🚐 চলো গাড়ি যেকোনো রুটের ভাড়া জানতে ভাড়া চেক করুন
👨‍👩‍👧‍👦 গ্রুপ ও পারিবারিক ভ্রমণ গাইড · আপডেট আগস্ট ২০২৬

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া ২০২৬ — সিট অনুযায়ী সম্পূর্ণ রেট গাইড

পরিবার, বন্ধু বা অফিসের দল নিয়ে বিক্রমপুরের ইতিহাস ঘুরে দেখতে চান? এই লেখায় পাবেন সিট সংখ্যা অনুযায়ী মাইক্রোবাসের হালনাগাদ ভাড়া, দূরত্ব, বুকিং টিপস আর মুন্সিগঞ্জের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বিবরণ — এক জায়গায়।

৭ সিট (নোহা)
৳২,৫০০+
ওয়ান-ওয়ে থেকে
১১ সিট (হায়েস)
৳৩,৫০০+
ওয়ান-ওয়ে থেকে
১৪ সিট (বড়)
৳৪,৫০০+
ওয়ান-ওয়ে থেকে

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া — দ্রুত উত্তর

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া সিট সংখ্যা ও ট্রিপের ধরনের ওপর নির্ভর করে ৳২,৫০০ থেকে ৳৬,৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার, স্বাভাবিক ট্রাফিকে পৌঁছাতে সময় লাগে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। পরিবার বা ৭-১৪ জনের দল নিয়ে একসাথে যাতায়াতের জন্য এই দূরত্বে মাইক্রোবাসই সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী বিকল্প।

⚠️ সতর্কতা: নিচের ভাড়াগুলো বাজার-ভিত্তিক আনুমানিক গড় রেট। জ্বালানির দাম, সিজন ও কোম্পানিভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। যাত্রার আগে ভাড়া চেক করুন পেজে গিয়ে চূড়ান্ত ভাড়া নিশ্চিত করে নিন।

সিট সংখ্যা অনুযায়ী মাইক্রোবাসের বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা

মুন্সিগঞ্জ যাত্রায় দলের আকার অনুযায়ী সঠিক মাইক্রোবাস বেছে নেওয়া জরুরি। নিচের তালিকায় সিট অনুযায়ী ওয়ান-ওয়ে ও পূর্ণদিবস রিজার্ভ ভাড়া দেওয়া হলো।

মাইক্রোবাসের ধরনওয়ান-ওয়েপূর্ণদিবস (রিজার্ভ)উপযোগী দলের আকার
নোহা / প্রিমিও এসি (৭ সিট)৳২,৫০০–৩,০০০৳৪,০০০–৪,৫০০৫–৭ জন
হায়েস মাইক্রোবাস (১১ সিট)৳৩,৫০০–৪,০০০৳৪,৫০০–৫,৫০০৮–১১ জন
বড় মাইক্রোবাস (১৪ সিট)৳৪,৫০০–৫,০০০৳৫,৫০০–৬,৫০০১২–১৪ জন
কোস্টার বাস (২৯ সিট)৳৯,০০০–১১,০০০৳১১,০০০–১৩,০০০২০+ জনের বড় দল

* উপরের রেট জ্বালানি ছাড়া আনুমানিক বাজার-ভিত্তিক হিসাব; বুকিং কনফার্মের সময় প্রতিষ্ঠানভেদে সামান্য ভিন্ন হতে পারে।

ছোট দূরত্বেও কেন মাইক্রোবাসই সেরা অপশন

মুন্সিগঞ্জ কাছের জেলা হলেও পরিবার বা দলগত ভ্রমণে গাড়ির ধরন বেছে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কার, মাইক্রোবাস আর বাসের মধ্যে তুলনা দেখে নিন।

🚗 প্রাইভেট কার

  • ১-৪ জনের ছোট দলের জন্য আদর্শ
  • দ্রুত ও সাশ্রয়ী ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ
  • বড় দলে একাধিক গাড়ি লাগবে

🚐 মাইক্রোবাস

  • ৫-১৪ জনের পরিবার বা অফিস দলের জন্য সেরা
  • একসাথে বসে ভ্রমণ, লাগেজের জায়গাও বেশি
  • মাথাপিছু খরচ কারের চেয়ে সাশ্রয়ী

🚌 কোস্টার বাস

  • ২০+ জনের বড় গ্রুপ ট্যুর বা কর্পোরেট ইভেন্টে উপযোগী
  • মাইক্রোবাসের চেয়ে বেশি লাগেজ ও যাত্রী ধারণক্ষমতা
  • ছোট দলের জন্য অপ্রয়োজনীয় বাড়তি খরচ

