ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া ২০২৬ — সম্পূর্ণ ভাড়া তালিকা ও গাইড
🌿 রুট গাইড ২০২৬

ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া ২০২৬ — সম্পূর্ণ ভাড়া তালিকা, সময়সূচী ও কাউন্টার গাইড

সোহাগ, হানিফ, দোলা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসসহ সব কোম্পানির ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী ও কাউন্টার নম্বর — সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজের শহরে যাওয়ার আগে যা জানা দরকার।

🕌 ষাটগম্বুজ মসজিদ 🐅 সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার 🌊 পদ্মা সেতু হয়ে সহজ যাত্রা
🛣️
~২১৫ কিমি
সড়ক দূরত্ব
~৫ ঘণ্টা
আনুমানিক সময়
🚌
৳৪০০–৬০০
নন-এসি ভাড়া
🕒
১৫+ ট্রিপ
প্রতিদিন

ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া নিয়ে খোঁজ করা যাত্রীদের একটা বড় অংশ বিভ্রান্ত হন দূরত্বের ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দেখে — কোথাও লেখা থাকে ২১৫ কিলোমিটার, আবার কোথাও ৩৭০ কিলোমিটার। এর কারণ হলো রুট। এই গাইডে আমরা কোন রুটে কত দূরত্ব ও কেন তা ভিন্ন হয়, তার পাশাপাশি ২০২৬ সালের হালনাগাদ ভাড়া, সময়সূচী ও কাউন্টার তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।

বর্তমানে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর রুটে ঢাকা থেকে বাগেরহাটের সড়ক দূরত্ব প্রায় ২১৫ কিলোমিটার, আর এই পথে বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। পুরনো কিছু সরকারি চার্ট বা ডিরেক্টরিতে যে ৩৫০–৩৭০ কিলোমিটার দেখা যায়, তা পদ্মা সেতুর আগে ফরিদপুর-আরিচা ফেরিপথের হিসাব — এখন প্রায় সব বাস কোম্পানিই পদ্মা সেতুর সংক্ষিপ্ত রুট ব্যবহার করে।

ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া ২০২৬ — দ্রুত তালিকা

বাগেরহাট রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই নন-এসি ইকোনমি সার্ভিস। এসি বাসের সরাসরি বিকল্প সীমিত, তবে অনেকেই খুলনাগামী এসি বাসে গিয়ে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে বাগেরহাট পৌঁছান।

🚌

ইকোনমি নন-এসি

৳৪০০–৪৫০
সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন হুন্ডাই
🚍

স্ট্যান্ডার্ড নন-এসি

৳৪৫০–৫০০
সোহাগ, হানিফ, দোলা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস
💺

প্রিমিয়াম নন-এসি

৳৫০০–৬০০
সাকুরা, গোল্ডেন লাইন, দিগন্ত
⚠️ সতর্কতা: জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তন, ঈদ বা পূজার মৌসুমে ভাড়া ২০–৩০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে বা অনলাইনে চূড়ান্ত ভাড়া নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

কোম্পানিভিত্তিক ভাড়ার সম্পূর্ণ তালিকা

ঢাকা থেকে বাগেরহাট রুটে ১৫টির বেশি বাস কোম্পানি নিয়মিত চলাচল করে। নিচে প্রতিটি কোম্পানির হালনাগাদ নন-এসি ভাড়া দেওয়া হলো।

সৌদিয়া পরিবহন ৳৪০০
সেন্টমার্টিন হুন্ডাই ৳৪৩০
সোহাগ পরিবহন ৳৪৫০
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ৳৪৫০
এমাদ এন্টারপ্রাইজ ৳৪৫০
বনফুল পরিবহন ৳৪৫০
দোলা পরিবহন ৳৪৫০
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৳৪৫০
পর্যটক পরিবহন ৳৪৫০
ঈশান পরিবহন ৳৪৫০
হামিম পরিবহন ৳৪৫০
আরা পরিবহন ৳৪৫০
এ কে ট্রাভেলস ৳৪৫০
হানিফ এন্টারপ্রাইজ ৳৫০০
সাকুরা পরিবহন ৳৫০০
গোল্ডেন লাইন ৳৫০০
দিগন্ত পরিবহন ৳৪৫০–৬০০

💡 মনে রাখবেন: বেশিরভাগ কোম্পানির ভাড়া ৳৪৫০-এর কাছাকাছি, তাই সময়সূচী ও কাউন্টারের অবস্থান দেখেই বাস বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত, শুধু সবচেয়ে কম ভাড়ার পেছনে না ছুটে।

সময়সূচী — কোন টার্মিনাল থেকে কখন বাস ছাড়ে

ঢাকা টু বাগেরহাট রুটের বাস দুটি প্রধান টার্মিনাল থেকে ছাড়ে — সায়েদাবাদ ও গাবতলী। সায়েদাবাদ থেকে সকাল ৬:৩০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত এবং গাবতলী থেকে সকাল ৮:৩০ থেকে রাত ১১:০০ পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ পাওয়া যায়।

টার্মিনাল

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল
  • মেঘনা পরিবহন
  • বনফুল পরিবহন
  • দোলা পরিবহন
  • পর্যটক পরিবহন
  • এমাদ এন্টারপ্রাইজ

টার্মিনাল

গাবতলী বাস টার্মিনাল
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ
  • সোহাগ পরিবহন
  • সাকুরা পরিবহন
  • সুন্দরবন এক্সপ্রেস
  • গোল্ডেন লাইন

এছাড়া ফকিরাপুল, শ্যামলী, মালিবাগ ও মতিঝিল এলাকার কিছু কাউন্টার থেকেও এই রুটের বাসের টিকিট পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছের টার্মিনাল বেছে নিলে যাত্রা শুরু করা সহজ হয়।

রুট ও যাত্রাপথ

বেশিরভাগ বাস ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর হয়ে বাগেরহাট পৌঁছায়। এই রুট ব্যবহার করার ফলে যাত্রার সময় অনেকটাই কমে এসেছে এবং সেতুর টোল ছাড়া অন্য কোনো বাড়তি অপেক্ষা নেই।
রুট অংশদূরত্ব (আনুমানিক)
ঢাকা → মাওয়া (এক্সপ্রেসওয়ে)৩৫ কিমি
মাওয়া → পদ্মা সেতু পার → ভাঙ্গা৬১ কিমি
ভাঙ্গা → মুকসুদপুর → গোপালগঞ্জ~৫০ কিমি
গোপালগঞ্জ → পিরোজপুর → বাগেরহাট~৭০ কিমি
মোট (আনুমানিক)~২১৫ কিমি

টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে

Shohoz.com-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে রুট ও তারিখ বেছে সরাসরি সিট বুক করা যায়।

কাউন্টারে সরাসরি

সায়েদাবাদ বা গাবতলীতে গিয়ে টিকিট কাটা যায়, ছুটির মৌসুমে অন্তত ২–৩ দিন আগে কাটাই ভালো।

ফোনে বুকিং

অনেক কাউন্টারে ফোনেও সিট বুক করা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ না করলে বুকিং বাতিল হতে পারে।

যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

যাত্রার আগে

  • সকালের বাস বেছে নিলে দিনের আলোয় পদ্মা সেতু পার হওয়া যায় এবং বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়
  • হালকা লাগেজ নিন, নিচের বক্সে রাখা লাগেজে অবশ্যই তালা দিন
  • পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন, পথে বিরতি থাকলেও খাবারের মান সবসময় ভালো না-ও হতে পারে

পথের অবস্থা

পদ্মা সেতু অংশে রাস্তা মসৃণ হলেও গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর-বাগেরহাট অংশে স্থানীয় যানবাহনের কারণে গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। ঈদ বা বড় ছুটির সময় যাত্রাবাড়ী মোড়ে যানজট হতে পারে, তাই হাতে বাড়তি সময় রাখা ভালো।

বাগেরহাটে পৌঁছে

বাগেরহাট শহরের বাস স্ট্যান্ডে বাস থামে, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় ষাটগম্বুজ মসজিদ বা মোংলা বন্দরের দিকে সহজেই যাওয়া যায়। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য মোংলা থেকে ট্রলার বা লঞ্চে যেতে হবে।

বাস বনাম মাইক্রোবাস — দল বেঁধে গেলে কোনটা ভালো?

🚌 বাস — সেরা যখন

  • একা বা ২–৩ জন যাচ্ছেন
  • বাজেট সবচেয়ে কম রাখতে চান
  • নির্ধারিত সময়সূচী মেনে চলতে পারেন

🚐 মাইক্রোবাস — সেরা যখন

  • পরিবার বা দল নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে যাচ্ছেন
  • মোংলা পর্যন্ত সরাসরি (ডোর-টু-ডোর) যেতে চান
  • নিজের সময়সূচী অনুযায়ী থামতে চান

সুন্দরবন ভ্রমণে পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়ে গেলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে ঢাকা থেকে সরাসরি মোংলা ঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়, মাঝপথে ষাটগম্বুজ মসজিদেও থামা যায় — বাসে যা সম্ভব নয়।

আপনার রুটের সঠিক ভাড়া নিজেই যাচাই করুন

যেকোনো থানা থেকে যেকোনো থানার বাস, কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া মুহূর্তেই জেনে নিন — কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা থেকে বাগেরহাট বাস ভাড়া কত ২০২৬ সালে?

নন-এসি বাসে সাধারণত প্রতি সিট ৳৪০০ থেকে ৳৬০০ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়, বেশিরভাগ কোম্পানির ভাড়া ৳৪৫০-এর কাছাকাছি। কোম্পানি ও মৌসুম অনুযায়ী এই ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

ঢাকা থেকে বাগেরহাট কত কিলোমিটার?

পদ্মা সেতু হয়ে বর্তমান সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২১৫ কিলোমিটার। কিছু পুরনো ডিরেক্টরি বা চার্টে ৩৫০–৩৭০ কিলোমিটার দেখা যায়, যা পদ্মা সেতুর আগের ফরিদপুর-আরিচা ফেরিপথের হিসাব — বর্তমানে প্রায় সব বাসই পদ্মা সেতুর ছোট রুট ব্যবহার করে।

বাসে ঢাকা থেকে বাগেরহাট যেতে কত সময় লাগে?

পদ্মা সেতু হয়ে স্বাভাবিক ট্রাফিকে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার ভেতরের যানজট বা ছুটির মৌসুমে এই সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

ঢাকায় কোন টার্মিনাল থেকে বাগেরহাটের বাস পাওয়া যায়?

প্রধানত সায়েদাবাদ ও গাবতলী টার্মিনাল থেকে বেশিরভাগ কোম্পানির বাস ছাড়ে। এছাড়া ফকিরাপুল, শ্যামলী ও মতিঝিল এলাকার কিছু কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যায়।

ঢাকা টু বাগেরহাট রুটে কি এসি বাস আছে?

এই রুটে সরাসরি এসি বাস সীমিত; বেশিরভাগ কোম্পানিই নন-এসি ইকোনমি সার্ভিস দেয়। আরাম চাইলে ঢাকা টু খুলনা এসি বাসে গিয়ে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে বাগেরহাট যাওয়া একটি বিকল্প।

বাগেরহাট থেকে সুন্দরবন যেতে হলে কী করতে হবে?

বাগেরহাট শহর থেকে মোংলা পোর্টে যেতে হবে, সেখান থেকে ট্রলার বা লঞ্চে সুন্দরবনের করমজল বা অন্যান্য স্পটে যাওয়া যায়। দলবদ্ধভাবে গেলে মাইক্রোবাসে সরাসরি মোংলা পর্যন্ত যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

শেষ কথা

ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া সম্পর্কে এখন আপনার কাছে সব হালনাগাদ তথ্য আছে — ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী, কোম্পানি ও কাউন্টার। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুট আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে, তাই একা বা অল্প সংখ্যক যাত্রী হলে বাসই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম।

সুন্দরবন বা ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে পরিবার বা দল নিয়ে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নেওয়া বেশি আরামদায়ক ও নমনীয় হতে পারে। যেভাবেই যান — যাত্রা হোক নিরাপদ ও স্মরণীয়।