🎫 রুট গাইড · ঢাকা থেকে আম-জেলা

ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস ভাড়া: সময়সূচী ও পূর্ণাঙ্গ ভাড়ার তালিকা

এসি ও নন-এসি বাসের সঠিক ভাড়া, সময়সূচী, কাউন্টার নম্বর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থান — সব একসাথে।

হালনাগাদ: ২০২৬ পড়তে সময় লাগবে: প্রায় ১২ মিনিট লেখক: চলো গাড়ি কন্টেন্ট টিম

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দূরত্ব ও যাত্রার সময়

ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস ভাড়া নির্ভর করে মূলত দূরত্ব ও বাসের মানের ওপর। সড়কপথে এই দূরত্ব প্রায় ৩১৪–৩১৬ কিলোমিটার, আর সাধারণ রাস্তার অবস্থায় বাসে পৌঁছাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।

পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যাত্রার সময় আগের ফেরিনির্ভর ব্যবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যানজট, আবহাওয়া বা আম মৌসুমে সড়কে বাড়তি ট্রাকের চাপের কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসের সময়সূচী

এই রুটে দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, চাঁপাই ট্রাভেলস, যমুনা ট্রাভেলস ও একতা ট্রান্সপোর্টসহ একাধিক অপারেটর নিয়মিত বাস চালায়, যাদের বেশিরভাগ বাস গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ছেড়ে যায়।
  • একতা ট্রান্সপোর্ট: গাবতলী থেকে সকাল ৮:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ মিনিটে ছাড়ে।
  • ন্যাশনাল ট্রাভেলস: মহাখালী থেকে সকাল ৮টা, বেলা ২টা ও রাত ১১টায় ছাড়ে।
  • দেশ ট্রাভেলস: গাবতলী থেকে রাত ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাস ছাড়ে।
  • চাঁপাই এক্সপ্রেস: সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৭টা, দুপুর ১টা ও রাত ১০টায় ছাড়ে; উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর থেকেও সার্ভিস আছে।

ঈদ বা অন্য যেকোনো বড় ছুটির সময় অতিরিক্ত স্পেশাল সার্ভিস চালু হয় এবং নিয়মিত সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

এসি বাসের ভাড়ার তালিকা

ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ১,২০০ টাকা বিজনেস ক্লাসে, প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় অপারেটরেই একই রকম।
দেশ ট্রাভেলস
Hyundai · বিজনেস ক্লাস
১২০০টাকা
ন্যাশনাল ট্রাভেলস
Scania · বিজনেস ক্লাস
১২০০টাকা
কেটিসি হানিফ
RM-2 · বিজনেস ক্লাস
১২০০টাকা
গ্রামীণ ট্রাভেলস
Hyundai · বিজনেস ক্লাস
১২০০টাকা

নন-এসি বাসের ভাড়ার তালিকা

কম বাজেটে যাত্রা করতে চাইলে নন-এসি ইকোনমি ক্লাস বাসে ভাড়া ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।
বাসের নামব্র্যান্ডধরনভাড়া (টাকা)
দেশ ট্রাভেলসHinoইকোনমি ক্লাস৮৩০
ন্যাশনাল ট্রাভেলসHinoইকোনমি ক্লাস৮২০
একতা ট্রান্সপোর্টHinoইকোনমি ক্লাস৮২০
গ্রামীণ ট্রাভেলসHinoইকোনমি ক্লাস৮২০
শ্যামলী পরিবহনHinoইকোনমি ক্লাস৮০০
হানিফ এন্টারপ্রাইজHinoইকোনমি ক্লাস৮৫০
চাঁপাই ট্রাভেলসHino/Ashok Leylandইকোনমি ক্লাস৮৩০
যমুনা ট্রাভেলসAshok Leylandইকোনমি ক্লাস৮৩০
উৎসব-ছুটির মৌসুমে (ঈদ, আম মৌসুমের ব্যস্ত সময়) চাহিদা বাড়ার কারণে উপরের ভাড়া সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে হালনাগাদ ভাড়া যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঢাকার কাউন্টার নম্বর

টিকিট নিশ্চিত করতে বা সময়সূচি যাচাই করতে যাত্রার আগে সরাসরি কাউন্টারে ফোন করে নেওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
বাস কোম্পানিকাউন্টারফোন নম্বর
দেশ ট্রাভেলসগাবতলী01762-684433
দেশ ট্রাভেলসআরামবাগ01762-684430
দেশ ট্রাভেলসচাঁপাইনবাবগঞ্জ01762-684401
দেশ ট্রাভেলসরাজশাহী01762-684400
ন্যাশনাল ট্রাভেলসমহাখালী01794-429495
গ্রামীণ ট্রাভেলসকল্যাণপুর (প্রধান)01701-686940
গ্রামীণ ট্রাভেলসমহাখালী01701-686948

একতা ট্রান্সপোর্ট, শ্যামলী পরিবহন, চাঁপাই ট্রাভেলস ও যমুনা ট্রাভেলসের হালনাগাদ নম্বর সরাসরি গাবতলী বা সায়েদাবাদ কাউন্টারে গিয়ে যাচাই করে নেওয়া ভালো, যেহেতু নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়।

যাত্রাপথের রুট

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসগুলো মূলত পদ্মা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাসড়ক ধরে চলাচল করে — ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নাটোর ও রাজশাহী হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।
ঢাকার গাবতলী/মহাখালী/সায়েদাবাদ কাউন্টার থেকে যাত্রা শুরু
পদ্মা সেতু পার হয়ে ফরিদপুর অভিমুখে
রাজবাড়ী হয়ে নাটোরের দিকে যাত্রা
নাটোর থেকে রাজশাহী শহর অতিক্রম
রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে পৌঁছানো

বাসের বিকল্প — প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস কখন ভালো

পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করলে বা নিজের সময়সূচি অনুযায়ী মাঝপথে বিরতি নিতে চাইলে বাসের বদলে প্রাইভেট গাড়ি বা মাইক্রোবাস ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি আরামদায়ক।

২-৪ জনের ছোট দলের জন্য কার ভাড়া আর ৭ জনের বেশি বড় পরিবার বা গ্রুপের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস নেওয়া যায়, যেখানে দরজা থেকে দরজা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং মাঝপথে ইচ্ছেমতো বিরতি নেওয়ার সুযোগ থাকে। যারা ঢাকার এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করতে চান, তাদের জন্য এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার সার্ভিসও রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকাটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের অংশ। মহানন্দা ও পদ্মা নদীর সংযোগস্থলে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে নবাব আলীবর্দী খান এখানে “নওয়াবগঞ্জ” শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে “নবাবগঞ্জ” নামে পরিচিতি পায়।

মহকুমা থেকে জেলা (১৯৮৪) ও নামকরণ (২০০১)

১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রশাসনিক সংস্কারে থানাগুলো উপজেলায় ও মহকুমাগুলো জেলায় রূপান্তরিত হয়। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ নবাবগঞ্জ মহকুমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ঘোষণা করা হয়, আর ২০০১ সালের ১ আগস্ট এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “চাঁপাইনবাবগঞ্জ”।

গৌড় সালতানাতের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

মধ্যযুগে স্বাধীন সুলতানি বাংলার রাজধানী গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে ছিল এই এলাকা। সে কারণেই আজও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে ছড়িয়ে আছে সুলতানি ও মুঘল আমলের একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।

আমের সংস্কৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জ “আমের রাজধানী” হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। ফজলি, ল্যাংড়া, খিরসাপাত (হিমসাগর) সহ বিভিন্ন জাতের আমের বিশাল বাগান এই জেলার অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ।

সীমান্ত-বাণিজ্য ও নদীভিত্তিক জীবনযাত্রা

ভারত সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত-বাণিজ্য। পদ্মা ও মহানন্দা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা কৃষিব্যবস্থা এখনও এই জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের একটি বড় অংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান

বাসে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গেলে ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য ঘুরে দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা আছে — বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুলতানি ও মুঘল আমলের স্থাপনাগুলো।

ছোট সোনা মসজিদ (শিবগঞ্জ)

প্রাচীন গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে পিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ) ওয়ালী মুহম্মদ আলী নির্মাণ করেন। পাথরের টালি ও ১২টি গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ সুলতানি স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন।

তিন গম্বুজ মসজিদ / শাহ নেয়ামতউল্লাহ মসজিদ (শিবগঞ্জ)

শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফিরোজপুরে অবস্থিত মুঘল আমলের এই মসজিদ মধ্যযুগের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গ সুলতান শাহ সুজা নির্মাণ করেছিলেন।

দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা (শিবগঞ্জ)

ছোট সোনা মসজিদের কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনা জোড়ায় একটি দিঘীর দুই পাড়ে মসজিদ ও মাদ্রাসা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যা সুলতানি আমলের শিক্ষা-স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও আম বাগান

শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আম মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগান ও কানসাটের ঐতিহ্যবাহী আমের হাটও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাস ভাড়া কত? +

নন-এসি ইকোনমি ক্লাস বাসে ভাড়া সাধারণত ৮০০–৮৫০ টাকা, আর এসি বিজনেস ক্লাসে প্রায় ১,২০০ টাকা। ঈদ বা ছুটির মৌসুমে ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে কত সময় লাগে? +

পদ্মা সেতু হয়ে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। যানজট বা আম মৌসুমে সড়কে বাড়তি চাপের কারণে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

ঢাকার কোন কোন কাউন্টার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাস পাওয়া যায়? +

গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ এবং উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর এলাকার কাউন্টার থেকে বিভিন্ন অপারেটরের বাস ছাড়ে।

সর্বশেষ বাস কখন ছাড়ে? +

বেশিরভাগ অপারেটরের শেষ বাস রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ছাড়ে, তবে কোম্পানিভেদে সময় সামান্য ভিন্ন হতে পারে।

পরিবার নিয়ে ভ্রমণে বাসের বদলে কী বিকল্প আছে? +

পরিবার বা ছোট গ্রুপের জন্য প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি আরামদায়ক, কারণ সময়সূচি নিজের হাতে থাকে এবং দরজা থেকে দরজা সার্ভিস পাওয়া যায়।

বাসের বদলে আরামদায়ক প্রাইভেট যাত্রা চাইলে

পুলিশ ভেরিফাইড চালক, ফিক্সড রেট ও ২৪/৭ সাপোর্ট নিয়ে চলো গাড়ি প্রস্তুত আপনার যাত্রার জন্য।

© ২০২৬ Chologari.com — সব তথ্য প্রকাশের সময় যাচাই করে হালনাগাদ করা হয়েছে।