ঢাকা টু মৌলভীবাজার বাস ভাড়া নির্ভর করে বাসের ধরন — এসি না নন-এসি — তার ওপর, এবং সাধারণত ৩৫০ থেকে ১,১০০ টাকার মধ্যে থাকে। এই গাইডে পাবেন হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, দূরত্ব, প্রতিটি পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার নম্বর, এবং মৌলভীবাজারের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত তথ্য — এক জায়গায়।
সড়কপথে ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের দূরত্ব প্রায় ২০৩ কিলোমিটার (কিছু কাউন্টার-ভিত্তিক হিসাবে ২০০–২১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠানামা করে, কারণ রুট ও সঠিক কাউন্টার লোকেশন ভেদে দূরত্বে সামান্য পার্থক্য হয়)। স্বাভাবিক ট্রাফিকে বাসে যেতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা; রাতের বাসে বা কম যানজটে সেটা কমেও আসতে পারে।
বেশিরভাগ বাস ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে ভৈরব ও হবিগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারে পৌঁছায়। কিছু বাস মৌলভীবাজার হয়ে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত এবং কোনো কোনোটি আরও দূরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করে, তাই টিকিট কাটার সময় গন্তব্য স্পষ্ট করে বলাই ভালো।
বাসের মান, সিটের ধরন ও কোম্পানিভেদে ভাড়ায় পার্থক্য থাকে। নিচের তালিকাটি সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি — তবে জ্বালানি মূল্য বা মৌসুম অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
| বাসের ধরন | আনুমানিক ভাড়া | উদাহরণ |
|---|---|---|
| নন-এসি (সাধারণ সিটিং) | ৳৩৫০ – ৳৪৫০ | শ্যামলী, হানিফ সাধারণ সার্ভিস |
| নন-এসি সুপার সেলুন / চেয়ার কোচ | ৳৫৫০ – ৳৬৫০ | হানিফ হিনো AK1J সুপার সেলুন |
| এসি বাস | ৳৭০০ – ৳৮০০ | শ্যামলী পরিবহন এসি সার্ভিস |
| এসি (প্রিমিয়াম/হিনো RM-2) | ৳১,০০০ – ৳১,১০০ | হানিফ এন্টারপ্রাইজ এসি |
সূত্র: পরিবহন কোম্পানির সাধারণ ভাড়া তালিকা ও যাত্রী তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত। চূড়ান্ত ভাড়ার জন্য টিকিট কাটার আগে কাউন্টারে যোগাযোগ করুন।
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার রুটে একাধিক পরিবহন কোম্পানি নিয়মিত সার্ভিস দেয়। সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, আরামবাগ, গাবতলী ও মহাখালী — এই কয়েকটি পয়েন্ট থেকেই বেশিরভাগ বাস ছেড়ে যায়। নিচে প্রতিটি কোম্পানির যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হলো, যাতে সরাসরি ফোন করে সময়সূচী ও সিট নিশ্চিত করে নিতে পারেন।
| পরিবহনের নাম | ফোন নম্বর | ঢাকা প্রান্তের কাউন্টার |
|---|---|---|
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | ০১৭১১-৯২২৪১৭ | সায়েদাবাদ, গাবতলী, কল্যাণপুর |
| শ্যামলী পরিবহন | ০১৭১১-৯৯৬৯৬৫ | সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, গাবতলী, এয়ারপোর্ট |
| সিলেট এক্সপ্রেস | ০১৭১৩-৮০৭০৬৯ | সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, আরামবাগ |
| মৌলভীবাজার সিটি | ০১৭১৬-২৯১১১২ | সায়েদাবাদ |
| টিআর ট্রাভেলস | ০১৭১২-৫১৬৩৭৮ | সায়েদাবাদ |
| রূপসী বাংলা | ০১৭১৩-৮০৭০৬৯ | সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল |
| তাজ পরিবহন | ০১৭১৬-৩৮৭৯৩১ | সায়েদাবাদ, আরামবাগ |
যোগাযোগের আগে মনে রাখবেন: ফোন নম্বর ও কাউন্টার লোকেশন সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে। বুকিংয়ের আগে অন্তত একবার কল করে সিট খালি আছে কিনা এবং ভাড়া নিশ্চিত করে নিন — বিশেষত ঈদ, পূজা বা বন্ধের মৌসুমে।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের বাস ছাড়ে, তাই কর্মদিবসের সকালের ট্রিপ বা রাতের কোচ — দুটোই সহজে পাওয়া যায়।
পরিবার নিয়ে, একাধিক লাগেজ সহ, অথবা নিজেদের সময়সূচী অনুযায়ী থামতে থামতে ভ্রমণ করতে চাইলে গণপরিবহনের বদলে চালকসহ প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া অনেকের কাছে বেশি আরামদায়ক মনে হয়। এই ধরনের ভ্রমণে গাড়ির ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কার ভাড়া বাংলাদেশ বা বড় দলের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস পেজ দেখে নিতে পারেন। ঢাকায় নামা বা রওনা হওয়া বিমানযাত্রীদের জন্য আলাদাভাবে এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার সার্ভিসও রয়েছে।
মৌলভীবাজার নামটির পেছনে রয়েছে একজন ব্যক্তির নাম থেকে গড়ে ওঠা বাজারের গল্প। হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর অন্যতম সহচর হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ)-এর বংশধর মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লা মনু নদীর তীরে ১৮১০ সালে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে সেই বাজারটি প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তাঁর নাম অনুসারেই এলাকাটি পরিচিতি পায় “মৌলভীবাজার” নামে।
মৌলভীবাজার সিলেট বিভাগের একটি সীমান্তবর্তী জেলা — পূর্ব ও দক্ষিণে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য, উত্তরে সিলেট এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলা এর সীমানা। জেলাটির আয়তন প্রায় ২,৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার।
মৌলভীবাজার শুধু চা-বাগানের জেলা নয় — এখানে বসবাস করে মণিপুরী, খাসিয়া ও টিপরাসহ একাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও উৎসব আজও জীবন্ত। রাসনৃত্য, মৃদঙ্গনৃত্য, করম পূজা ও ধামাইল গানের মতো লোকসংস্কৃতি এই জেলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মণিপুরী জনগোষ্ঠী তাদের বিখ্যাত রাসনৃত্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদরে তাদের ঘন বসতি এবং সমৃদ্ধ তাঁত-শিল্প রয়েছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবকুণ্ডের আশপাশে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বসতি (পুঞ্জি) গড়ে উঠেছে, যারা পান চাষে দক্ষ ও নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রেখেছে।
চা-বাগানের সবুজ, পাহাড়ি জলপ্রপাত আর জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য মিলিয়ে মৌলভীবাজার পর্যটকদের কাছে সিলেট বিভাগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাসে মৌলভীবাজার পৌঁছে এই জায়গাগুলো এক ট্রিপেই ঘুরে দেখা সম্ভব।
কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই বনভূমি মূলত পূর্বনাম “পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন” ছিল। ব্রিটিশ সরকার ১৯২৫ সালে এখানে বনায়ন শুরু করে, যা কালক্রমে ঘন চিরহরিৎ বনে রূপ নেয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালের গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১,২৫০ হেক্টর আয়তনের এই বনকে “জাতীয় উদ্যান” ঘোষণা করে। বিপন্নপ্রায় উল্লুকের জন্য এই বন বিশেষভাবে পরিচিত।
বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে অবস্থিত মাধবকুণ্ড বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত, উচ্চতা প্রায় ১৬২ ফুট। জলপ্রপাতটিকে ঘিরে সরকারি উদ্যোগে ২৬৭ একর এলাকা নিয়ে ২০০১ সালে গড়ে তোলা হয় মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক। প্রতি বছর চৈত্র মাসে এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বারুণী স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই স্থানকে প্রাকৃতিক ও ধর্মীয় — দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাওর, শীতকালে যেখানে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। হাইল হাওরের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা বাইক্কা বিল একটি সংরক্ষিত মৎস্য ও পাখির অভয়াশ্রম, যা প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
“চায়ের রাজধানী” নামে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চা চাষের কেন্দ্র। বিস্তীর্ণ চা-বাগানের মাঝে অবস্থিত মাধবপুর লেক ও এর আশপাশের চা-বাগান পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, বিশেষত সবুজ টিলার বুকে ছড়িয়ে থাকা লেকের প্রতিচ্ছবির জন্য।
হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর সহচর হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ)-এর মাজার মৌলভীবাজার সদরে অবস্থিত এবং জেলার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর এখানে শাহ মোস্তফা মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবার বা দলবেঁধে মৌলভীবাজার ভ্রমণে চালকসহ গাড়ি প্রয়োজন হলে চলো গাড়ির সাথে যোগাযোগ করুন — ভাড়া জেনে নিন আগেভাগেই।
ভাড়া চেক করুন