🚗 চলো গাড়ি যেকোনো রুটের ভাড়া জানতে ভাড়া চেক করুন
🗺️ রুট গাইড · আপডেট জুলাই ২০২৬

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া ২০২৬ — কার, মাইক্রোবাস ও কোস্টারের সম্পূর্ণ রেট চার্ট

রাজধানীর সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি মুন্সিগঞ্জ, যা ঐতিহাসিকভাবে বিক্রমপুর নামে পরিচিত। এই লেখায় পাবেন গাড়ি ভাড়ার হালনাগাদ রেট, রুট, আর বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর গল্প — এক জায়গায়।

ঢাকা (গুলিস্তান/যাত্রাবাড়ী) পোস্তগোলা মুক্তারপুর সেতু মুন্সিগঞ্জ সদর
দূরত্ব
~২৬-২৯ কিমি
সময়
১–১.৫ ঘণ্টা
প্রাইভেট কার
৳২,০০০+ওয়ান-ওয়ে থেকে
মাইক্রোবাস
৳৩,৫০০+দিনপ্রতি থেকে

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া — দ্রুত উত্তর

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া সাধারণত গাড়ির ধরন ও ট্রিপের ধরনের (ওয়ান-ওয়ে বা পুরো দিন) ওপর নির্ভর করে ৳২,০০০ থেকে ৳৫,০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার, স্বাভাবিক ট্রাফিকে পৌঁছাতে সময় লাগে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। কাছের দূরত্ব হওয়ায় প্রাইভেট কারে দিনের যেকোনো সময় দ্রুত যাতায়াত করা যায়।

🚕

সেডান কার

৳২,০০০–২,৫০০
ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ
🚙

নোহা/প্রিমিও এসি

৳৩,০০০–৩,৫০০
ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ
🚐

মাইক্রোবাস (হায়েস)

৳৩,৫০০–৫,০০০
পূর্ণদিবস ভাড়া
⚠️ সতর্কতা: এই ভাড়াগুলো আনুমানিক গড় রেট, জ্বালানির দাম ও কোম্পানিভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। যাত্রার আগে ভাড়া চেক করুন পেজে গিয়ে বা সরাসরি কল করে চূড়ান্ত ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।

গাড়ির ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ দূরত্বে কম হলেও, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। নিচের তালিকায় সাধারণ বাজার-ভিত্তিক আনুমানিক রেট দেওয়া হলো।

গাড়ির ধরনওয়ান-ওয়েপূর্ণদিবস (রিজার্ভ)উপযোগী
সেডান কার (৪ সিট)৳২,০০০–২,৫০০৳৩,৫০০–৪,৫০০১–৩ জন যাত্রী
নোহা / প্রিমিও এসি৳৩,০০০–৩,৫০০৳৪,৫০০–৫,৫০০৩–৫ জন যাত্রী
মাইক্রোবাস (হায়েস, ১১ সিট)৳৩,৫০০–৪,৫০০৳৪,০০০–৫,৫০০পরিবার বা দলগত ভ্রমণ
কোস্টার বাস (২৯ সিট)৳৯,০০০–১১,০০০৳১১,০০০–১৩,০০০বড় গ্রুপ বা কর্পোরেট ট্যুর

* উপরের রেট জ্বালানি ছাড়া আনুমানিক বাজার-ভিত্তিক হিসাব; বুকিং কনফার্মের সময় প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জের রুট ও দূরত্ব

সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার, রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি এটি। যাত্রাবাড়ী বা গুলিস্তান থেকে পোস্তগোলা সেতু পেরিয়ে মুক্তারপুর সেতু হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদরে পৌঁছাতে সাধারণত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

ঢাকা (গুলিস্তান / যাত্রাবাড়ী)

যাত্রা শুরু

পোস্তগোলা সেতু

~৫ কিমি

বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে শ্যামপুর-কদমতলী দিয়ে দক্ষিণে যাত্রা

মুক্তারপুর সেতু (ধলেশ্বরী সেতু)

~১৫ কিমি

ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত এই সেতু পার হলেই মুন্সিগঞ্জ জেলার সীমানা শুরু

মুন্সিগঞ্জ সদর

~৬-৯ কিমি

মুক্তারপুর থেকে মুন্সিগঞ্জ শহরে পৌঁছে যাত্রা শেষ

যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা অংশে দিনের ব্যস্ত সময়ে যানজট হতে পারে, তবে মুক্তারপুর সেতু পার হওয়ার পর রাস্তা সাধারণত ফাঁকা ও মসৃণ থাকে।

বুকিং নিয়ম ও ভ্রমণের টিপস

  • অনলাইনে বুকিং: chologari.com-এর ভাড়া চেক করুন পেজে গিয়ে গাড়ির ধরন অনুযায়ী আনুমানিক ভাড়া জেনে সরাসরি বুকিং দেওয়া যায়।
  • ফোনে বুকিং: তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে সরাসরি কল করলেও দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে যায়, বিশেষত স্বল্প দূরত্বের এই রুটে।
  • দিনভিত্তিক রিজার্ভ: বিক্রমপুরের একাধিক দর্শনীয় স্থান ঘুরতে চাইলে ওয়ান-ওয়ে না নিয়ে পূর্ণদিবস রিজার্ভ নেওয়াই সাশ্রয়ী।
  • টোল ও জ্বালানি: মুক্তারপুর সেতুতে টোল দিতে হয়, তাই বুকিং কনফার্মের সময় টোল ও জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত কিনা জেনে নিন।

মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মুন্সিগঞ্জ জেলা ঐতিহাসিকভাবে বিক্রমপুর নামে পরিচিত এবং পদ্মা, মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত এই জনপদের ইতিহাস প্রায় হাজার বছরের পুরনো। দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই অঞ্চলকেই তার রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। রাজধানী থেকে অল্প দূরত্বে হলেও বিক্রমপুর অঞ্চল পাল ও সেন আমলের বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, আর এখান থেকেই বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বতে জ্ঞান বিতরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন বলে জানা যায়। ২০১৩ সালে রঘুরামপুর গ্রামে খননকাজ চালিয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন, যা “বিক্রমপুর বিহার” নামে পরিচিত এবং সেন আমলের রাজপ্রাসাদ বা বৌদ্ধ মঠের অংশ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

মধ্যযুগে সুলতানি ও মুঘল আমলেও বিক্রমপুর অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়। পরবর্তীতে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে এই অঞ্চল শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার জন্যও পরিচিতি পায় — বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পৈত্রিক ভিটা মুন্সিগঞ্জের রাড়িখাল গ্রামে অবস্থিত, যা আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।

মুন্সিগঞ্জের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

এই স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে গাড়ি রিজার্ভ করে একদিনেই বিক্রমপুরের ইতিহাস ঘুরে আসা সম্ভব।

🏰

ইদ্রাকপুর কেল্লা

মুন্সিগঞ্জ শহরের ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত এই কেল্লাটি নির্মাণ করেন মুঘল সুবেদার মীর জুমলা, আনুমানিক ১৬৬০ সালে, নদীপথে জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণ ঠেকানোর প্রতিরক্ষা ঘাঁটি হিসেবে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত এই স্থাপনা মুন্সিগঞ্জের অন্যতম পরিচিত মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন।

নির্মাণ: আনুমানিক ১৬৬০ | মীর জুমলা
🕍

সোনারং জোড়া শিব মন্দির

সিরাজদিখান উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি সুউচ্চ শিব মন্দির স্থানীয় জমিদার কীর্তিনারায়ণ ভাদুড়ী নির্মাণ করেন ১৮৮৯ সালে। টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ এই মন্দির দুটি বাংলার হিন্দু স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

নির্মাণ: ১৮৮৯ | কীর্তিনারায়ণ ভাদুড়ী
🕌

বাবা আদম শাহ মসজিদ

মুন্সিগঞ্জ সদরের রসুলপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ নির্মিত হয় ১৪৮৩ সালে, সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের শাসনামলে। এটি বাংলাদেশের সুলতানি আমলের অন্যতম প্রাচীন ও সংরক্ষিত মসজিদ, যার পোড়ামাটির অলংকরণ ইতিহাসপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

নির্মাণ: ১৪৮৩ | সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের আমল
🪷

বিক্রমপুর বিহার (রঘুরামপুর)

২০১৩ সালে রঘুরামপুর গ্রামে খননের মাধ্যমে আবিষ্কৃত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি পাল-সেন আমলের একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ বলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, যা সেন রাজবংশের রাজধানী বিক্রমপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে। এটি এখন একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

আবিষ্কার: ২০১৩ | পাল-সেন আমল

মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণের জন্য গাড়ি বুক করুন

একদিনে বিক্রমপুরের ইতিহাস ঘুরে দেখতে বা মুন্সিগঞ্জে ব্যক্তিগত-কর্পোরেট যাতায়াতে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া নিন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া কত ২০২৬ সালে?
সেডান কারে ওয়ান-ওয়ে ভাড়া সাধারণত ৳২,০০০ থেকে ৳২,৫০০, আর মাইক্রোবাসে পূর্ণদিবস ভাড়া ৳৩,৫০০ থেকে ৳৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। জ্বালানি ও কোম্পানিভেদে এই ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ কত কিলোমিটার?
সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২৬ থেকে ২৯ কিলোমিটার। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলাগুলোর একটি এটি।
ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ যেতে কত সময় লাগে?
প্রাইভেট গাড়িতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। যাত্রাবাড়ী বা পোস্তগোলা অংশে যানজট থাকলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
মুন্সিগঞ্জে একদিনে ঘুরে দেখার মতো কী কী স্থান আছে?
ইদ্রাকপুর কেল্লা, বাবা আদম শাহ মসজিদ, সোনারং জোড়া শিব মন্দির এবং রঘুরামপুরের বিক্রমপুর বিহার — এই চারটি স্থান একসাথে একদিনের ট্রিপে ঘুরে দেখা সম্ভব, বিশেষত পূর্ণদিবস গাড়ি রিজার্ভ নিলে।
মুন্সিগঞ্জ কেন বিক্রমপুর নামে পরিচিত?
দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন এই অঞ্চলকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আর সেই সময় থেকেই এলাকাটি বিক্রমপুর নামে পরিচিতি পায়, যা আজও স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।

শেষ কথা

ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ গাড়ি ভাড়া নিয়ে এখন আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য আছে — ভাড়ার তালিকা, রুট, বুকিং টিপস এবং বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। কাছের দূরত্ব হওয়ায় দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা সম্ভব, তাই ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমী হোন বা প্রয়োজনীয় যাতায়াতে বের হোন, একটা আরামদায়ক গাড়িই যথেষ্ট। বুকিং বা কাস্টম ট্রিপ প্ল্যান নিয়ে সহায়তার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন