দ্রুত উত্তর

ঢাকা টু চট্টগ্রাম বাস ভাড়া Non-AC বাসে ৪৫০–৬৫০ টাকা, AC বাসে ৯০০–১,২০০ টাকা এবং ভলভো বা হাই-গ্রেড কোচে ১,২০০–১,৫০০ টাকা। গ্রীনলাইন, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ এবং এনা পরিবহন এই রুটের জনপ্রিয় সার্ভিস।

ঢাকা টু চট্টগ্রাম বাস ভাড়া: কোম্পানি অনুযায়ী তালিকা ২০২৬

ঢাকা টু চট্টগ্রাম বাস ভাড়া নিয়ে সঠিক তথ্য না থাকলে অনেক সময় বেশি ভাড়ায় টিকিট কাটতে হয় বা ভালো সার্ভিস মিস হয়ে যায়। নিচে ২০২৬ সালের আপডেটেড ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।

পরিবহন কোম্পানি বাসের ধরন ভাড়া (টাকা) যাত্রার সময় বিশেষত্ব
গ্রীনলাইন পরিবহন ভলভো AC ১,২০০–১,৫০০ ৳ ৪.৫–৫ ঘণ্টা প্রিমিয়াম
সৌদিয়া পরিবহন AC কোচ ১,০০০–১,২০০ ৳ ৫–৫.৫ ঘণ্টা জনপ্রিয়
শ্যামলী পরিবহন AC / Non-AC ৬৫০–১,০০০ ৳ ৫–৬ ঘণ্টা সাশ্রয়ী
হানিফ এন্টারপ্রাইজ AC / Non-AC ৫৫০–১,০০০ ৳ ৫–৬ ঘণ্টা সাশ্রয়ী
এনা পরিবহন AC কোচ ৯০০–১,১০০ ৳ ৫–৫.৫ ঘণ্টা আরামদায়ক
ইউনিক সার্ভিস Non-AC ৪৫০–৬০০ ৳ ৫.৫–৭ ঘণ্টা বাজেট
এস আলম পরিবহন AC / Non-AC ৫৫০–১,০০০ ৳ ৫–৬ ঘণ্টা সাশ্রয়ী
রয়েল কোচ AC স্লিপার ১,৩০০–১,৫০০ ৳ ৫–৫.৫ ঘণ্টা স্লিপার কোচ
দ্রষ্টব্য: উপরের ভাড়া সাধারণ মৌসুমের জন্য। ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটিতে ভাড়া ৩০–৫০% পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং আগে থেকে টিকিট শেষ হয়ে যেতে পারে।

বাসের ধরন অনুযায়ী ভাড়া ও সুবিধার তুলনা

সব যাত্রীর চাহিদা এক নয়। বাজেট, আরাম এবং যাত্রার সময় — তিনটির ভিত্তিতে সেরা বাস বেছে নিন।

🚌

Non-AC বাস

৪৫০–৬৫০ ৳ / জনপ্রতি

সবচেয়ে কম খরচ। গরমের মৌসুমে অস্বস্তিকর হতে পারে। বাজেট যাত্রীদের জন্য।

সবচেয়ে চাহিদা
🚌

AC কোচ

৯০০–১,২০০ ৳ / জনপ্রতি

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, রিক্লাইনিং সিট, দ্রুততর যাত্রা। পরিবার ও ব্যবসায়িক যাত্রার জন্য উপযুক্ত।

ভলভো / স্লিপার কোচ

১,২০০–১,৫০০ ৳ / জনপ্রতি

সর্বোচ্চ আরাম, ফ্ল্যাট সিট বা স্লিপার, পরিষ্কার পরিবেশ। রাতের যাত্রায় আদর্শ।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাস ছাড়ার সময়সূচি

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সারা দিনরাত বাস চলে। তবে নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট সময়েই বাস ছাড়ে, তাই সময়মতো কাউন্টারে পৌঁছানো জরুরি।

