ঢাকা টু যশোর বাস ভাড়া ২০২৬ — সময়সূচী ও সম্পূর্ণ গাইড
🚌 রুট গাইড ২০২৬

ঢাকা টু যশোর বাস ভাড়া ২০২৬ — এসি, নন-এসি ভাড়া, সময়সূচী ও কাউন্টার তালিকা

গ্রীন লাইন, সোহাগ, হানিফ, ঈগল ও দেশ ট্রাভেলসসহ সব কোম্পানির নন-এসি ও এসি ভাড়া, পদ্মা সেতু হয়ে দূরত্ব ও সময়, কাউন্টার নম্বর — সব একসাথে এই গাইডে।

🗓️ আপডেট: জুলাই ২০২৬ ⏱️ পড়তে ৯ মিনিট ✅ যাচাইকৃত তথ্য
🛣️
~২১০ কিমি
সড়ক দূরত্ব
৫–৭ ঘণ্টা
আনুমানিক সময়
🚌
৳৪৫০–৬০০
নন-এসি ভাড়া
❄️
৳৯০০–১,৬০০
এসি ভাড়া

ঢাকা টু যশোর বাস ভাড়া নিয়ে অনলাইনে বেশিরভাগ তথ্যই পদ্মা সেতু চালুর আগের, যেখানে ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এই গাইডে আমরা ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দূরত্ব, ভাড়া, সময়সূচী, কাউন্টার ঠিকানা এবং টিকিট কাটার নিয়ম এক জায়গায় সাজিয়ে দিয়েছি।

পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে যশোরের সড়ক দূরত্ব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯৩ থেকে ২১০ কিলোমিটার। রুট: ঢাকা → গাজীপুর/যাত্রাবাড়ী → মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে → পদ্মা সেতু → ফরিদপুর → মাগুরা → যশোর। ফেরি পারাপারের ঝামেলা না থাকায় এখন এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে, যেখানে আগে ফেরিসহ ৮–১০ ঘণ্টাও লাগত।

ঢাকা টু যশোর বাস ভাড়া ২০২৬ — দ্রুত তালিকা

ঢাকা থেকে যশোর নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৳৪৫০ থেকে ৳৬০০, এসি রেগুলার ভাড়া ৳৯০০ থেকে ৳১,১০০ এবং এসি এক্সিকিউটিভ/ভলভো বাসের ভাড়া ৳১,১০০ থেকে ৳১,৬০০-এর মধ্যে থাকে। কোম্পানি, আসনের অবস্থান ও মৌসুমভেদে ভাড়া কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।
🚌

নন-এসি বাস

৳৪৫০–৬০০
প্রতি সিট, সাধারণ কোচ
❄️

এসি রেগুলার

৳৯০০–১,১০০
প্রতি সিট, এসি কোচ
💺

এসি এক্সিকিউটিভ / ভলভো

৳১,১০০–১,৬০০
প্রিমিয়াম সার্ভিস, ডাবল ডেকার
⚠️ সতর্কতা: জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তন, ঈদ বা পূজার মৌসুম এবং সাপ্তাহিক ছুটির চাপের কারণে ভাড়া ২০–৩০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চূড়ান্ত ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

কোম্পানিভিত্তিক বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা

ঢাকা থেকে যশোর রুটে প্রতিদিন একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করে। নিচের তালিকায় প্রতিটি কোম্পানির আনুমানিক নন-এসি ও এসি ভাড়া আলাদাভাবে দেওয়া হলো।

বাস কোম্পানি নন-এসি ভাড়া এসি ভাড়া বৈশিষ্ট্য
গ্রীন লাইন পরিবহন৳১,৩০০ (ভলভো)ডাবল ডেকার, প্রিমিয়াম সার্ভিস
সোহাগ পরিবহন৳৪৫০৳৯০০–১,১০০এক্সিকিউটিভ ও রেগুলার এসি
হানিফ এন্টারপ্রাইজ৳৪৫০–৫০০৳৯০০–১,০০০একাধিক ট্রিপ, বহু কাউন্টার
ঈগল পরিবহন৳৪৫০–৫০০৳৯০০–১,০০০নিয়মিত সময়সূচী
দেশ ট্রাভেলস৳৪৫০–৫৫০৳৯০০–১,১০০স্বল্প খরচের নির্ভরযোগ্য সেবা
স্থানীয় বাস (সুন্দরবন ক্লাসিক, মোহনা প্রভৃতি)৳৪৮০–৬০০বেশি স্টপেজ, তুলনামূলক ধীর

💡 মনে রাখবেন: “ঢাকা–যশোর–ঢাকা” রাউন্ড ট্রিপ টিকিট একসাথে কাটলে অনেক কোম্পানি সামান্য ছাড় দেয়। ফেরার টিকিটের সময় আগেই ঠিক করে রাখলে ভিড়ের মৌসুমে সিট না পাওয়ার ঝুঁকি কমে।

রুট ও দূরত্ব — পদ্মা সেতুর আগে ও পরে

পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা থেকে যশোর যেতে আরিচা বা পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে যেতে হতো, যেখানে ফেরির অপেক্ষাসহ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগত। এখন ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর-মাগুরা রুটে সরাসরি যাওয়া যায়, যাতে সময় নেমে এসেছে ৫–৭ ঘণ্টায়।
রুট অংশ দূরত্ব (আনুমানিক)
ঢাকা → মাওয়া (এক্সপ্রেসওয়ে)৩৫ কিমি
মাওয়া → পদ্মা সেতু পার → ভাঙ্গা৬১ কিমি
ভাঙ্গা → ফরিদপুর → মাগুরা~৬০ কিমি
মাগুরা → যশোর~৫০ কিমি
মোট (আনুমানিক)~২০৫–২১০ কিমি

বেশিরভাগ বাস যাত্রাপথে ফরিদপুর বা মাগুরার কোনো হোটেলে ১৫–২০ মিনিটের বিরতি নেয়, যেখানে হালকা নাশতা ও ওয়াশরুম ব্যবহারের সুযোগ থাকে।

ঢাকা থেকে যশোর বাসের সময়সূচী

ঢাকা টু যশোর রুটে বাস প্রায় সারাদিনই ছাড়ে — সকাল ৬টা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ থাকে। যারা দিনের আলোয় পদ্মা সেতুর দৃশ্য উপভোগ করতে চান তারা সকালের বাস, আর রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার সুবিধা চাইলে রাতের বাস বেছে নিতে পারেন।
বাস কোম্পানি ছাড়ার সময় কাউন্টার (ঢাকা)
সোহাগ পরিবহনসকাল ৭:১০ – রাত ১১:০০কল্যাণপুর, আরামবাগ
হানিফ এন্টারপ্রাইজসকাল ৭:১০ – রাত ১০:১০কল্যাণপুর, গাবতলী
গ্রীন লাইন পরিবহনসকাল ৮:০০ – রাত ১১:৩০কল্যাণপুর, আরামবাগ
ঈগল পরিবহনসকাল ৬:৪৫ – রাত ১১:০০গাবতলী, কল্যাণপুর
দেশ ট্রাভেলসদুপুর ১২:০০ – রাত ১০:০০কল্যাণপুর

🕐 কোন সময়ের বাস বেছে নেবেন?

  • সকাল ৬–৮টার বাস: দিনের আলোয় পদ্মা সেতু পার হওয়া যায়, বিকেলের মধ্যেই যশোর পৌঁছানো যায়
  • রাত ৮–১১টার বাস: রাতে ঘুমিয়ে ভোরে বা সকালে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়
  • দুপুরের বাস: ঢাকার যানজট এড়াতে হলে এই সময়ের বাস তুলনামূলক কম সুবিধাজনক

ঢাকায় বাস কাউন্টার কোথায় পাবেন

ঢাকা থেকে যশোরগামী বেশিরভাগ বাস কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে ছাড়ে। কিছু কোম্পানির বাস আরামবাগ থেকেও পাওয়া যায়।

কাউন্টারের অবস্থান কোন বাস পাবেন উপযুক্ত এলাকা
কল্যাণপুরসোহাগ, হানিফ, গ্রীন লাইন, ঈগল, দেশ ট্রাভেলসমোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর
গাবতলীঈগল, হানিফমিরপুর, আমিনবাজার, সাভার
আরামবাগসোহাগ, গ্রীন লাইনমতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান

টিকিট কাটার নিয়ম — অনলাইন ও কাউন্টারে

অনলাইনে টিকিট (সবচেয়ে সহজ)

Shohoz.com অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে অথবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কাটা যায়। এতে পছন্দের সিট আগে থেকেই নিশ্চিত করা যায়।

কাউন্টারে সরাসরি

কল্যাণপুর বা গাবতলীতে সরাসরি গিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। ছুটির মৌসুমে অন্তত ২–৩ দিন আগে টিকিট কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফোনে বুকিং

অনেক কাউন্টারে ফোন করেও সিট বুক করা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট সংগ্রহ না করলে বুকিং বাতিল হয়ে যেতে পারে।

  • যাওয়া-আসার টিকিট একসাথে কাটলে পছন্দের সময় পাওয়া সহজ হয়
  • মাঝামাঝি সারির সিট ঝাঁকুনি কম অনুভব করায়, দীর্ঘ পথে বেশি আরামদায়ক
  • টিকিটে নাম, ফোন নম্বর ও যাত্রার তারিখ সঠিক আছে কি না যাচাই করুন
  • রিফান্ড ও সময় পরিবর্তনের নীতি আগে থেকেই জিজ্ঞেস করে নিন

