এসি-নন এসি ভাড়ার তালিকা, দূরত্ব, ভ্রমণ সময়, বাস কাউন্টার নম্বর ও টিকিট বুকিং সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায়।
ঢাকা টু নোয়াখালী বাস ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী গুগলে সার্চ করেন, কারণ কাউন্টারভেদে ভাড়ার পার্থক্য থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। নোয়াখালীগামী এই রুটটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কুমিল্লা ও লাকসাম হয়ে চৌমুহনী ও মাইজদী কোর্ট পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। এই লেখায় নন-এসি ও এসি বাসের হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, দূরত্ব-সময়ের হিসাব, কাউন্টার নম্বর এবং ভ্রমণের ব্যবহারিক পরামর্শ ধাপে ধাপে দেওয়া হলো, যাতে যাত্রার আগে কাউন্টারে বারবার ফোন করতে না হয়।
সংক্ষেপে: ঢাকা টু নোয়াখালী নন-এসি বাসের ভাড়া ৩৫০-৫৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৭০০-১,২০০ টাকা-র মধ্যে ওঠানামা করে। দূরত্ব প্রায় ১৭৩-১৭৫ কিলোমিটার এবং স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছাতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ঈদ বা উৎসবকালীন সময়ে ভাড়া সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
নিচে রুটে চলাচলকারী প্রধান পরিবহন সংস্থাগুলোর আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো। জ্বালানি তেলের দাম ও মৌসুমভেদে ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে বলে যাত্রার দিন কাউন্টারে একবার নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
| বাসের নাম | ভাড়া |
|---|---|
| হিমাচল এক্সপ্রেস | ৪০০-৫০০ টাকা |
| একুশে এক্সপ্রেস | ৪০০-৫০০ টাকা |
| লাল সবুজ পরিবহন | ৪০০-৪৫০ টাকা |
| কে কে ট্রাভেলস | ৪০০-৪৫০ টাকা |
| আল বারাকা এক্সক্লুসিভ | ৪০০-৪৫০ টাকা |
| জাহাঙ্গীর পরিবহন | ৩৫০-৪০০ টাকা |
| বাসের নাম | ভাড়া |
|---|---|
| গ্রামীণ ট্রাভেলস (ই-ক্লাস) | ৮০০ টাকা |
| একুশে এক্সপ্রেস (এসি) | ৫৫০-৭০০ টাকা |
| হিমাচল এক্সপ্রেস (এসি) | ৫৫০-৭০০ টাকা |
| প্রিমিয়াম এসি কোচ সার্ভিস | ৯০০-১,২০০ টাকা |
মনে রাখবেন: ঈদ, পূজা বা যেকোনো বড় উৎসবের আগে-পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব কোম্পানিই সাময়িকভাবে ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। এই সময় আগে থেকে টিকিট বুক করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঢাকা থেকে নোয়াখালীর সড়কপথে মোট দূরত্ব প্রায় ১৭৩-১৭৫ কিলোমিটার। বাসগুলো সাধারণত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কুমিল্লা পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে লাকসাম হয়ে নোয়াখালীর সড়কে প্রবেশ করে। স্বাভাবিক যানজটবিহীন অবস্থায় পুরো যাত্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে মহাসড়কে যানজট থাকলে সময় বাড়তে পারে।
ঢাকা টু নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী পরিবহন সংস্থাগুলোর সদরঘাট, সায়েদাবাদ ও কমলাপুর এলাকায় নিজস্ব কাউন্টার রয়েছে। যাত্রার আগে নিচের কোম্পানিগুলোর নিকটস্থ কাউন্টারে সরাসরি যোগাযোগ করে আসন নিশ্চিত করে নিন:
সঠিক ও সবশেষ কাউন্টার নম্বরের জন্য চলোগাড়ির সাপোর্ট টিমের সাথে যোগাযোগ করুন — তারা আপনাকে নিকটস্থ কাউন্টার ও হালনাগাদ সময়সূচি জানিয়ে সাহায্য করতে পারবে।
বর্তমানে বেশিরভাগ বড় পরিবহন সংস্থা অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা দিচ্ছে, ফলে কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমে এসেছে। বুকিং করার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
যদি সরাসরি বাসের বদলে নিজের সুবিধামতো সময়ে ভাড়া যাচাই করতে চান, তাহলে চলোগাড়ির ভাড়া যাচাই টুল ব্যবহার করে দ্রুত সম্ভাব্য খরচের একটি ধারণা নিতে পারেন।
অনেকেই জানতে চান কেন একই রুটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভাড়ার তারতম্য দেখা যায়। মূলত নিচের কারণগুলোর জন্যই এই পরিবর্তন হয়ে থাকে:
পরিবার নিয়ে বা বড় কোনো দলের সঙ্গে ভ্রমণ করলে অনেক সময় লোকাল বাসের বদলে পুরো গাড়ি ভাড়া করাই বেশি সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। ৪-৫ জনের ছোট পরিবারের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া নেওয়া যেতে পারে, আর ৮-১২ জনের গ্রুপের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী চলাচলের সুযোগ দেয়। এতে পথে ইচ্ছেমতো বিরতি নেওয়া যায় এবং কাউন্টারের নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বড় কোনো আয়োজন বা পিকনিকের জন্য পুরো বাসই ভাড়া নিতে চাইলে বাস ভাড়া সার্ভিসের তথ্যও দেখে নিতে পারেন।
নন-এসি বাসের ভাড়া ৩৫০-৫৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৭০০-১,২০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। কোম্পানি ও মৌসুমভেদে এই ভাড়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৭৩-১৭৫ কিলোমিটার, যা কুমিল্লা ও লাকসাম হয়ে অতিক্রম করতে হয়।
স্বাভাবিক অবস্থায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। মহাসড়কে যানজট থাকলে সময় বাড়তে পারে।
হিমাচল এক্সপ্রেস, একুশে এক্সপ্রেস, লাল সবুজ পরিবহন, কে কে ট্রাভেলস, আল বারাকা এক্সক্লুসিভ, জাহাঙ্গীর পরিবহন ও গ্রামীণ ট্রাভেলসের বাস নিয়মিত চলাচল করে।
হ্যাঁ, বেশিরভাগ পরিবহন সংস্থার টিকিট সরাসরি কাউন্টার থেকে অথবা তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাটা যায়।
বাস কাউন্টার নম্বর, লাইভ ভাড়া হালনাগাদ বা প্রাইভেট গাড়ি বুকিং সংক্রান্ত যেকোনো সাহায্যের জন্য চলোগাড়ির টিমের সাথে যোগাযোগ করুন।
ভাড়া যাচাই করুন যোগাযোগ করুন