ঢাকা টু কুড়িগ্রাম বাস ভাড়া বাসের ধরন ও সার্ভিসভেদে সাধারণত ৭০০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সড়কপথে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম জেলার দূরত্ব প্রায় ৩৩৯ কিলোমিটার, যা বাসে পাড়ি দিতে সময় লাগে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। এই গাইডে পাবেন হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, নন-এসি ও এসি বাসের পার্থক্য, কাউন্টার নম্বর, সময়সূচী এবং কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত তথ্য।
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব কত কিলোমিটার
সড়কপথে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম জেলার দূরত্ব প্রায় ৩৩৯ কিলোমিটার। যাত্রাপথ ময়মনসিংহ, বগুড়া ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছায়। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের ওপর নির্ভর করে বাসে সময় লাগে সাধারণত ৯-১০ ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে রেলপথে দূরত্ব আরও বেশি, প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার, এবং সময় লাগে ৯-১০ ঘণ্টা।
ঢাকা টু কুড়িগ্রাম বাস ভাড়া ২০২৬ (নন-এসি ও এসি)
এই রুটে হিনো (Hino), অশোক লেল্যান্ড ও ইসুজু ব্র্যান্ডের বাস চলাচল করে। নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া তুলনামূলক কম, আর এসি সার্ভিসে আরাম বেশি হলেও খরচও কিছুটা বাড়ে।
| পরিবহন | সিট ক্লাস | ভাড়া |
|---|---|---|
| শ্যামলী পরিবহন | নন-এসি ইকোনমি | ৯৫০ ৳ |
| এনা ট্রান্সপোর্ট | নন-এসি ইকোনমি | ৯০০ ৳ |
| নাবিল পরিবহন | নন-এসি ইকোনমি | ৯৫০ ৳ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি ইকোনমি | ৯৫০ ৳ |
| নাবিল পরিবহন | এসি | ৯৫০-১১০০ ৳ |
| এনা ট্রান্সপোর্ট | এসি ইকোনমি | ১১০০ ৳ |
*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাসের বাইরে নিজের সময় অনুযায়ী আরামদায়ক ভ্রমণ চাইলে সরাসরি গাড়ি ভাড়ার হালনাগাদ রেট যাচাই করুন।
বাস ছাড়াও যেভাবে যেতে পারেন
বড় পরিবার বা দল নিয়ে গেলে অনেক সময় প্রাইভেট গাড়িতে যাওয়া বেশি আরামদায়ক ও সময়-সাশ্রয়ী হয়, কারণ নিজের সময়সূচী অনুযায়ী মাঝপথে বিরতি নেওয়া যায়। পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া এবং বড় দলের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস নেওয়া যেতে পারে।
দূরপাল্লার বাস
নির্ধারিত সময়সূচীবাজেট-বান্ধব, তবে নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা ও বিরতি মেনে চলতে হয়।
মাইক্রোবাস (নোয়া/হায়েস)
৭-১১ জনপরিবার বা দলগত ভ্রমণে জায়গা ও সময়ের নিয়ন্ত্রণ দুটোই বেশি।
প্রাইভেট কার
৩-৪ জনএকক বা ছোট পরিবারের জন্য দ্রুত ও আরামদায়ক বিকল্প।
ঢাকা টু কুড়িগ্রাম বাস কাউন্টার নম্বর
যাত্রার আগে টিকিট নিশ্চিত করতে সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর বা সময়সূচী মাঝে মাঝে পরিবর্তিত হতে পারে।
গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ চলাচল করে, তবে দূরপাল্লার রুট হওয়ায় বেশিরভাগ বাস সন্ধ্যা বা রাতে ছাড়াই বেশি জনপ্রিয়।
কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ফুলকুমারসহ ষোলোটি নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের উত্তরের একটি প্রাচীন জনপদ। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮৭৫ সালের ২২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী—এই আটটি থানা নিয়ে কুড়িগ্রাম মহকুমা গঠিত হয়। দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও রাজিবপুর—এই নয়টি উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। কুড়িগ্রাম পৌরসভা গঠিত হয় এর আগেই, ১৯৭২ সালে। রংপুর বিভাগের এই জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী, আর ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া একসময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিটমহল হিসেবে পরিচিত ছিল।
কুড়িগ্রামের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান
চান্দামারী মসজিদ · আনুমানিক ১৫৮৪-১৬৮০ খ্রি.
রাজারহাট উপজেলার মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত মুঘল আমলের এই তিন গম্বুজ ও তিন মিহরাব বিশিষ্ট মসজিদ কুড়িগ্রামের প্রাচীনতম স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর একটি।
ভিতরবন্দ জমিদার বাড়ি (নাওডাঙ্গা)
নাগেশ্বরী উপজেলায় জেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি পরবর্তীতে জমিদার বীরেশ্বর প্রসাদ বক্সীর উদ্যোগে একটি বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়, যা আজ নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত।
শাহী জামে মসজিদ ও চণ্ডী মন্দির
জেলা শহরের প্রাচীন এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলো কুড়িগ্রামের বহু-ধর্মীয় ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।
চিলমারী নদীবন্দর
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই বন্দর একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল।
ধরলা নদী পার্ক
বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদী ধরলার উত্তর-পশ্চিম পাড়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত এই পার্ক স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র।
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ, ঘোষপাড়া
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় শহীদদের স্মরণে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়ায় এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।
বঙ্গ সোনাহাট সেতু
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নে দুধকুমার নদীর ওপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক সেতু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ঢাকা টু কুড়িগ্রাম নন-এসি বাস ভাড়া কত?
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম বাসে যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা টু কুড়িগ্রাম এসি বাসের ভাড়া কত?
কুড়িগ্রাম জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
চান্দামারী মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল?
আজই আপনার গাড়ি বুক করুন
পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।