হোম › ব্লগ › ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া: কাউন্টার নাম্বার ও রুট গাইড
গারো পাহাড় ঘেঁষা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসমৃদ্ধ জেলা শেরপুরে যাওয়ার আগে সঠিক বাস ভাড়া, কাউন্টার নাম্বার ও জেলার ঐতিহ্য জেনে নিন।
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া বাসের শ্রেণি ও কাউন্টার অনুযায়ী ভিন্ন হয় — নন-এসি বা কমিউনিটি বাসে আনুমানিক ৳৩৫০–৫০০ এবং এসি বাসে ৳৫০০–৬০০ পর্যন্ত ভাড়া পড়তে পারে। সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২০৩ কিলোমিটার, ময়মনসিংহ হয়ে এই পথে সময় লাগে সাধারণত ৫–৬ ঘণ্টা।
* দূরত্ব ও ভাড়া একাধিক পরিবহন সোর্স থেকে ক্রস-চেক করে নেওয়া। কাউন্টার ও সময়সূচি পরিবর্তনশীল হতে পারে — যাত্রার আগে ফোন করে নিশ্চিত করে নিন।
ঢাকা থেকে শেরপুর রুট: পথের বিবরণ
ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে জামালপুরের ভেতর দিয়ে শেরপুরে পৌঁছাতে হয় — এই রুটে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শহর প্রধান বিরতিস্থল।
ঢাকা → গাজীপুর
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে যাত্রা শুরু।
গাজীপুর → ময়মনসিংহ
~১২৫ কিমি, মহাসড়কের প্রধান অংশ।
ময়মনসিংহ → শেরপুর
জামালপুরের ভেতর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো।
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া ও কাউন্টার নাম্বার
এই রুটে সরকারি-বেসরকারি একাধিক কমিউনিটি বাস সার্ভিস চলাচল করে — শেরপুর চেম্বার অফ কমার্স, ক্রীড়া সংস্থা ও BRTC-র বাস সবচেয়ে জনপ্রিয়।
* উপরের কাউন্টার নাম্বার ও সময়সূচি একাধিক যাত্রা-তথ্য সোর্স থেকে সংগ্রহ করা। নাম্বার ও সময় পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই টিকিট কাটার আগে সরাসরি কল করে নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
বাস টিকিট নাকি পুরো গাড়ি ভাড়া — গ্রুপের জন্য কোনটি সাশ্রয়ী?
বাস টিকিট (৳৩৫০–৬০০) সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং কাউন্টারভিত্তিক সময়সূচিও সুবিধাজনক।
প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে দরজা থেকে দরজা সেবা পাওয়া যায়, গজনী অবকাশ বা মধুটিলা ইকোপার্ক ঘুরতে চাইলে এটাই সুবিধাজনক।
🚐 গ্রুপ নিয়ে শেরপুর যাচ্ছেন?
প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা বড় বাস — আপনার গ্রুপের সাইজ অনুযায়ী সঠিক গাড়ি বেছে নিন।
বাস টিকিট কীভাবে বুক করবেন?
- ১
উপরের তালিকা থেকে কাউন্টার বেছে নিন — পিকআপ পয়েন্ট ও সময় অনুযায়ী।
- ২
কাউন্টার নাম্বারে কল করুন — সিট খালি আছে কিনা ও ভাড়া নিশ্চিত করে নিন।
- ৩
টিকিট বুক করুন — অনেক কাউন্টার ফোনেই সিট বুক করে রাখে।
- ৪
যাত্রার ৩০ মিনিট আগে পৌঁছান — নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ে।
শেরপুর জেলার ইতিহাস, নামকরণ ও ঐতিহ্য
শেরপুর শুধু একটি গন্তব্য নয় — মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর মুঘল-পূর্ববর্তী স্থাপত্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা, যেখানে প্রকৃতি ও ইতিহাস একসাথে মিশে আছে।
প্রশাসনিক ইতিহাস
শেরপুর আগে ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার একটি থানা ছিল। ১৯৭৮ সালে এটি জামালপুর জেলার একটি মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হয়, এবং ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। আকর্ষণীয় তথ্য হলো, ১৮২৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শেরপুর ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল।
শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় — এটি দেশের অন্যতম পুরনো পৌরসভাগুলোর একটি।
জমিদারী ইতিহাস
শেরপুর শহরে তিনটি উল্লেখযোগ্য জমিদার বাড়ি আছে — আড়াই আনী, পৌনে তিন আনী ও নয়আনী জমিদার বাড়ি (নামগুলো তাদের রাজস্ব ভাগের অনুপাত অনুযায়ী)। পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়িটি জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর দ্বারা নির্মিত।
এলাকা ও ভৌগোলিক পরিচয়
শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার। জেলাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত, যা একে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর করে তুলেছে।
শেরপুরে পৌঁছে কোথায় ঘুরবেন?
🏔️ গজনী অবকাশ কেন্দ্র
ঝিনাইগাতী উপজেলায় গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র — পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
🌳 মধুটিলা ইকোপার্ক
ঘন সবুজ বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর জন্য পরিচিত একটি প্রাকৃতিক পার্ক, প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য।
🕌 মঠ লস্কর বাড়ী মসজিদ
১৮০৮ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদ, স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত।
🕌 শাহ কামালের মাজার
১৬৪৪ সালের এই মাজার শেরপুরের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে।
🏛️ পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর নির্মিত ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি, শহরেই অবস্থিত।
🕋 শের আলী গাজীর মাজার
শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে গাজীর খামারে অবস্থিত, স্থানীয়ভাবে “গাজীর দরগা” নামে পরিচিত।
* ইতিহাস সংক্রান্ত তথ্য প্রচলিত সূত্র থেকে নেওয়া, স্থানীয়ভাবে কিছু তথ্যে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে।
ঢাকা টু শেরপুর টিকিট কাটার সময় যে ভুল এড়াবেন
- পুরনো কাউন্টার নাম্বার যাচাই না করে কল করা: নাম্বার বদলে যেতে পারে, যাত্রার আগে অবশ্যই নিশ্চিত করুন।
- ছুটির সময় শেষ মুহূর্তে টিকিট খোঁজা: সীমিত সিট সংখ্যার কমিউনিটি বাসে ছুটির সময় সিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
- রাতের যাত্রায় দামি জিনিস অসতর্কভাবে রাখা: মূল্যবান জিনিস সবসময় নিজের কাছে রাখুন।
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া নিয়ে যা সবাই জানতে চান
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া কত টাকা?
নন-এসি বা কমিউনিটি বাসে আনুমানিক ৳৩৫০–৫০০ এবং এসি বাসে ৳৫০০–৬০০ পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে, কাউন্টার ও সিট ক্লাস অনুযায়ী।
ঢাকা থেকে শেরপুরের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২০৩ কিলোমিটার, ময়মনসিংহ ও জামালপুর হয়ে।
ঢাকা থেকে শেরপুর বাসে যেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত ৫–৬ ঘণ্টা সময় লাগে, ট্রাফিক অনুযায়ী কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
শেরপুর কবে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৯৭৮ সালে জামালপুরের মহকুমা হিসেবে ঘোষিত হয়, এবং ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়।
গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে কোন কাউন্টারে কল করব?
গুলিস্তান থেকে চেম্বার-১ (01715814725) বা উইমেন চেম্বার (01300823515), আর মহাখালী থেকে 01711589725 নাম্বারে যোগাযোগ করা যায়। কল করার আগে নাম্বার একবার যাচাই করে নিন।
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়ার মূল বিষয়
ঢাকা টু শেরপুর বাস ভাড়া নন-এসিতে ৳৩৫০–৫০০ এবং এসিতে ৳৫০০–৬০০ পর্যন্ত হতে পারে। সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২০৩ কিমি এবং সময় ৫–৬ ঘণ্টা। শেরপুর ১৮৬৯ সালের পৌরসভা প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯৮৪ সালে জেলা হওয়া পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী একটি জেলা।
- একাধিক কাউন্টার — গুলিস্তান, মহাখালী ও মতিঝিল থেকে বাস ছাড়ে।
- একা বা দুইজনের জন্য বাস টিকিটই সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
- ৪+ জনের গ্রুপে প্রাইভেট গাড়ি বা মাইক্রোবাস বিবেচনা করুন।
- গজনী অবকাশ ও মধুটিলা ইকোপার্ক — শেরপুরের অবশ্যদর্শনীয় স্থান।
গ্রুপ বা পরিবার নিয়ে শেরপুর যেতে চাইলে Chologari.com-এর মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া সার্ভিস দেখুন, অথবা এখনই ভাড়া চেক করুন।