ঢাকা থেকে যশোর বাসে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

যাত্রার আগে

  • সকালের বাস বেছে নিলে পদ্মা সেতুর দৃশ্য উপভোগ করা যায়: জানালার পাশের সিট নেওয়ার চেষ্টা করুন
  • হালকা লাগেজ নিন: নিচের বক্সে লাগেজ রাখলে অবশ্যই তালা লাগিয়ে নিন
  • পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন: পথে বিরতি থাকলেও সবসময় ভালো মানের খাবার পাওয়া যায় না

পথের অবস্থা

এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু অংশে রাস্তা মসৃণ ও দ্রুতগতির হলেও ফরিদপুর-মাগুরা-যশোর অংশে স্থানীয় যানবাহনের কারণে গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। ঈদ বা বড় ছুটির সময় যাত্রাবাড়ী মোড় ও এক্সপ্রেসওয়ে প্রবেশমুখে যানজট হতে পারে, তাই হাতে বাড়তি সময় রাখা ভালো।

যশোরে পৌঁছে

যশোর শহরের প্রধান বাস টার্মিনালে বাস থামে, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় সহজেই শহরের যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়।

বাস বনাম মাইক্রোবাস/কার — কোনটা আপনার জন্য সঠিক?

🚌 বাস — সেরা যখন

  • একা বা ২–৩ জন যাচ্ছেন
  • বাজেট সবচেয়ে কম রাখতে চান
  • নির্ধারিত সময়সূচী মেনে চলতে পারেন
  • রাতের বাসে ঘুমিয়ে যেতে চান

🚐 মাইক্রোবাস / প্রাইভেট কার — সেরা যখন

  • পরিবার বা দল নিয়ে যাচ্ছেন
  • নিজের পছন্দমতো সময়ে রওনা দিতে চান
  • পথে থামার স্বাধীনতা দরকার
  • ডোর-টু-ডোর সার্ভিস চান

দল বেঁধে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে মাথাপিছু খরচ বাসের কাছাকাছি বা কম পড়তে পারে, সঙ্গে যাত্রাও হয় অনেক বেশি স্বাধীন ও আরামদায়ক। আবার পরিবার নিয়ে ছোট ট্রিপ হলে প্রাইভেট কার ভাড়াও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

আপনার রুটের সঠিক ভাড়া নিজেই যাচাই করুন

যেকোনো থানা থেকে যেকোনো থানার বাস, কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া মুহূর্তেই জেনে নিন — কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা থেকে যশোর বাস ভাড়া কত ২০২৬ সালে?

নন-এসি বাসে সাধারণত প্রতি সিট ৳৪৫০ থেকে ৳৬০০, এসি রেগুলারে ৳৯০০ থেকে ৳১,১০০ এবং এসি এক্সিকিউটিভ বা ভলভো ডাবল ডেকারে ৳১,১০০ থেকে ৳১,৬০০ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়।

ঢাকা থেকে যশোর কত কিলোমিটার?

পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৯৩ থেকে ২১০ কিলোমিটার। ব্যবহৃত রুট ও নির্দিষ্ট গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এই দূরত্ব সামান্য কমবেশি হতে পারে।

বাসে ঢাকা থেকে যশোর যেতে কত সময় লাগে?

পদ্মা সেতু চালুর পর স্বাভাবিক ট্রাফিকে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আগে ফেরি পারাপারসহ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগত। ছুটির মৌসুমে এই সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

ঢাকায় কোন কাউন্টার থেকে যশোরের বাস পাওয়া যায়?

প্রধানত কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে বেশিরভাগ কোম্পানির বাস ছাড়ে। গ্রীন লাইন ও সোহাগ পরিবহনের মতো কিছু কোম্পানির বাস আরামবাগ থেকেও পাওয়া যায়।

এসি নাকি নন-এসি — কোনটা বেছে নেবেন?

বাজেট সীমিত হলে ও গরম সহনীয় হলে নন-এসি যথেষ্ট আরামদায়ক। তবে দীর্ঘ পথে আরাম ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা চাইলে এসি রেগুলার বা এক্সিকিউটিভ বাস বেছে নেওয়াই ভালো।

অনলাইনে ঢাকা থেকে যশোরের বাস টিকিট কীভাবে কাটবো?

Shohoz.com বা সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে রুট, তারিখ ও পছন্দের সিট বেছে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই টিকিট নিশ্চিত হয়।

শেষ কথা

ঢাকা টু যশোর বাস ভাড়া সম্পর্কে এখন আপনার কাছে সব প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য আছে — ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী, কোম্পানি ও কাউন্টার। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুট আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত হয়ে গেছে, তাই একা বা অল্প সংখ্যক যাত্রী হলে বাসই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম।

পরিবার বা দলগতভাবে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া করে নেওয়া বেশি আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী হতে পারে। যেভাবেই যান — যাত্রা হোক নিরাপদ ও নির্ঝঞ্ঝাট।