ঢাকা টু কুষ্টিয়া বাস ভাড়া ২০২৬ — সম্পূর্ণ রেট ও সময়সূচি গাইড
🚌 চলো গাড়ি যেকোনো রুটের ভাড়া জানতে ভাড়া চেক করুন
🎫 রুট গাইড · আপডেট জুলাই ২০২৬

ঢাকা টু কুষ্টিয়া বাস ভাড়া ২০২৬ — নন-এসি ও এসি বাসের সম্পূর্ণ রেট চার্ট

পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর-রাজবাড়ী রুটে চলাচলকারী সব কোম্পানির ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচি ও কাউন্টার নম্বর — এক পাতায়, ঝামেলা ছাড়াই।

ঢাকা মাওয়া ভাঙ্গা ফরিদপুর রাজবাড়ী কুষ্টিয়া
দূরত্ব
~২১২ কিমি
সময়
৪–৫ ঘণ্টা
নন-এসি
৳৫০০প্রতি সিট থেকে
এসি
৳৮০০প্রতি সিট থেকে
পদ্মা সেতু চালুর পর রুট ছোট হয়ে যাওয়ায় তথ্য যাচাই করে হালনাগাদ করা হয়েছে

ঢাকা টু কুষ্টিয়া বাস ভাড়া — দ্রুত তালিকা Quick Answer

ঢাকা টু কুষ্টিয়া বাস ভাড়া সাধারণত বাসের ধরনের ওপর নির্ভর করে ৳৫০০ থেকে ৳১,২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। নন-এসি বাসে ভাড়া পড়ে ৳৫০০–৬৫০, আর এসি বা বিজনেস ক্লাস বাসে ভাড়া ৳৮০০–১,২০০ পর্যন্ত হতে পারে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ফেরি পারাপারের ঝামেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় যাত্রার সময় ও ভোগান্তি দুটোই অনেকটা কমে গেছে।

🚌

নন-এসি বাস

৳৫০০–৬৫০
প্রতি সিট, সাধারণ কোচ
❄️

এসি বাস

৳৮০০–১,০০০
প্রতি সিট, এসি কোচ
💺

বিজনেস / হুন্দাই এসি

৳১,০০০–১,২০০
প্রিমিয়াম সার্ভিস
⚠️ সতর্কতা: ঈদ, পূজা বা কোরবানির ছুটির মৌসুমে ভাড়া ১৫–৩০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামাতেও ভাড়ায় প্রভাব পড়ে। যাত্রার আগে কাউন্টারে কল করে চূড়ান্ত ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।

কোম্পানিভিত্তিক বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া রুটে হানিফ, শ্যামলী, জেআর পরিবহন, এসপি সুপার ডিলাক্স ও এনা পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির বাস নিয়মিত চলাচল করে। নিচের তালিকায় প্রতিটি কোম্পানির আনুমানিক নন-এসি ও এসি ভাড়া দেওয়া হলো।

বাস কোম্পানিনন-এসি ভাড়াএসি ভাড়াবৈশিষ্ট্য
হানিফ এন্টারপ্রাইজ৳৫০০৳১,০০০একাধিক ট্রিপ, বহু কাউন্টার
শ্যামলী পরিবহন৳৫০০৳১,০০০নিয়মিত সময়সূচি
জেআর পরিবহন৳৫০০৳৮০০কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রুটে জনপ্রিয়
এসপি সুপার ডিলাক্স৳৫০০৳৮০০সাশ্রয়ী এসি বিকল্প
এনা পরিবহন৳৫০০৳৮০০উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের কাছে পরিচিত

* ভাড়া কাউন্টার, সিটের অবস্থান ও মৌসুমভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে।

ঢাকা টু কুষ্টিয়ার দূরত্ব ও রুট

সড়কপথে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দূরত্ব পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ২১২ কিলোমিটার। আগে আরিচা ফেরিঘাট হয়ে যেতে হলে এই দূরত্ব ও সময় দুটোই অনেক বেশি লাগত, কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার যাত্রাবাড়ী বা গাবতলী থেকে মাওয়া-ভাঙ্গা-ফরিদপুর-রাজবাড়ী হয়ে কুষ্টিয়া পৌঁছাতে সাধারণত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

ঢাকা (গাবতলী / কল্যাণপুর / যাত্রাবাড়ী)

যাত্রা শুরু

মাওয়া — পদ্মা সেতু

~৪৫ কিমি

ঢাকার যানজট পেরিয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে নদী পার হওয়া, যাত্রার সবচেয়ে দ্রুত অংশ

ভাঙ্গা → ফরিদপুর

~৭০ কিমি

ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে ফরিদপুরের দিকে মহাসড়ক ধরে চলা

রাজবাড়ী

~৭০ কিমি

ফরিদপুর পেরিয়ে রাজবাড়ী জেলার ভেতর দিয়ে যাত্রা

কুষ্টিয়া শহর

~২৫ কিমি

রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছে যাত্রা শেষ

বর্ষার সময় বা ছুটির দিনে মাওয়া অংশে সামান্য যানজট হতে পারে, তবে বাকি পথ সাধারণত মসৃণ থাকে।

সময়সূচি ও ঢাকার কাউন্টার

ঢাকা টু কুষ্টিয়া রুটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ পাওয়া যায়। বেশিরভাগ বাস ছাড়ে গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে, আর কিছু কোম্পানির কাউন্টার আছে সায়েদাবাদেও।

বাস কোম্পানিছাড়ার সময়কাউন্টার (ঢাকা)
হানিফ এন্টারপ্রাইজসকাল ৭:০০ – রাত ১১:০০গাবতলী, কল্যাণপুর
শ্যামলী পরিবহনসকাল ৮:০০ – রাত ১০:৩০কল্যাণপুর, গাবতলী
জেআর পরিবহনসকাল ৮:৩০ – রাত ১০:০০গাবতলী
এনা পরিবহনসকাল ৭:৩০ – রাত ১১:০০গাবতলী, কল্যাণপুর

টিকিট কাটার নিয়ম

  • অনলাইনে: Shohoz.com বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আগে থেকেই সিট বুক করা যায়।
  • কাউন্টারে সরাসরি: গাবতলী বা কল্যাণপুরে গিয়ে সরাসরি টিকিট কাটা যায়, তবে ছুটির মৌসুমে অন্তত একদিন আগে কাটাই ভালো।
  • ফোনে বুকিং: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট সংগ্রহ না করলে সিট বাতিল হয়ে যেতে পারে, তাই নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছানো উচিত।

যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

যাত্রার আগে

  • সকালের বাস বেছে নিলে দিনের আলোয় পদ্মা সেতুর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
  • হালকা লাগেজ নিন, বাসের নিচের বক্সে রাখা লাগেজে অবশ্যই তালা দিন।
  • পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন, পথের বিরতিতে খাবারের মান সবসময় ভালো নাও হতে পারে।

কুষ্টিয়ায় পৌঁছে

কুষ্টিয়া শহরের মূল বাস স্ট্যান্ডে বাস থামার পর সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় সহজেই শহরের যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়। লালন শাহের মাজার বা কুমারখালী দেখতে চাইলে স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করাই সুবিধাজনক।

বাস বনাম প্রাইভেট কার/মাইক্রোবাস — কোনটা আপনার জন্য সঠিক?

🚌 বাস — সেরা যখন

  • একা বা ২–৩ জন যাচ্ছেন
  • বাজেট সীমিত রাখতে চান
  • নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলতে পারেন

🚗 কার/মাইক্রোবাস — সেরা যখন

  • পরিবার বা ৪+ জন একসাথে যাচ্ছেন
  • নিজের সময়মতো রওনা দিতে চান
  • পথে ইচ্ছেমতো থামার স্বাধীনতা দরকার

দলবেঁধে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে মাথাপিছু খরচ বাসের কাছাকাছি বা কম পড়তে পারে, আর একান্ত পারিবারিক ভ্রমণে প্রাইভেট কার ভাড়া নিলে যাত্রা হয় অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরিবিলি।

আপনার নির্দিষ্ট থানার সঠিক ভাড়া যাচাই করুন

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার যেকোনো থানায় বাস, কার বা মাইক্রোবাসের আনুমানিক ভাড়া মুহূর্তেই জেনে নিন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া বাস ভাড়া কত ২০২৬ সালে?
নন-এসি বাসে সাধারণত প্রতি সিট ৳৫০০ থেকে ৳৬৫০ এবং এসি বাসে ৳৮০০ থেকে ৳১,২০০ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। কোম্পানি ও মৌসুম অনুযায়ী এই ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া কত কিলোমিটার?
পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দূরত্ব প্রায় ২১২ কিলোমিটার। যাত্রা শুরুর স্থান ও ব্যবহৃত রুট অনুযায়ী এই দূরত্ব সামান্য কমবেশি হতে পারে।
বাসে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যেতে কত সময় লাগে?
স্বাভাবিক অবস্থায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। মাওয়া অংশে যানজট থাকলে এই সময় কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, বিশেষত ছুটির দিনে।
ঢাকায় কোন কাউন্টার থেকে কুষ্টিয়াগামী বাস পাওয়া যায়?
প্রধানত গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে বেশিরভাগ কোম্পানির বাস ছাড়ে, কিছু কোম্পানির কাউন্টার সায়েদাবাদেও রয়েছে।
এসি না নন-এসি — কোনটা বেছে নেওয়া ভালো?
গরমের সময় বা রাতের দীর্ঘ যাত্রায় আরামের জন্য এসি বাস ভালো, আর বাজেট সীমিত রাখতে চাইলে নন-এসি বাস যথেষ্ট আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী বিকল্প।

শেষ কথা

ঢাকা টু কুষ্টিয়া বাস ভাড়া নিয়ে এখন আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য আছে — ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচি, কোম্পানি ও কাউন্টার। একা বা অল্প সংখ্যক যাত্রী হলে বাসই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম, আর পরিবার বা দলগতভাবে গেলে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া করাই বেশি আরামদায়ক হতে পারে। বুকিং বা রুট সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন