি |
| সিরাজগঞ্জ → বগুড়া | ~৬৬ কিমি |
| বগুড়া → জয়পুরহাট সদর | ~৫০ কিমি |
| মোট (আনুমানিক) | ~২৪৬ কিমি |
বাসের ব্র্যান্ড ও ক্লাস (বিজনেস/ইকোনমি) অনুযায়ী এসি বাসের ভাড়ায় পার্থক্য দেখা যায়।
| পরিবহন কোম্পানি | বাসের ব্র্যান্ড | ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|---|
| এস.আর. ট্রাভেলস বিজনেস | হুন্দাই (Hyundai) | বিজনেস ক্লাস | ৳১,৩০০ |
| এস.আর. ট্রাভেলস | হিনো (Hino) | ইকোনমি ক্লাস | ৳৯০০ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | আর.এম-২ (RM-2) | বিজনেস ক্লাস | ৳১,২০০ |
| যমুনা লাইন পরিবহন | হিনো (Hino) | ইকোনমি ক্লাস | ৳৭০০ |
💡 এই ভাড়া সময় ও মৌসুম অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।
| পরিবহন কোম্পানি | বাসের ব্র্যান্ড | ভাড়া |
|---|---|---|
| শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস জনপ্রিয় | হিনো (Hino) | ৳৬০০ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | হিনো (Hino) | ৳৭০০ |
| এস.আর. ট্রাভেলস | হিনো (Hino) | ৳৭০০ |
| আহাদ এন্টারপ্রাইজ | আশোক লেল্যান্ড (Ashok Leyland) | ৳৭০০ |
| যমুনা লাইন পরিবহন | আশোক লেল্যান্ড (Ashok Leyland) | ৳৬৫০ |
| অরিন ট্রাভেলস | মার্সিডিজ বেঞ্জ (Mercedes Benz) | ৳৬০০ |
দলবদ্ধভাবে যেতে চাইলে রিজার্ভ মাইক্রোবাসের ভাড়াও চেক করে দেখতে পারেন — নির্ধারিত সময়সূচী মেনে চলার ঝামেলা এড়ানো যায়।
নিচের কাউন্টার নম্বরগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার অফিসিয়াল তথ্য থেকে নেওয়া। যাত্রার আগে সরাসরি ফোন করে সময় ও আসন নিশ্চিত করে নিন।
এস.আর. ট্রাভেলস, আহাদ এন্টারপ্রাইজ ও যমুনা লাইন পরিবহনের নির্দিষ্ট কাউন্টার নম্বর সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে বলে টার্মিনালে সরাসরি গিয়ে বা কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ নম্বর যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
কল্যাণপুর, গাবতলী, শ্যামলী বা আসাদগেটের কাউন্টারে গিয়ে সরাসরি টিকিট কেটে নিতে পারেন।
উপরের কাউন্টার নম্বরে কল করে অগ্রিম সিট বুক করা যায়, বিশেষ করে ছুটির দিনে এটি বেশি নিরাপদ।
bdtickets.com-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও রুট, তারিখ ও পছন্দের বাস নির্বাচন করে সহজে টিকিট বুক করা যায়।
রাজশাহী বিভাগের ছোট্ট অথচ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জেলা জয়পুরহাট। ছোট যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জেলায় ছড়িয়ে আছে প্রাচীন মন্দির, মসজিদ ও জমিদারবাড়ির মতো একাধিক ঐতিহাসিক নিদর্শন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেল আমলা গ্রামে ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির নির্মাণ করেন রাজীব লোচন মন্ডল, সম্ভবত অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে অথবা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশীতে এখানে দুই দিনব্যাপী শিবরাত্রি পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সারাদেশ থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন।
পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাজবাড়ি আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা, যা জয়পুরহাটের প্রাচীনতম স্থাপনাগুলোর একটি।
ক্ষেতলাল উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন, যা মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে।
আক্কেলপুর উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দির স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান, যা জয়পুরহাটের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ।
জয়পুরহাট সদরের চকবরকত ইউনিয়নে অবস্থিত এই স্থান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার এক মর্মান্তিক সাক্ষী, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্থান।
জয়পুরহাট সদর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে (পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলায়) অবস্থিত ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সোমপুর বৌদ্ধ বিহার — উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার হওয়ায় জয়পুরহাট থেকে অনেক পর্যটক এক ভ্রমণেই এটি দেখতে যান।
এছাড়া নান্দাইল দিঘী, আছরাঙ্গা দীঘি ও দুয়ানী ঘাট জয়পুরহাটের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। বাসে জয়পুরহাট পৌঁছানোর পর এই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে রিজার্ভ মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ পাবলিক পরিবহনে একদিনে সবকটি জায়গা ঘোরা সময়সাপেক্ষ।
বারো শিবালয়, লকমা রাজবাড়ি বা সোমপুর বিহারের মতো ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থান ঘুরতে পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ রিজার্ভ মাইক্রোবাস বা কার ভাড়া করুন — তারিখ ও যাত্রী সংখ্যা জানিয়ে দিন, বাকিটা আমরা দেখব।