ঢাকা টু নেত্রকোনা গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে আপনি কোন বাহনে যাচ্ছেন তার ওপর — বাস, রিজার্ভ প্রাইভেট কার নাকি মাইক্রোবাস। ময়মনসিংহ হয়ে প্রায় ১৮০ কিলোমিটারের এই পথে ভাড়া, সময়সূচী, কাউন্টার নাম্বার আর হাওর-পাহাড়ের জেলা নেত্রকোনার ইতিহাস — সবকিছু এক জায়গায়।
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার মূল পথ একটাই — ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ময়মনসিংহ পার হয়ে গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা সদর। নিচের রুট-লাইনে দূরত্বের হিসেব দেখে নিন।
যাত্রা শুরুর মূল পয়েন্ট। বেশিরভাগ বাস মহাখালী থেকে ছাড়ে, রিজার্ভ কার উত্তরা বা যেকোনো পয়েন্ট থেকে পিকআপ নেয়।
পথের সবচেয়ে বড় শহর ও বিরতিস্থল। এখান থেকে গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনার পথ শুরু হয়।
নেত্রকোনার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এলাকা, একাধিক পরিবহনের কাউন্টার এখানেও আছে।
যাত্রার গন্তব্য। এখান থেকেই দুর্গাপুর, বিরিশিরি ও হাওর অঞ্চলের দিকে সংযোগ পাওয়া যায়।
বাহনভেদে ভাড়ার পার্থক্য অনেক। নিচে বাস, রিজার্ভ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের আনুমানিক ভাড়া তুলনা করে দেখানো হলো।
নেত্রকোনা রুটে চলাচলকারী প্রতিটি পরিবহনের কাউন্টার নাম্বার নিচে দেওয়া হলো, যাতে টিকিট নিশ্চিত করতে আলাদা করে খুঁজতে না হয়।
বাসের নির্দিষ্ট সময়সূচীর সাথে নিজের পরিকল্পনা মেলাতে না চাইলে রিজার্ভ কার বা মাইক্রোবাসই সবচেয়ে ভালো সমাধান। দরজায় পিকআপ, নিজের সময়ে যাত্রাবিরতি আর ফেরার পথে দুর্গাপুর-বিরিশিরি ঘুরে আসার সুযোগ — সবটাই বাসে সম্ভব নয়।
জনশ্রুতি আছে, নেত্রকোনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মগরা নদীর বাঁক চোখের বা নেত্রের কোণের মতো দেখতে বলে এই জায়গার নাম হয়েছে নেত্রকোনা। কেউ কেউ মনে করেন, মগরা ও কংস নদী পরিবেষ্টিত এই জেলা দেখতে চোখ বা নেত্রের মতো বলেই এমন নামকরণ হয়েছে।
পাকিস্তান আমলে নেত্রকোণা মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার দাবি ওঠে, আর সে লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে কেন্দুয়ায় জেলা সদর স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণও করা হয়েছিল, যদিও সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোণা মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হয় এবং ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন জেলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এখনকার দুর্গাপুর উপজেলা একসময় ছিল সুসং রাজ্যের রাজধানী। সোমেশ্বর পাঠক থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী বংশধররা প্রায় ৬৬৭ বছর ধরে এই রাজ্য শাসন করেন, যতক্ষণ না রাজকৃষ্ণ নামের এক রাজার আমলে রাজপরিবারে বিরোধের জেরে রাজ্যটি চারটি পৃথক রাজবাড়িতে ভাগ হয়ে যায়। বাংলা ১৩০৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জমিদার বাড়িটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলে বংশধররা তা পুনরায় নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই রাজবাড়ির একাংশ সরকারি দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হাওর, গারো পাহাড় আর নদীর জেলা নেত্রকোনায় প্রকৃতি আর ইতিহাস মিলেমিশে আছে একসাথে। ভ্রমণের ফাঁকে দেখে নিতে পারেন এই স্থানগুলো।
দুর্গাপুর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মিশনটি ১৮৯৯ সালে ফাদার লুইস বুলার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পাহাড়ের চূড়া থেকে বিরিশিরির প্রাকৃতিক দৃশ্য এখান থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
সোমেশ্বর পাঠকের বংশধরদের তৈরি এই রাজবাড়ি একসময় ছিল গোটা সুসং রাজ্যের কেন্দ্র। বর্তমানে এর কিছু অংশ বিচার বিভাগীয় কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নীল জলাশয় আর সাদা মাটির পাহাড়ের অপূর্ব মিশ্রণে গড়া এই স্থান দুর্গাপুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর একটি। ২০২১ সালে এই এলাকার সাদা মাটি জিআই স্বীকৃতি পায়।
গারো, হাজং ও কোচ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমী স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা কাছ থেকে জানার একটি চমৎকার সুযোগ করে দেয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওর দেশের বৃহত্তম হাওরগুলোর একটি, আর বিরিশিরির কাছের ঐতিহ্যবাহী কমলা রাণী দিঘী স্থানীয় লোককথার সাথে জড়িয়ে আছে।
রিজার্ভ প্রাইভেট কারে আনুমানিক ৪৫০০-৬০০০ টাকা এবং মাইক্রোবাসে ৭০০০-৯০০০ টাকা লাগতে পারে। বাসে সিটপ্রতি ভাড়া পড়ে ৩৫০-৪০০ টাকার মধ্যে।
ময়মনসিংহ হয়ে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার, আর গাড়িতে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
হযরত শাহজালাল এক্সপ্রেস, ইকরাম পরিবহন, শাহ সুলতান পরিবহন, ভাটি বাংলা এক্সপ্রেস ও বিআরটিসি এই রুটে নিয়মিত চলাচল করে।
নিজের সময়সূচীতে ও আরামে ভ্রমণ করতে চাইলে রিজার্ভ কার বা মাইক্রোবাস ভালো সমাধান। বাজেট কম রাখতে চাইলে বাস বেশি সাশ্রয়ী।
নেত্রকোনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা মগরা নদীর বাঁক দেখতে চোখের কোণের মতো বলে এই নামকরণ হয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে।
সোমেশ্বর পাঠকের বংশধররা এই জমিদার বাড়ি তৈরি করেছিলেন, যাঁরা প্রায় ৬৬৭ বছর ধরে সুসং রাজ্য শাসন করেছেন।
ফিক্সড ভাড়া, যাচাইকৃত চালক — এক কলেই ব্যবস্থা।