কোম্পানি ঢাকা ছাড়ার সময় কাউন্টার বাসের ধরন
গ্রীনলাইন সকাল ৭টা, ১০টা, দুপুর ১টা, রাত ১০টা, ১১টা আরামবাগ, ফকিরাপুল ভলভো AC
সৌদিয়া সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা (প্রতি ঘণ্টায়) কল্যাণপুর, আরামবাগ AC কোচ
শ্যামলী সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা কল্যাণপুর, শ্যামলী AC / Non-AC
হানিফ সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা সায়েদাবাদ, গাবতলী AC / Non-AC
রয়েল কোচ রাত ১০টা, ১১টা, ১২টা আরামবাগ স্লিপার কোচ
এনা পরিবহন সকাল ৭টা, ৯টা, দুপুর ২টা, রাত ১০টা ফকিরাপুল, মতিঝিল AC কোচ
টিপ: রাতের বাসে (রাত ১০টা–১২টা) গেলে ঢাকার ট্র্যাফিক এড়ানো যায় এবং ভোরে চট্টগ্রাম পৌঁছানো যায়। ভলভো বা স্লিপার কোচে রাতের যাত্রা তুলনামূলক আরামদায়ক।

কোন বাস কোম্পানি সবচেয়ে ভালো?

শুধু ভাড়া দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সার্ভিসের মান, সময় মেনে চলা এবং যাত্রীর নিরাপত্তা — এই বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোম্পানি সময়মতো চলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা AC কার্যকারিতা উপযুক্ত যাত্রী
গ্রীনলাইন সেরা উচ্চ শক্তিশালী কর্পোরেট, পরিবার
সৌদিয়া ভালো ভালো ভালো পরিবার, একক যাত্রী
রয়েল কোচ ভালো উচ্চ শক্তিশালী রাতের যাত্রা
শ্যামলী মাঝারি মাঝারি মাঝারি বাজেট যাত্রী
হানিফ মাঝারি মাঝারি মাঝারি বাজেট যাত্রী

ঢাকায় বাস কাউন্টার কোথায়?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাস মূলত তিনটি এলাকা থেকে ছাড়ে। কোন এলাকা থেকে উঠবেন তা আগে ঠিক করলে সময় ও যানজট দুটোই বাঁচে।

  • আরামবাগ / ফকিরাপুল (মতিঝিল এলাকা): গ্রীনলাইন, সৌদিয়া, এনা পরিবহনের প্রধান কাউন্টার এখানে। মিরপুর ও উত্তরার যাত্রীদের জন্য একটু দূর।
  • কল্যাণপুর / শ্যামলী: শ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া, হানিফের কাউন্টার। মিরপুর, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।
  • সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল: হানিফ, এস আলম সহ বেশিরভাগ Non-AC বাস এখান থেকে ছাড়ে। দক্ষিণ ঢাকার যাত্রীদের জন্য কাছের।

অনলাইনে বাস টিকিট কীভাবে কাটবেন?

এখন আর কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। অনলাইনে টিকিট কাটলে সিট বেছে নেওয়া যায় এবং ভিড়ের ঝামেলা নেই।

জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

  • Shohoz (shohoz.com): সবচেয়ে বেশি কোম্পানির টিকিট পাওয়া যায়। bKash, Nagad, কার্ড সব পেমেন্ট চলে।
  • RedBus (redbus.in/bd): গ্রীনলাইন ও বড় কোম্পানির AC বাসের টিকিট পাওয়া যায়।
  • Bdtickets (bdtickets.com): সৌদিয়া সহ বেশ কিছু কোম্পানির টিকিট আছে।
  • কোম্পানির নিজস্ব অ্যাপ: গ্রীনলাইনের নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কাটা যায়।
সতর্কতা: অনলাইনে টিকিট কাটলে সার্ভিস চার্জ ১০–৫০ টাকা বাড়তে পারে। তবে ঈদ বা ছুটির মৌসুমে আগে থেকে টিকিট নিশ্চিত করতে অনলাইনই সেরা উপায়।

বাস ভাড়া ও গ্রুপ ট্রিপ: কোনটা বেশি সাশ্রয়ী?

একা বা দুজন গেলে বাস সবচেয়ে সস্তা। কিন্তু ৫ জনের বেশি হলে হিসাব অন্যরকম হয়ে যায়।

যাত্রী সংখ্যা AC বাস (মোট) মাইক্রোবাস (মোট) সুবিধাজনক বিকল্প
১–২ জন ৯০০–২,৪০০ ৳ ৭,৫০০+ ৳ বাস
৩–৪ জন ২,৭০০–৪,৮০০ ৳ ৭,৫০০+ ৳ বাস
৫–৬ জন ৪,৫০০–৭,২০০ ৳ ৭,৫০০–৮,৫০০ ৳ প্রায় সমান
৭–১১ জন ৬,৩০০–১৩,২০০ ৳ ৮,৫০০–১০,০০০ ৳ মাইক্রোবাস

৭ জনের বেশি হলে মাইক্রোবাস রেন্টাল বাসের চেয়ে সাশ্রয়ী হয় — এবং ডোর-টু-ডোর সুবিধাও পাওয়া যায়।

বাস টিকিট কাটার আগে যে ৫টি বিষয় জানা জরুরি

  • AC সত্যিই কাজ করে কিনা: কিছু পুরনো বাসের AC ঠিকমতো চলে না। গ্রীনলাইন বা সৌদিয়ার মতো নামকরা কোম্পানি বেছে নিন।
  • কাউন্টার বনাম অনলাইন ভাড়া: অনলাইনে সার্ভিস চার্জ থাকলেও সিট বাছাইয়ের সুবিধা আছে।
  • রিফান্ড পলিসি: যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে ক্যান্সেল করলে সাধারণত ৭০–৮০% ফেরত পাওয়া যায়।
  • লাগেজের সীমা: বেশিরভাগ বাসে মাথার উপর বা নিচের ট্রেতে লাগেজ রাখা যায়। বড় ট্রাঙ্ক হলে আগে জানান।
  • বিরতির স্থান: ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সাধারণত কুমিল্লায় ১৫–২০ মিনিটের বিরতি হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বাসে কত সময় লাগে?
AC বাসে সাধারণত ৪.৫–৫.৫ ঘণ্টা এবং Non-AC বাসে ৫.৫–৭ ঘণ্টা লাগে। ট্র্যাফিক ভালো থাকলে রাতের বাসে ৪ ঘণ্টায়ও পৌঁছানো সম্ভব। ঈদের সময় ৮–১২ ঘণ্টাও লাগতে পারে।
গ্রীনলাইন বাসের ভাড়া কত?
গ্রীনলাইনের ভলভো AC বাসের ভাড়া ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। এটি এই রুটের সবচেয়ে প্রিমিয়াম সার্ভিসগুলোর একটি। অনলাইনে বা আরামবাগ-ফকিরাপুল কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যায়।
ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম বাস টিকিট কবে থেকে পাওয়া যায়?
ঈদের ৭–১০ দিন আগে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয় এবং দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অনলাইনে বা কাউন্টারে যত আগে সম্ভব বুক করুন। ঈদের ২–৩ দিন আগের টিকিট সবচেয়ে আগে শেষ হয়।
রাতের বাসে একা মহিলা যাত্রা কতটা নিরাপদ?
গ্রীনলাইন, সৌদিয়া বা রয়েল কোচের মতো নামকরা সার্ভিসে রাতের যাত্রা তুলনামূলক নিরাপদ। সামনের দিকে বা মাঝের সিট নেওয়া ভালো। পরিচিত প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কাটুন।
Non-AC বাসে কি ভ্রমণ করা যায় গরমকালে?
মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গরমের মৌসুমে Non-AC বাসে দীর্ঘ যাত্রা বেশ কষ্টকর হতে পারে। এই সময়ে AC বাস বেছে নেওয়াই ভালো, বিশেষত শিশু বা বয়স্কদের সাথে ভ্রমণ করলে।
বাস মিস হলে কি ভাড়া ফেরত পাওয়া যাবে?
সাধারণত বাস মিস হলে সেই টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তবে কিছু কোম্পানি পরের বাসে সিট বদলে দেয়। বাসের সময়ের ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছানো নিরাপদ।

বাস রেন্টাল বা গ্রুপ বুকিং দরকার?

পুরো বাস রেন্টাল বা বড় গ্রুপের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।