অনলাইনে
Shohoz.com-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে রুট ও তারিখ বেছে সরাসরি সিট বুক করা যায়।
সোহাগ, হানিফ, দোলা, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসসহ সব কোম্পানির ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী ও কাউন্টার নম্বর — সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজের শহরে যাওয়ার আগে যা জানা দরকার।
ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া নিয়ে খোঁজ করা যাত্রীদের একটা বড় অংশ বিভ্রান্ত হন দূরত্বের ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দেখে — কোথাও লেখা থাকে ২১৫ কিলোমিটার, আবার কোথাও ৩৭০ কিলোমিটার। এর কারণ হলো রুট। এই গাইডে আমরা কোন রুটে কত দূরত্ব ও কেন তা ভিন্ন হয়, তার পাশাপাশি ২০২৬ সালের হালনাগাদ ভাড়া, সময়সূচী ও কাউন্টার তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।
বাগেরহাট রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসই নন-এসি ইকোনমি সার্ভিস। এসি বাসের সরাসরি বিকল্প সীমিত, তবে অনেকেই খুলনাগামী এসি বাসে গিয়ে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে বাগেরহাট পৌঁছান।
ঢাকা থেকে বাগেরহাট রুটে ১৫টির বেশি বাস কোম্পানি নিয়মিত চলাচল করে। নিচে প্রতিটি কোম্পানির হালনাগাদ নন-এসি ভাড়া দেওয়া হলো।
💡 মনে রাখবেন: বেশিরভাগ কোম্পানির ভাড়া ৳৪৫০-এর কাছাকাছি, তাই সময়সূচী ও কাউন্টারের অবস্থান দেখেই বাস বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত, শুধু সবচেয়ে কম ভাড়ার পেছনে না ছুটে।
এছাড়া ফকিরাপুল, শ্যামলী, মালিবাগ ও মতিঝিল এলাকার কিছু কাউন্টার থেকেও এই রুটের বাসের টিকিট পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছের টার্মিনাল বেছে নিলে যাত্রা শুরু করা সহজ হয়।
| রুট অংশ | দূরত্ব (আনুমানিক) |
|---|---|
| ঢাকা → মাওয়া (এক্সপ্রেসওয়ে) | ৩৫ কিমি |
| মাওয়া → পদ্মা সেতু পার → ভাঙ্গা | ৬১ কিমি |
| ভাঙ্গা → মুকসুদপুর → গোপালগঞ্জ | ~৫০ কিমি |
| গোপালগঞ্জ → পিরোজপুর → বাগেরহাট | ~৭০ কিমি |
| মোট (আনুমানিক) | ~২১৫ কিমি |
Shohoz.com-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে রুট ও তারিখ বেছে সরাসরি সিট বুক করা যায়।
সায়েদাবাদ বা গাবতলীতে গিয়ে টিকিট কাটা যায়, ছুটির মৌসুমে অন্তত ২–৩ দিন আগে কাটাই ভালো।
অনেক কাউন্টারে ফোনেও সিট বুক করা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ না করলে বুকিং বাতিল হতে পারে।
পদ্মা সেতু অংশে রাস্তা মসৃণ হলেও গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর-বাগেরহাট অংশে স্থানীয় যানবাহনের কারণে গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। ঈদ বা বড় ছুটির সময় যাত্রাবাড়ী মোড়ে যানজট হতে পারে, তাই হাতে বাড়তি সময় রাখা ভালো।
বাগেরহাট শহরের বাস স্ট্যান্ডে বাস থামে, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় ষাটগম্বুজ মসজিদ বা মোংলা বন্দরের দিকে সহজেই যাওয়া যায়। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য মোংলা থেকে ট্রলার বা লঞ্চে যেতে হবে।
সুন্দরবন ভ্রমণে পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়ে গেলে মাইক্রোবাস ভাড়া নিলে ঢাকা থেকে সরাসরি মোংলা ঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়, মাঝপথে ষাটগম্বুজ মসজিদেও থামা যায় — বাসে যা সম্ভব নয়।
যেকোনো থানা থেকে যেকোনো থানার বাস, কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া মুহূর্তেই জেনে নিন — কোনো ঝামেলা ছাড়াই।
নন-এসি বাসে সাধারণত প্রতি সিট ৳৪০০ থেকে ৳৬০০ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়, বেশিরভাগ কোম্পানির ভাড়া ৳৪৫০-এর কাছাকাছি। কোম্পানি ও মৌসুম অনুযায়ী এই ভাড়া কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
পদ্মা সেতু হয়ে বর্তমান সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২১৫ কিলোমিটার। কিছু পুরনো ডিরেক্টরি বা চার্টে ৩৫০–৩৭০ কিলোমিটার দেখা যায়, যা পদ্মা সেতুর আগের ফরিদপুর-আরিচা ফেরিপথের হিসাব — বর্তমানে প্রায় সব বাসই পদ্মা সেতুর ছোট রুট ব্যবহার করে।
পদ্মা সেতু হয়ে স্বাভাবিক ট্রাফিকে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার ভেতরের যানজট বা ছুটির মৌসুমে এই সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
প্রধানত সায়েদাবাদ ও গাবতলী টার্মিনাল থেকে বেশিরভাগ কোম্পানির বাস ছাড়ে। এছাড়া ফকিরাপুল, শ্যামলী ও মতিঝিল এলাকার কিছু কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যায়।
এই রুটে সরাসরি এসি বাস সীমিত; বেশিরভাগ কোম্পানিই নন-এসি ইকোনমি সার্ভিস দেয়। আরাম চাইলে ঢাকা টু খুলনা এসি বাসে গিয়ে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে বাগেরহাট যাওয়া একটি বিকল্প।
বাগেরহাট শহর থেকে মোংলা পোর্টে যেতে হবে, সেখান থেকে ট্রলার বা লঞ্চে সুন্দরবনের করমজল বা অন্যান্য স্পটে যাওয়া যায়। দলবদ্ধভাবে গেলে মাইক্রোবাসে সরাসরি মোংলা পর্যন্ত যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।
ঢাকা টু বাগেরহাট বাস ভাড়া সম্পর্কে এখন আপনার কাছে সব হালনাগাদ তথ্য আছে — ভাড়া, দূরত্ব, সময়সূচী, কোম্পানি ও কাউন্টার। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুট আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে, তাই একা বা অল্প সংখ্যক যাত্রী হলে বাসই সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম।
সুন্দরবন বা ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে পরিবার বা দল নিয়ে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে নেওয়া বেশি আরামদায়ক ও নমনীয় হতে পারে। যেভাবেই যান — যাত্রা হোক নিরাপদ ও স্মরণীয়।