অনলাইনে টিকিট (সবচেয়ে সহজ)
Shohoz, BusBD বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা যায়। এতে পছন্দের সিট বেছে নেওয়া যায় এবং শেষ মুহূর্তে সিট না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন ও এস আর ট্রাভেলসসহ সব কোম্পানির নন-এসি ও এসি ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী এবং কাউন্টার নম্বর — সব একসাথে এই গাইডে।
ঢাকা টু দিনাজপুর বাস ভাড়া নিয়ে অনলাইনে অনেক পুরনো ও ভুল তথ্য পাওয়া যায়, যার ফলে যাত্রীরা টিকিট কাটার সময় বিভ্রান্ত হন। এই গাইডে আমরা ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দূরত্ব, ভাড়া, সময়সূচী, কাউন্টার ঠিকানা এবং টিকিট কাটার নিয়ম একটি জায়গায় সাজিয়ে দিয়েছি, যাতে যাত্রা শুরুর আগেই আপনি সব হিসাব বুঝে নিতে পারেন।
সড়কপথে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৩৩ কিলোমিটার। ঢাকার গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বঙ্গবন্ধু সেতু, বগুড়া ও পঞ্চগড় মহাসড়ক হয়ে দিনাজপুর পৌঁছাতে সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তার যানজট বা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে এই সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে দিনাজপুর রুটে প্রতিদিন একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করে। নিচের তালিকায় প্রতিটি কোম্পানির আনুমানিক নন-এসি ও এসি ভাড়া আলাদাভাবে দেওয়া হলো।
| বাস কোম্পানি | নন-এসি ভাড়া | এসি ভাড়া | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| নাবিল পরিবহন | ৳৮০০ | ৳১,৩০০–৳১,৫০০ | একাধিক ট্রিপ, জনপ্রিয় রুট |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | ৳৭৫০–৳৮৫০ | ৳১,৩০০ | দেশের বৃহত্তম পরিবহন নেটওয়ার্ক |
| শ্যামলী পরিবহন | ৳৮০০ | ৳১,৪০০ | একাধিক কাউন্টার |
| এস আর ট্রাভেলস | ৳৭৫০–৳৮০০ | ৳১,২০০–৳১,৪০০ | নিয়মিত সার্ভিস |
| এনা ট্রান্সপোর্ট | ৳৮০০ | ৳১,৩০০–৳১,৫০০ | রাতের ট্রিপে জনপ্রিয় |
| আহাদ এন্টারপ্রাইজ | ৳৭৫০–৳৮০০ | — | স্বল্প খরচের বিকল্প |
| বাস কোম্পানি | ছাড়ার সময় | কাউন্টার (ঢাকা) |
|---|---|---|
| নাবিল পরিবহন | বিকাল ৪:০০ – রাত ১১:০০ | গাবতলী, কল্যাণপুর |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | দুপুর ২:০০ – রাত ১১:৩০ | কল্যাণপুর, গাবতলী |
| শ্যামলী পরিবহন | বিকাল ৫:০০ – রাত ১০:৩০ | কল্যাণপুর |
| এস আর ট্রাভেলস | সন্ধ্যা ৬:০০ – রাত ১১:০০ | কল্যাণপুর, মহাখালী |
| এনা ট্রান্সপোর্ট | সন্ধ্যা ৭:০০ – রাত ১১:৩০ | কল্যাণপুর |
🕐 কোন সময়ের বাস বেছে নেবেন?
উত্তরবঙ্গের রুটে অন্যতম জনপ্রিয় ও পুরনো পরিবহন কোম্পানি। ঢাকা থেকে দিনাজপুরে প্রতিদিন একাধিক ট্রিপ পরিচালনা করে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান। একাধিক কাউন্টার ও ঘন ঘন ট্রিপের কারণে সহজে টিকিট পাওয়া যায়।
দেশের পরিচিত ব্র্যান্ড, যাদের কল্যাণপুরসহ একাধিক কাউন্টার থেকে দিনাজপুরগামী বাস পাওয়া যায়।
নিয়মিত সময়সূচী ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ার জন্য পরিচিত একটি বিশ্বস্ত পরিবহন সেবা।
ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী বেশিরভাগ বাস গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে ছাড়ে। কিছু কোম্পানির বাস মহাখালী থেকেও পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছের কাউন্টার বেছে নিলে যাত্রা শুরু করা সহজ হয়।
| কাউন্টারের অবস্থান | কোন বাস পাবেন | উপযুক্ত এলাকা |
|---|---|---|
| গাবতলী | নাবিল, হানিফ | মিরপুর, আমিনবাজার, সাভার |
| কল্যাণপুর | শ্যামলী, হানিফ, এস আর, এনা | মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর |
| মহাখালী | এস আর ট্রাভেলস | গুলশান, বনানী, উত্তরা |
Shohoz, BusBD বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা যায়। এতে পছন্দের সিট বেছে নেওয়া যায় এবং শেষ মুহূর্তে সিট না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
গাবতলী বা কল্যাণপুরে সরাসরি গিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। দূরত্ব বেশি হওয়ায় বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির মৌসুমে অন্তত ৩–৫ দিন আগে টিকিট কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেক কাউন্টারে ফোন করেও সিট বুক করা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট সংগ্রহ না করলে বুকিং বাতিল হয়ে যেতে পারে।
বঙ্গবন্ধু সেতু ও বগুড়া মহাসড়ক পার হওয়ার সময় যানজট থাকলে যাত্রার সময় ১–২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, বিশেষত সাপ্তাহিক ছুটি বা উৎসবের সময়ে। এই কারণে সময়সূচী নির্ধারণের সময় হাতে কিছুটা বাড়তি সময় রাখা উচিত।
দিনাজপুর শহরের প্রধান বাস স্ট্যান্ডে বাস থামে, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় সহজেই শহরের যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়।
দল বেঁধে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে মাথাপিছু খরচ বাসের সমান বা কম পড়তে পারে, সঙ্গে যাত্রাও হয় অনেক বেশি স্বাধীন ও আরামদায়ক।
যেকোনো থানা থেকে যেকোনো থানার বাস, কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া মুহূর্তেই জেনে নিন — কোনো ঝামেলা ছাড়াই।
নন-এসি বাসে সাধারণত প্রতি সিট ৳৭৫০ থেকে ৳৯০০ এবং এসি বাসে ৳১,২০০ থেকে ৳১,৫০০ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। কোম্পানি ও মৌসুম অনুযায়ী এই ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সড়কপথে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৩০ থেকে ৩৩৩ কিলোমিটার। যাত্রা শুরুর স্থান ও ব্যবহৃত রুট অনুযায়ী এই দূরত্ব সামান্য কমবেশি হতে পারে।
স্বাভাবিক অবস্থায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তায় যানজট বা প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে এই সময় আরও বেড়ে যেতে পারে, বিশেষত ঈদ বা উৎসবের মৌসুমে।
প্রধানত গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে বেশিরভাগ কোম্পানির বাস ছাড়ে। এস আর ট্রাভেলসের মতো কিছু কোম্পানির বাস মহাখালী থেকেও পাওয়া যায়।
দূরত্ব বেশি হওয়ায় বিকাল বা রাতের বাসে গেলে যাত্রাপথে ঘুমিয়ে নেওয়া যায় এবং সকালে সতেজ অবস্থায় দিনাজপুর পৌঁছানো যায়, যা দিনের বেলার যাত্রার চেয়ে বেশি সুবিধাজনক।
Shohoz.com বা সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে রুট, তারিখ ও পছন্দের সিট বেছে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেই টিকিট নিশ্চিত হয়।
ঢাকা টু দিনাজপুর বাস ভাড়া সম্পর্কে এখন আপনার কাছে সব প্রয়োজনীয় তথ্য আছে — ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী, কোম্পানি ও কাউন্টার। একা বা অল্প সংখ্যক যাত্রী হলে বাসই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম, আর রাতের বাসে গেলে সময় ও হোটেল খরচ দুটোই বাঁচে।
তবে পরিবার বা দলগতভাবে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস বা পুরো বাস ভাড়া করে নেওয়া বেশি আরামদায়ক ও লাভজনক হতে পারে। যেভাবেই যান — যাত্রা হোক নিরাপদ ও নির্ঝঞ্ঝাট।