একা বা অল্প যাত্রী হলে কার ভাড়া নেওয়াই সাশ্রয়ী, আর ২০ জনের বেশি বড় দল হলে বাস ভাড়া সার্ভিস দেখুন।

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জের রুট ও দূরত্ব

সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার, রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি এটি। যাত্রাবাড়ী বা গুলিস্তান থেকে পোস্তগোলা সেতু পেরিয়ে মুক্তারপুর সেতু হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদরে পৌঁছাতে মাইক্রোবাসে সাধারণত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

ঢাকা (গুলিস্তান / যাত্রাবাড়ী)

মাইক্রোবাস পিকআপ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু

পোস্তগোলা সেতু

~৫ কিমি

বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে শ্যামপুর-কদমতলী দিয়ে দক্ষিণে যাত্রা

মুক্তারপুর সেতু (ধলেশ্বরী সেতু)

~১৫ কিমি

ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত সেতু পার হলেই মুন্সিগঞ্জ জেলার সীমানা শুরু

মুন্সিগঞ্জ সদর

~৬-৯ কিমি

মুক্তারপুর থেকে মুন্সিগঞ্জ শহরে পৌঁছে যাত্রা শেষ, চাইলে বিক্রমপুরের দর্শনীয় স্থানে সরাসরি চলে যাওয়া যায়

বড় গাড়ি হওয়ায় মাইক্রোবাসে যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা অংশের ব্যস্ত সময়ে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে, তবে মুক্তারপুর সেতু পার হওয়ার পর রাস্তা সাধারণত ফাঁকা থাকে।

বুকিং নিয়ম ও গ্রুপ ট্রিপের টিপস

  • দলের আকার আগে ঠিক করুন: ৭, ১১ নাকি ১৪ সিট লাগবে সেটা নিশ্চিত করে বুকিং দিলে সঠিক গাড়ি ও ভাড়া দুটোই নিশ্চিত হয়।
  • অনলাইনে বুকিং: chologari.com-এর ভাড়া চেক করুন পেজে গিয়ে সিট অনুযায়ী আনুমানিক ভাড়া জেনে সরাসরি বুকিং দেওয়া যায়।
  • পূর্ণদিবস রিজার্ভ: বিক্রমপুরের একাধিক দর্শনীয় স্থান ঘুরতে চাইলে ওয়ান-ওয়ে না নিয়ে পূর্ণদিবস রিজার্ভ নেওয়াই সাশ্রয়ী ও ঝামেলামুক্ত।
  • টোল ও জ্বালানি: মুক্তারপুর সেতুতে টোল দিতে হয়, তাই বুকিং কনফার্মের সময় টোল ও জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত কিনা জেনে নিন।
  • লাগেজের জায়গা: পিকনিক বা দিনভর ভ্রমণে খাবার-পানির ব্যাগ থাকলে আগেই লাগেজ স্পেস সম্পর্কে চালককে জানিয়ে রাখুন।

মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

পদ্মা, মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত মুন্সিগঞ্জ জেলা ঐতিহাসিকভাবে বিক্রমপুর নামে সুপরিচিত, আর এই নামটাই আজও গোটা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। ঐতিহাসিকদের মতে দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই জনপদকে তার রাজধানী বানিয়েছিলেন, ফলে পাল ও সেন আমলে বিক্রমপুর হয়ে ওঠে বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এই মাটি থেকেই বিশ্ববিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান জ্ঞান বিতরণের উদ্দেশ্যে তিব্বত যাত্রা করেছিলেন। ২০১৩ সালে রঘুরামপুর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া যায় একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ, যা “বিক্রমপুর বিহার” নামে পরিচিত এবং সেন আমলের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

পরবর্তী সুলতানি ও মুঘল যুগেও বিক্রমপুর তার প্রশাসনিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব ধরে রাখে। আধুনিক যুগে এসে এই অঞ্চল বিজ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার জন্যও পরিচিতি পায় — নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রপথিক স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পৈত্রিক ভিটা মুন্সিগঞ্জের রাড়িখাল গ্রামে অবস্থিত। আজ মাইক্রোবাসে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে গেলে একদিনেই এই হাজার বছরের ইতিহাসের অনেকটা ছুঁয়ে দেখা সম্ভব।

মুন্সিগঞ্জের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

দলবেঁধে গেলে মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে একদিনেই এই স্থানগুলো ঘুরে দেখা যায়, কারণ একটা গাড়িতেই পুরো দল স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারবে।

🏰

ইদ্রাকপুর কেল্লা

মুন্সিগঞ্জ শহরের ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত এই কেল্লা নির্মাণ করেন মুঘল সুবেদার মীর জুমলা, আনুমানিক ১৬৬০ সালে, নদীপথে জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণ ঠেকানোর প্রতিরক্ষা ঘাঁটি হিসেবে।

নির্মাণ: আনুমানিক ১৬৬০ | মীর জুমলা
🕍

সোনারং জোড়া শিব মন্দির

সিরাজদিখান উপজেলার সোনারং গ্রামে পাশাপাশি দুটি সুউচ্চ শিব মন্দির নির্মাণ করেন জমিদার কীর্তিনারায়ণ ভাদুড়ী, ১৮৮৯ সালে। টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ মন্দির দুটি বাংলার হিন্দু স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন।

নির্মাণ: ১৮৮৯ | কীর্তিনারায়ণ ভাদুড়ী
🕌

বাবা আদম শাহ মসজিদ

মুন্সিগঞ্জ সদরের রসুলপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ নির্মিত হয় ১৪৮৩ সালে, সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের শাসনামলে, বাংলাদেশের সুলতানি আমলের অন্যতম প্রাচীন সংরক্ষিত মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

নির্মাণ: ১৪৮৩ | সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের আমল
🪷

বিক্রমপুর বিহার (রঘুরামপুর)

২০১৩ সালে রঘুরামপুর গ্রামে খননের মাধ্যমে আবিষ্কৃত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি পাল-সেন আমলের একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ, যা সেন রাজবংশের রাজধানী বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

আবিষ্কার: ২০১৩ | পাল-সেন আমল

দলবেঁধে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণে মাইক্রোবাস বুক করুন

পরিবার, বন্ধু বা অফিসের দল নিয়ে বিক্রমপুরের ইতিহাস ঘুরে দেখতে আজই সিট অনুযায়ী মাইক্রোবাস রিজার্ভ করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া কত ২০২৬ সালে?
সিট সংখ্যা অনুযায়ী ভাড়া ভিন্ন। ৭ সিটের নোহায় ওয়ান-ওয়ে ৳২,৫০০-৩,০০০, ১১ সিটের হায়েসে ৳৩,৫০০-৪,০০০ এবং ১৪ সিটের বড় মাইক্রোবাসে ৳৪,৫০০-৫,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। পূর্ণদিবস রিজার্ভে ভাড়া কিছুটা বেশি হয়।
ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ কত কিলোমিটার?
সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি এটি।
কত জনের দলের জন্য কোন সাইজের মাইক্রোবাস দরকার?
৫-৭ জনের জন্য নোহা/প্রিমিও এসি (৭ সিট), ৮-১১ জনের জন্য হায়েস মাইক্রোবাস (১১ সিট), আর ১২-১৪ জনের দলের জন্য বড় মাইক্রোবাস (১৪ সিট) উপযোগী। ২০ জনের বেশি হলে কোস্টার বাস বিবেচনা করা ভালো।
মুন্সিগঞ্জে একদিনে দলবেঁধে ঘুরে দেখার মতো কী কী স্থান আছে?
ইদ্রাকপুর কেল্লা, বাবা আদম শাহ মসজিদ, সোনারং জোড়া শিব মন্দির এবং রঘুরামপুরের বিক্রমপুর বিহার — এই চারটি স্থান একটি মাইক্রোবাসে করে একদিনের ট্রিপে ঘুরে দেখা সম্ভব, বিশেষত পূর্ণদিবস রিজার্ভ নিলে।
ভাড়ার সাথে চালকের খরচ ও টোল কি অন্তর্ভুক্ত থাকে?
হ্যাঁ, সাধারণত চালকের খরচ ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে মুক্তারপুর সেতুর টোল কিছু ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে, তাই বুকিং কনফার্মের সময় স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া ভালো।

শেষ কথা

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে এখন আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য আছে — সিট অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা, রুট, বুকিং টিপস এবং বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। দলের আকার যেমনই হোক, সঠিক সাইজের মাইক্রোবাস বেছে নিলে যাত্রা হয়ে ওঠে আরও আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী। বুকিং বা কাস্টম গ্রুপ ট্রিপ প্ল্যান নিয়ে সহায়তার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন