🚌 উত্তরের পথে যাত্রা · ২০২৬

ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস ভাড়া — নন-এসি, এসি ও সম্পূর্ণ গাইড

ব্রহ্মপুত্র আর তিস্তা নদীবেষ্টিত গাইবান্ধা যাচ্ছেন? দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। কোন বাসে ভাড়া কেমন, কোথা থেকে ছাড়ে, কাউন্টার নম্বর কী — পুরো পরিকল্পনা একসাথে।

~২৬৫ কিমিদূরত্ব
৬-৭ ঘণ্টাবাসে যাত্রা
৬৫০-১২০০ ৳বাস ভাড়া
৭ উপজেলাগাইবান্ধা জেলা

ঢাকা → গাইবান্ধা রুট ম্যাপ

ঢাকা
শুরু
ময়মনসিংহ
~১২০ কিমি
বগুড়া
~২১০ কিমি
গোবিন্দগঞ্জ
~২৪০ কিমি
গাইবান্ধা
~২৬৫ কিমি

ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস ভাড়া বাসের ধরন ও সার্ভিসভেদে সাধারণত ৬৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। সড়কপথে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা জেলার দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার, যা বাসে পাড়ি দিতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা। এই গাইডে পাবেন হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা, নন-এসি ও এসি বাসের পার্থক্য, কাউন্টার নম্বর, সময়সূচী এবং গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানসমূহের বিস্তারিত তথ্য।

দূরত্ব ও সময়

ঢাকা থেকে গাইবান্ধার দূরত্ব কত কিলোমিটার

সড়কপথে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। যাত্রাপথ ময়মনসিংহ, বগুড়া ও গোবিন্দগঞ্জ হয়ে গাইবান্ধা শহরে পৌঁছায়। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের ওপর নির্ভর করে বাসে সময় লাগে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টা।

ভাড়ার তালিকা

ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস ভাড়া ২০২৬ (নন-এসি ও এসি)

এই রুটে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আর ট্রাভেলস, আলহামরা পরিবহন ও আরাফাত পরিবহনের বাস চলাচল করে। নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া তুলনামূলক কম, আর এসি বিজনেস ক্লাস বা স্লিপার সার্ভিসে আরাম বেশি হলেও খরচও কিছুটা বাড়ে।

পরিবহনসিট ক্লাসভাড়া
এস আর ট্রাভেলসনন-এসি ইকোনমি৬৫০ ৳
শ্যামলী পরিবহননন-এসি ইকোনমি৭০০ ৳
হানিফ এন্টারপ্রাইজনন-এসি ইকোনমি৭০০ ৳
এস আর ট্রাভেলসএসি বিজনেস ক্লাস১০০০ ৳
আরাফাত পরিবহনএসি স্লিপার১১০০ ৳
আলহামরা পরিবহনএসি বিজনেস ক্লাস১২০০ ৳

*ভাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

বাসের বাইরে নিজের সময় অনুযায়ী আরামদায়ক ভ্রমণ চাইলে সরাসরি গাড়ি ভাড়ার হালনাগাদ রেট যাচাই করুন।

কাউন্টার তথ্য

ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস কাউন্টার নম্বর

যাত্রার আগে টিকিট নিশ্চিত করতে সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর বা সময়সূচী মাঝে মাঝে পরিবর্তিত হতে পারে।

শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস

গাইবান্ধা কাউন্টার: ০১৮৬৫-০৬৮৯৫৯
গাবতলী-৩ কাউন্টার (ঢাকা): ০১৮৬৫-০৬৮৯২৫
গাবতলী এন এস কাউন্টার (ঢাকা): ০১৮৬৫-০৬৮৯২৪
কল্যাণপুর-১ ও ২ কাউন্টার (ঢাকা): ০২-৮০৯১১৬১
আসাদ গেইট কাউন্টার (ঢাকা): ০১৭১৪-৬১৯১৭৩
টেকনিক্যাল কাউন্টার (ঢাকা): ০১৮৬৫-০৬৮৯২২

এস আর ট্রাভেলস

গাইবান্ধা পৌর বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার: ০১৭৩২-৬৭৮০৭১
গাইবান্ধা গ্যানাস মার্কেট, ডি.বি রোড কাউন্টার: ০১৭১২-৫৭৯৫৪৫
পলাশবাড়ী কাউন্টার (গাইবান্ধা): ০১৭১০-৯০৫৫৯২
গোবিন্দগঞ্জ কাউন্টার (গাইবান্ধা): ০১৭১২-২৬০০৬৩

হানিফ এন্টারপ্রাইজ

সায়েদাবাদ কাউন্টার (ঢাকা): ০১৭১৩-২০১৭৩২
কল্যাণপুর কাউন্টার (ঢাকা): ০১৭১৩-০৪৯৫৭৩
কলাবাগান কাউন্টার (ঢাকা): ০১৭১৩-২০১৭২৭
গাবতলী কাউন্টার (ঢাকা): ০১৭১৩-২০১৭১৬

নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রার আগে কাউন্টারে ফোন করে নেওয়া ভালো, কারণ নম্বর মাঝেমধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।

গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে। শোহজ ডটকম বা বিডিটিকেটসের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও টিকিট বুক করা যায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রিপ চলাচল করে, তবে দূরপাল্লার রুট হওয়ায় সন্ধ্যা বা রাতের বাসই বেশি জনপ্রিয়।

বিকল্প উপায়

বাস ছাড়াও যেভাবে যেতে পারেন

বড় পরিবার বা দল নিয়ে গেলে অনেক সময় প্রাইভেট গাড়িতে যাওয়া বেশি আরামদায়ক ও সময়-সাশ্রয়ী হয়, কারণ নিজের সময়সূচী অনুযায়ী মাঝপথে বিরতি নেওয়া যায়। নিচের ভাড়াগুলো আনুমানিক ও নির্দেশক মাত্র; প্রকৃত রেট গাড়ির মডেল ও মৌসুমভেদে কমবেশি হতে পারে।

🚗

প্রাইভেট কার

৩-৪ জন

আনুমানিক ৫,৫০০-৮,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

একক বা ছোট পরিবারের জন্য দ্রুত ও আরামদায়ক বিকল্প।

দলগত ভ্রমণে জনপ্রিয়
🚐

মাইক্রোবাস (নোয়া/হায়েস)

৭-১১ জন

আনুমানিক ৮,৫০০-১২,৫০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

পরিবার বা দলগত ভ্রমণে জায়গা ও সময়ের নিয়ন্ত্রণ দুটোই বেশি।

🚌

কোস্টার/মিনিবাস

২৫-৩২ জন

আনুমানিক ১৮,০০০-২৫,০০০ ৳ (ওয়ান-ওয়ে)

বড় দল, পিকনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য উপযুক্ত।

🚚

পিকআপ/কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক)

মালামাল পরিবহন

আনুমানিক ৯,০০০-১৬,০০০ ৳ (সাইজভেদে)

মালামাল বা আসবাবপত্র শিফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত।

পরিবার বা ছোট দলের জন্য প্রাইভেট কার ভাড়া, গ্রুপ ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া সার্ভিস, বড় দলের জন্য বাস ভাড়া সার্ভিস, আর মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া সার্ভিসও রয়েছে।

ইতিহাস

গাইবান্ধা জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

জনশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিরাট রাজার রাজধানী ছিল, যাঁর প্রায় ষাট হাজার গাভী বাঁধার স্থান থেকেই “গাইবান্ধা” নামটি এসেছে বলে কিংবদন্তি প্রচলিত। প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৮৫৮ সালের ২৭ আগস্ট বৃহত্তর রংপুর জেলার অধীনে “ভবানীগঞ্জ” নামে একটি মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৭৫ সালে ভবানীগঞ্জ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেলে মহকুমা সদর ঘাঘট নদীর তীরবর্তী গাইবান্ধায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গাইবান্ধা মহকুমা। ১৯২৩ সালে শহরটি পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়, আর দীর্ঘ মহকুমা যুগ পেরিয়ে ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই জেলা ইতিহাসের বিভিন্ন সময় মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল বলে জানা যায়, আর ১৯২১ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও ১৯৪৬ সালের তেভাগা আন্দোলনেও এই জনপদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল।

দর্শনীয় স্থান

গাইবান্ধার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান

মীরের বাগান মসজিদ, খাগোয়া · ১৩০৮ হিজরি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খাগোয়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ জেলার প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে সংরক্ষিত।

বলাশী ঘাট

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পাড়ে অবস্থিত এই ঘাট প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত এবং গাইবান্ধার অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।

বর্ধণকুঠি (নীলকুঠি), গোবিন্দগঞ্জ

ব্রিটিশ আমলের এই পুরনো নীলকুঠির জায়গায় ১৯৬৫ সালে গড়ে তোলা হয় গোবিন্দগঞ্জ কলেজ, যা ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে।

হযরত শাহ জামাল (রঃ)-এর মাজার শরীফ, সাদুল্লাপুর

সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুরে অবস্থিত এই মাজার গাইবান্ধার অন্যতম প্রধান ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থান, পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক জামালপুর শাহী মসজিদ।

ভবানীগঞ্জ ডাকঘর · ১৮৫৮

জেলার আদি মহকুমা সদর ভবানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত এই ডাকঘর ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

রাজবাড়ি (বিরাট রাজার প্রাসাদ), গোবিন্দগঞ্জ

কিংবদন্তির বিরাট রাজার নামে পরিচিত এই প্রাচীন স্থাপনা গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় · ১৯১৬

সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়, যা জেলার শিক্ষা-ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা টু গাইবান্ধা নন-এসি বাস ভাড়া কত?
নন-এসি ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া সাধারণত ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে, কোম্পানিভেদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
ঢাকা থেকে গাইবান্ধার দূরত্ব কত কিলোমিটার?
সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে গাইবান্ধা বাসে যেতে কত সময় লাগে?
রাস্তার অবস্থা ও যানজটের ওপর নির্ভর করে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
ঢাকা টু গাইবান্ধা এসি বাসের ভাড়া কত?
এসি বিজনেস ক্লাস বা স্লিপার সার্ভিসের ভাড়া সাধারণত ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে হয়, এস আর ট্রাভেলস, আরাফাত ও আলহামরা পরিবহনে এই সার্ভিস পাওয়া যায়।
ঢাকা টু গাইবান্ধা বাস কোথা থেকে ছাড়ে?
গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এই রুটের অধিকাংশ বাস ছাড়ে।
গাইবান্ধা জেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৮৫৮ সালে ভবানীগঞ্জ নামে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরুর পর, ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়।

আজই আপনার গাড়ি বুক করুন

পুলিশ ভেরিফাইড চালকসহ কার, মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রাক — ফিক্সড রেটে, ৬৪ জেলায়।

যাত্রা নির্ভরযোগ্য হোক — চলো গাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে