ঢাকা টু নীলফামারী বাস ভাড়া নির্ভর করে বাসের ধরন — এসি স্ক্যানিয়া, এসি বিজনেস ক্লাস বা নন-এসি ইকোনমি কোচের ওপর। নাবিল পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফসহ এই রুটে চলাচলকারী সব পরিবহনের ভাড়া, সময়সূচী ও কাউন্টার নাম্বার এই গাইডে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
উত্তরবঙ্গের এই জেলা ঢাকা থেকে তুলনামূলক দূরে, তবে সরাসরি মহাসড়ক থাকায় বাস যাত্রা এখন অনেকটাই নির্বিঘ্ন।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ধরে পাগলাপীর ও সৈয়দপুর হয়ে নীলফামারী পৌঁছাতে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৩৯৪ কিলোমিটার।
স্বাভাবিক ট্রাফিকে বাসে পৌঁছাতে ৭-৯ ঘণ্টা লাগে; মহাসড়কে যানজট থাকলে বা ঈদের মৌসুমে সময় আরও বাড়তে পারে।
ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক ধরে পাগলাপীর হয়ে সৈয়দপুর, এরপর নীলফামারী — অনেক বাস আরও এগিয়ে ডোমার ও দেবীগঞ্জ পর্যন্ত যায়।
গাবতলী ও মাজার রোডের কাউন্টার থেকে সবচেয়ে বেশি বাস ছাড়ে; মহাখালী, এয়ারপোর্ট ও আব্দুল্লাহপুর থেকেও টিকিট পাওয়া যায়।
দূরত্ব বেশি হওয়ায় নন-এসি ইকোনমি থেকে এসি স্লিপার — সব ধরনের বাসই এই রুটে চলাচল করে।
| পরিবহন | বাসের ধরন | ভাড়া |
|---|---|---|
| ৪৬ এক্সপ্রেস | স্লিপার ক্লাস (অশোক লেল্যান্ড) | ৳১,৭০০ |
| নাবিল পরিবহন | এসি স্ক্যানিয়া বিজনেস ক্লাস | ৳১,৬৫০ |
| সেন্টমার্টিন সী ভিউ এক্সপ্রেস | এসি বিজনেস ক্লাস | ৳১,৫০০ |
| এস আর ট্রাভেলস | এসি বিজনেস ক্লাস (ইসুজু) | ৳১,২০০ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | নন-এসি ইকোনমি (হিনো) | ৳৯৫০ |
| নাবিল পরিবহন | নন-এসি ইকোনমি (হিনো) | ৳৯৫০ |
| দোয়েল ক্লাসিক | নন-এসি ইকোনমি (হিনো) | ৳৯০০ |
| শ্যামলী পরিবহন | নন-এসি ইকোনমি (হিনো) | ৳৯০০ |
| এস আর ট্রাভেলস | নন-এসি ইকোনমি (ইসুজু) | ৳৮৫০ |
| নিউ ঢাকা এক্সপ্রেস | নন-এসি ইকোনমি (হিনো) | ৳৭৫০ |
গাবতলী ও মাজার রোডের পাশাপাশি মহাখালী টার্মিনাল থেকেও নীলফামারীগামী বাস ছাড়ে।
| সময় | পরিবহন | রুট |
|---|---|---|
| সকাল ৬:০০ | নাদের পরিবহন | ঢাকা → সৈয়দপুর → নীলফামারী |
| সকাল ৮:১০ | নাবিল পরিবহন | ঢাকা → সৈয়দপুর → নীলফামারী → ডোমার → দেবীগঞ্জ |
| রাত ৭:৩০ | নাবিল পরিবহন | ঢাকা → সৈয়দপুর → নীলফামারী → দেবীগঞ্জ |
| পরিবহন | যোগাযোগ নাম্বার | কাউন্টার |
|---|---|---|
| নাবিল পরিবহন | ০১৭১২-২০৪১৮৭ | নীলফামারী কাউন্টার (হেড অফিস: মাজার রোড, গাবতলী) |
| এস আর ট্রাভেলস | ০২-৮০১১২২২ | গাবতলী বাস টার্মিনাল |
| এস আর ট্রাভেলস | ০২-৮০১৩৭৯৩ / ০১৭১১-৩৯৪৮০১ | কল্যাণপুর কাউন্টার |
| এস আর ট্রাভেলস | ০১৭১১-৯৪৪০২৩ | আব্দুল্লাহপুর কাউন্টার |
পাবলিক বাস সাশ্রয়ী, কিন্তু ৭-৯ ঘণ্টার লম্বা পথে নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে চলতে হয় এবং ভাগাভাগি যাত্রায় আরাম কম। পরিবার, অফিস গ্রুপ বা টাইট শিডিউলের যাত্রায় প্রাইভেট গাড়ি বা মাইক্রোবাস অনেক বেশি সুবিধাজনক।
বাসের সময়সূচীর জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
বাস কাউন্টার পর্যন্ত যাওয়ার ঝামেলা নেই।
অপরিচিত যাত্রীদের সাথে সিট শেয়ার করতে হয় না।
জেলার একাধিক দর্শনীয় স্থান একই ট্রিপে ঘুরে আসা যায়।
৭+ জনের গ্রুপে মাইক্রোবাস মাথাপিছু খরচ কমিয়ে দেয়।
বুকিংয়ের আগেই সম্পূর্ণ ভাড়া জানিয়ে দেওয়া হয়।
নীলফামারী নামটি এসেছে “নীল খামারী” শব্দ থেকে। দুই শতাধিক বছর আগে ইংরেজ নীলকরেরা এই অঞ্চলের উর্বর জমিতে ব্যাপক নীল চাষের খামার গড়ে তোলে — উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ ও টেঙ্গনমারীতে একাধিক নীলকুঠি স্থাপিত হয়। স্থানীয় কৃষকদের মুখে “নীল খামার” ধীরে ধীরে “নীল খামারী”-তে রূপান্তরিত হয়ে অবশেষে নীলফামারী নামের জন্ম দেয়। ১৮৭৫ সালে নীলফামারী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়, আর ১৯৮৪ সালে রংপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এটি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়। রংপুর বিভাগের এই জেলা আজ কৃষি, রেলওয়ে ঐতিহ্য ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের এক অনন্য মিশ্রণ।
নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছে ছিল এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নীলকুঠি — জেলার নামকরণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই স্থাপনা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নীলফামারী সদরের অদূরে অবস্থিত বিশাল এই দিঘি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি, প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমান এখানে।
তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই সেচ প্রকল্প উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবেও পরিচিত।
নীলফামারী সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুরে চীনামাটির উজ্জ্বল টুকরা দিয়ে সজ্জিত চিনি মসজিদ এবং ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা অবস্থিত।
বাসের ধরনের ওপর নির্ভর করে ভাড়া ভিন্ন হয়। নন-এসি ইকোনমি কোচে ৳৭৫০-৯৫০, এসি বিজনেস ক্লাসে ৳১,২০০-১,৫০০ এবং এসি স্ক্যানিয়া বা স্লিপার কোচে ৳১,৬৫০-১,৭০০ পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে। যাত্রার আগে কাউন্টারে কল করে সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করে নেওয়া ভালো।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ধরে পাগলাপীর ও সৈয়দপুর হয়ে নীলফামারী পৌঁছাতে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৩৯৪ কিলোমিটার।
স্বাভাবিক ট্রাফিকে বাসে প্রায় ৭-৯ ঘণ্টা সময় লাগে। মহাসড়কে যানজট থাকলে বা ঈদের মৌসুমে সময় আরও বাড়তে পারে।
গাবতলী ও মাজার রোডের কাউন্টার থেকে সবচেয়ে বেশি বাস ছাড়ে। এছাড়া মহাখালী, এয়ারপোর্ট ও উত্তরা আব্দুল্লাহপুর থেকেও প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়মিত বাস পাওয়া যায়।
পরিবার, অফিস গ্রুপ বা নির্দিষ্ট সময়সূচীতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রাইভেট মাইক্রোবাস বেশি সুবিধাজনক — নিজের সময়ে যাত্রা, দরজা থেকে দরজা সার্ভিস এবং নীলসাগর বা তিস্তা ব্যারাজ ঘোরার সুযোগও থাকে। এখানে ভাড়া দেখুন।
ফিক্সড রেট, পুলিশ ভেরিফাইড চালক ও ২৪/৭ সাপোর্ট — এক কলেই বুকিং নিশ্চিত করুন।
📞 01314976408 নম্বরে কল করুন